Ajker Patrika

১৭ জন শিক্ষক, অথচ পাস করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থীও

পাবনা প্রতিনিধি
১৭ জন শিক্ষক, অথচ পাস করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থীও
মাগুরা দাখিল মাদ্রাসায় পাস করেনি একজন শিক্ষার্থীও। ছবি: আজকের পত্রিকা

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার মাগুরা দাখিল মাদ্রাসা থেকে এবার ১৯ শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তবে তাঁদের একজনও কৃতকার্য হয়নি। অথচ এই মাদ্রাসায় কর্মরত আছেন মোট ১৭ জন শিক্ষক। অভিভাবকরা এ ফলাফলের জন্য শিক্ষকদের গাফিলতিকে দায়ী করছেন।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ১৭ জন শিক্ষক ও চারজন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। ২০২৬ সালে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৯ জন শিক্ষার্থী। কিন্তু সবাই ফেল করায় প্রতিষ্ঠানটিতে পাসের হার শূন্য।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাটি ২০০১ সালে এমপিওভুক্ত হয়। তবে এমপিওভুক্ত হওয়ার পরও সেখানে ভবনসংকট রয়েছে এবং পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নেই।

অভিযোগ রয়েছে, মাদ্রাসাটি প্রত্যন্ত চলনবিল অঞ্চলে এবং উপজেলা সদর থেকে ৮/৯ কিলোমিটার দূরে হলেও অনেক শিক্ষক ভাঙ্গুড়ায় বসবাস করেন। এ কারণে তাঁরা নিয়মিত মাদ্রাসায় আসেন না। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এ কারণে সেখানে কাম্যসংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি হয় না এবং দাখিল পরীক্ষার ফলও ধারাবাহিকভাবে খারাপ হচ্ছে।

গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, ‘মাদ্রাসার শিক্ষকরা ঠিকমতো পড়াশোনা করান না। নিয়মিত আসেন না। শুধু বেতন তোলেন। ফলে এলাকার সচেতন অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের এ মাদ্রাসায় দেন না। বিগত ১০ বছর ধরেই মাদ্রাসায় কাম্য শিক্ষার্থী নেই এবং ফলাফল খারাপ।’

মাদ্রাসার সুপার জাকির হোসাইন বলেন, ‘গ্রামের ছেলেপেলে ঠিকমতো পড়ে না। তাই ফলাফল খারাপ হয়েছে। মাফ চাই। নিউজ কইরেন না।’

ভাঙ্গুড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতিকুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ওই মাদ্রাসায় ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত