Ajker Patrika

এনটিআরসিএর নিয়োগ বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বেরোবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ

রংপুর প্রতিনিধি
এনটিআরসিএর নিয়োগ বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বেরোবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ
বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

দুর্নীতির আমদানি, নাম তার কমিটি—এমন স্লোগানে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থীরা। আজ সোমবার রাতে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ বন্ধ করে ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে মিছিল ও সমাবেশ করেন তাঁরা। সিদ্ধান্ত বাতিল না হলে আরও কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে বের হওয়া মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়ক ও বিভিন্ন চত্বর প্রদক্ষিণ করে। পরে রাত ৯টার দিকে প্রধান ফটকের সামনে সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বক্তব্য দেন।

এ সময় পুরো ক্যাম্পাস ‘দুর্নীতির আমদানি, নাম তার কমিটি’, ‘নিয়োগে চাই স্বচ্ছতা’, ‘শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রহসন মানি না, মানব না’ এবং ‘কোটা গেছে যে পথে, কমিটি যাবে সেই পথে’—এসব স্লোগানে ক্যাম্পাস মুখর হয়ে ওঠে।

বেরোবির সাবেক সমন্বয়ক সামসুর রহমান সুমন বলেন, ‘২০০৫-০৬ সালের ব্যবস্থায় এনটিআরসিএ শুধু পরীক্ষা নিয়ে সনদ দিত। আমরা দেখেছি, এই সনদ নিয়ে অনার্স পাস, স্নাতক পাস, স্নাতকোত্তর পাস শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানের দ্বারে দ্বারে কমিটির পেছনে টাকা নিয়ে ঘুরেছে, কিন্তু চাকরি হয় নাই। সেই ব্যবস্থা পুনরায় এই সরকার ফিরিয়ে আনতেছে, আমরা এটির তীব্র নিন্দা জানাই। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে এবং ২০১৫ সালের যে পরিপত্র ছিল, তথা এই এনটিআরসি পরীক্ষা নিবে, সনদ দিবে এবং তারাই চাকরির সুপারিশ করবে—এটিকেই বহাল রাখা হোক। নয়তো শিক্ষার্থীরা পুনরায় মাঠে নামতে বাধ্য হবে।’

হুঁশিয়ারি দিয়ে সামসুর রহমান আরও বলেন, এই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় কিন্তু ২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান। কোটাপদ্ধতিকে যেভাবে এই শিক্ষার্থীরা বিতাড়িত করেছেন, সেই একই পদ্ধতিতে কমিটি পদ্ধতিকে বিতাড়িত করবেন। শিক্ষার্থীরা মাঠে থাকবেন, তাঁরা লড়াই করবেন। যতক্ষণ পর্যন্ত এই কমিটি প্রথা বিলুপ্ত করা না হয়েছে, ততক্ষণ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা রাজপথে অবস্থান করবেন।

আরেক শিক্ষার্থী তারেক রহমান বলেন, ‘ম্যানেজিং কমিটির হাতে নিয়োগের ক্ষমতা গেলে চাকরিপ্রার্থীদের অর্থের প্রতিযোগিতায় নামতে হবে। আমরা এভাবে চাকরি পেতে চাই না। কমিটি থাকলে ২০ লাখ টাকা দিয়ে চাকরির প্রতিযোগিতায় নামতে হবে। এই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। না হলে চব্বিশ সালে কোটা নিয়ে যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, কমিটি নিয়েও সেই আন্দোলন গড়ে উঠবে। তাই সরকারকে আহ্বান, এ সিদ্ধান্ত থেকে যেন সরে আসে।’

শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান জানান, এনটিআরসিএ শুধু সনদ দেবে আর ম্যানেজিং কমিটি নিয়োগ দেবে—এমন ব্যবস্থা তাঁরা মানবেন না। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেধার ভিত্তিতে পাস করা শিক্ষার্থীদের আবার স্থানীয় কমিটির কাছে চাকরির জন্য যেতে হবে। এ ব্যবস্থা চালু হলে নিয়োগে অর্থ ও প্রভাবের সুযোগ তৈরি হবে। সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে শিক্ষার্থীরা রাজপথ ছাড়বেন না।

শিক্ষার্থী সানওয়ার হোসেন বলেন, ২০১৫ সালের পর এনটিআরসিএর মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়োগের সুপারিশের ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। এখন আবার কমিটির মাধ্যমে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রহসন করা হবে। ২০২৪ সালের পর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না। সিদ্ধান্ত বাতিল না হলে বেরোবি থেকে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে এবং তাতে সবাইকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘এনটিআরসিএর নিয়োগপ্রক্রিয়া স্বচ্ছ হওয়ায় মেধার ভিত্তিতে চাকরি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। সেই ব্যবস্থা বন্ধ করে ম্যানেজিং কমিটির হাতে নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হলে স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব ও দুর্নীতির সুযোগ বাড়বে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে শিক্ষাব্যবস্থায় যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে। সিদ্ধান্ত বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত