Ajker Patrika

ফরিদগঞ্জে দিনে-রাতে বিদ্যুৎ ৫ ঘণ্টাও মিলছে না, ১৫ বার বিদ্যুৎ-বিভ্রাট

ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি 
ফরিদগঞ্জে দিনে-রাতে বিদ্যুৎ ৫ ঘণ্টাও মিলছে না, ১৫ বার বিদ্যুৎ-বিভ্রাট

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে বিদ্যুতের ঘাটতি প্রকট আকার ধারণ করেছে। দিনে-রাতে ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ। ১২ থেকে ১৫ বার বিদ্যুৎ-বিভ্রাটে ক্ষতির মুখে পড়েছেন শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, যানবাহনচালক ও কারখানার মালিকেরা। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দাবি, বরাদ্দ না পাওয়া, কার্যালয়ে জনবল ও যানবাহনসংকটের কারণে পর্যাপ্ত গ্রাহকসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

জানা গেছে, চাঁদপুর বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর আওতাধীন ফরিদগঞ্জ উপজেলায় দুটি সাবস্টেশনের আওতায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ৫০০। এর মধ্যে ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসের আওতায় গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার। এখানে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা ২৩ থেকে ২৬ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ মিলছে মাত্র ৭ থেকে ১০ মেগাওয়াট। এ ছাড়া অফিসে জনবল ঘাটতি রয়েছে ১০-১২ জনের। নেই পর্যাপ্ত যানবাহনও।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ-বিভ্রাটে শিশু, শিক্ষার্থী ও বয়োজ্যেষ্ঠরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন পোলট্রি ব্যবসায়ী, মৎস্যচাষি, অটোরিকশা ও রিকশাচালক এবং বিভিন্ন কারখানার মালিকেরা। উপজেলার রূপসা গ্রামের আব্দুল ওহাব মিয়া ও আসাদুজ্জামান বলেন, দিনে-রাতে কতবার বিদ্যুৎ-বিভ্রাট হয়, তার হিসাব নেই। দীর্ঘ সময় পর ২০-২৫ মিনিটের জন্য বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। রাতে গরমে শিশুরা ঠিকমতো ঘুমাতে পারে না।

বড়ালী গ্রামের মনিরুল হক ও আবু জাফর বলেন, ‘আমরা দিনে-রাতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছি। ১২ থেকে ১৫ বার বিদ্যুৎ-বিভ্রাট হয়। গতকাল রোববারও এলাকায় ১৫ বার বিদ্যুৎ-বিভ্রাট হয়েছে। একই গ্রামের অটোরিকশাচালক আমির হোসেন ও সাহাবুদ্দিন বলেন, সারা রাত চার্জে রেখেও গাড়ি চার্জ হয়নি। তাই দিনে গাড়ি চালাতে না পেরে আয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে।’

গাজীপুর গ্রামের আবুল হোসেন বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরমে পরিবার নিয়ে খুব বিপদে আছি। রাতে ঘেমে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। একই অবস্থা গ্রামের প্রায় সব বাড়িতে।’

চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর আওতাধীন ফরিদগঞ্জের কামতা সাবস্টেশনের এজিএম কম শহিদুল ইসলাম জানান, কামতা সাবস্টেশনের আওতায় বিদ্যুতের গ্রাহকসংখ্যা ৫৫ হাজার ৫০০। গড় বিদ্যুৎ চাহিদা ১৩-১৪ মেগাওয়াট। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে গড়ে ৪ থেকে ৫ মেগাওয়াট।

ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসের ম্যানেজার মোবারক হোসেন সরকার বলেন, ‘২৩-২৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৭-১০ মেগাওয়াট। তাই বাধ্য হয়েই বিদ্যুৎ-বিভ্রাট ঘটাতে হচ্ছে। অপ্রয়োজনে বিদ্যুতের ব্যবহার পরিহার এবং বিদ্যুতের বরাদ্দ বাড়লে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।’

মোবারক হোসেন আরও বলেন, ‘আমার কার্যালয়ের আওতায় মাত্র একটি সাবস্টেশন রয়েছে। প্রয়োজন অন্তত আরও দুটি সাবস্টেশন। একটি সাবস্টেশন থাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা লাইনে সমস্যা হলে দূরদূরান্তের গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বন্ধ রাখতে হয়। কেউ যদি সড়কের পাশে জমি দিয়ে সহযোগিতা করে, তাহলে সাবস্টেশন স্থাপন করাটা সহজ হবে। এ ছাড়া এই কার্যালয়েও প্রয়োজনীয় জনবল ঘাটতি ১০-১২ জনের। যানবাহনও পর্যাপ্ত নেই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত