Ajker Patrika

৪ ঘণ্টার প্যারোলে মায়ের জানাজায় আওয়ামী লীগ নেতা

পাবনা প্রতিনিধি
৪ ঘণ্টার প্যারোলে মায়ের জানাজায় আওয়ামী লীগ নেতা
মায়ের জানাজায় অংশ নেন আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম হাসনায়েন রাসেল। ছবি: আজকের পত্রিকা

চার ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নিয়েছেন পাবনা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনের ছেলে ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম হাসনাইন রাসেল। তিনি ভাঙ্গুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক পৌর মেয়র।

আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কঠোর নিরাপত্তায় পুলিশের গাড়িতে করে ভাঙ্গুড়া পৌর সদরের সরদারপাড়া মহল্লার নিজ বাড়িতে পৌঁছান রাসেল। সেখানে তিনি ফ্রিজিং গাড়িতে রাখা মা নুরজাহান রেখার মুখ শেষবারের মতো দেখেন এবং স্বজনদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

পরে তিনি ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে জানাজাস্থলে যান এবং উপস্থিত স্বজন ও এলাকাবাসীর উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন রাসেল।

মৃত মাকে শেষবারের মতো দেখতে নিজ বাড়িতে আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম হাসনায়েন রাসেল। ছবি: আজকের পত্রিকা
মৃত মাকে শেষবারের মতো দেখতে নিজ বাড়িতে আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম হাসনায়েন রাসেল। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাসেল বলেন, ‘আজকে যাঁরা আমার মায়ের জানাজায় হাজির হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যিনি আমার মাকে চেনেন না। আমার মা প্রকৃতপক্ষে একজন গৃহিণী ছিলেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রান্না করে গেছেন। আমাদের বাড়িতে যাঁরা গিয়েছেন, তাঁরা আমার মায়ের হাতের রান্না খাননি—এমন কেউ নেই।’

মায়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়ে তিনি বলেন, ‘একজন মানুষের ভুলত্রুটি থাকা স্বাভাবিক। আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতবাসী করেন এবং তাঁর কবরের সওয়াল-জবাব সহজ করে দেন। আমাদের পরিবারের জন্য আপনারা দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন আমাদের হেফাজত করেন।’

এলাকাবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে রাসেল বলেন, ‘আমাদের পরিবার যদি আপনাদের কাছে কোনো ভুল করে থাকে, তার জন্য করজোড়ে ক্ষমা চাচ্ছি। আপনারা মাফ করে দেবেন।’

জানাজা শেষে পুলিশি পাহারায় রাসেল পারভাঙ্গুড়া কবরস্থানে যান। সেখানে মায়ের কবরে মাটি দেন এবং দোয়ায় অংশ নেন। পরে পুলিশের গাড়িতে করে তাঁকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগে, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাসেলের মা ও পাবনা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনের স্ত্রী নুরজাহান রেখা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনিসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রায় দেড় মাস আগে তাঁকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।

মায়ের জানাজায় অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম হাসনায়েন রাসেল। ছবি: আজকের পত্রিকা
মায়ের জানাজায় অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম হাসনায়েন রাসেল। ছবি: আজকের পত্রিকা

উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই রাতে ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে রাসেল ও তাঁর সহযোগী বশিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ভাঙ্গুড়া থানায় দায়ের করা একটি বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।

মায়ের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন উল্লেখ করে সম্প্রতি আদালতে জামিনের আবেদন করেন রাসেলের আইনজীবী। দীর্ঘ শুনানি শেষে বুধবার পাবনা জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক আফতাবুজ্জামান তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। আদালতের জামিনের আদেশ যথাসময়ে পাবনা জেলা কারাগারে পৌঁছালেও তাঁকে কারামুক্ত করা হয়নি।

এর মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর মা মারা যান। ওই দিনই রাসেলকে আদালতে হাজির করে চাটমোহর থানায় দায়ের করা অন্য একটি মামলায় তাঁকে শোন অ্যারেস্ট দেখায় পুলিশ। ফলে একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর তা কার্যকর হওয়ার আগেই অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোয় তিনি কারাগারেই থেকে যান।

মায়ের জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় একপর্যায়ে আদালতে থাকা অবস্থায় কান্নায় ভেঙে পড়েন রাসেল। পরে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসকের কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়। আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর চার ঘণ্টার জন্য মায়ের জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান তিনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত