হাতিয়ার চর আতাউর
ইসমাইল হোসেন কিরন, হাতিয়া (নোয়াখালী)

শূন্য ভিটার ওপর দাঁড়িয়ে আছে বসতঘরের অবকাঠামো। নেই বেড়া, ছাউনি। বৃষ্টির পানিতে ভিটার মাটি ধুয়ে সমতলে মিশে গেছে অনেক আগে। এসব ঘরে এখন আর মানুষ বসবাস করে না। এমন দৃশ্য নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চর আতাউরের গুচ্ছগ্রামের ঘরগুলোর।
ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারিভাবে নির্মিত এসব ঘরে একসময় ১০০টির মতো পরিবার বসবাস করত। নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে চরের এসব ঘরের ঠাঁই পেয়ে একটু ভালোভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখেছিল পরিবারগুলো। কিন্তু মেরামতের অভাবে ছয় বছরের ব্যবধানে ভূমিহীনদের সেই স্বপ্ন চরেই মিশে গেছে। বাধ্য হয়ে ঘরগুলোর বাসিন্দারা অন্যত্র গিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নেন। তবে যাদের কোথাও যাওয়ার জায়গা হয়নি, এমন ১৪-১৫টি পরিবার এখনো কোনোমতে এই ভাঙাচোরা ঘরেই বসবাস করছে।
জানা গেছে, বিগত সরকার ভূমিহীনের পুনর্বাসনের জন্য হাতিয়ার বিভিন্ন চরে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করে। তমরদ্দি ইউনিয়নের পশ্চিম পাশে চর আতাউরে ১২ একর জায়গায় ‘তরুবীথি’ ও ‘ছায়াবীথি’ নামের দুটি গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করা হয়। ২০১৯ সালের শেষের দিকে এর কাজ শেষ হয়। প্রতিটি গুচ্ছগ্রামে ৫০টি করে এক শ ভূমিহীন পরিবারকে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। প্রতি ৫০ পরিবারের জন্য চারটি গভীর নলকূপ স্থাপন এবং একটি পুকুর খনন করা হয়। এ ছাড়া প্রতিটি পরিবারকে একটি শৌচাগার, রান্নাঘর ও দুটি থাকার কক্ষ বরাদ্দ দেয় উপজেলা প্রশাসন।
লোহার পাতের ওপর টিন দিয়ে নির্মিত এসব ঘর ছয় বছরের মধ্যে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। একাধিকবার ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলো বিধ্বস্ত হয়; যা পরে আর মেরামত করা হয়নি। ফলে পরিবারগুলো বাসস্থান ছাড়তে বাধ্য হয়।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, তরুবীথি গুচ্ছগ্রামের ৩১ নম্বর ঘরে বসবাস করছেন সুমা বেগম। ভাঙাচোরা ঘরের দরজা-জানালা দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা। তাঁদের পূর্ব পাশে থাকা ঘরগুলো ভেঙে গেছে। এসব ভাঙা ঘরে বর্তমানে সাত-আটটি পরিবার বসবাস করছে।
সুমা বেগম জানান, অনেক আগে তাঁর ঘরবাড়ি নদীভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। স্বামী ইটভাটার শ্রমিক। চার সন্তানকে নিয়ে ২০২০ সালের দিকে এই চরে বসবাস শুরু করেন। সরকারিভাবে তাঁদের এই গুচ্ছগ্রামে একটি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু তিন বছর যেতে না যেতে তাঁদের ঘরটি ঝড়ে ভেঙে পড়ে। ঘরের দরজা-জানালা ভেঙে যায়। সেগুলো কোনোমতে দড়ি দিয়ে তা বেঁধে রেখে বসবাস করছেন।
পাশেই ছায়াবীথি গুচ্ছগ্রাম। এখানে ৫০টি পরিবারের মধ্যে বসবাস করছে মাত্র ৭টি। অন্য ঘরগুলোতে দরজা, জানালা, বেড়া—কিছুই নেই। সেগুলোতে কেউ আর বসবাসও করেন না।
ছায়াবীথির ৩৯ নম্বর ঘরে বসবাস করেন নিখি রানী দাস। স্বামী মৌসুমি শ্রমিক। নিখি রানী জানান, পরিবার নিয়ে পাঁচ বছর ধরে এই চরে বসবাস করে আসছেন তিনি। ঘরগুলো নদীর তীরে এবং পাশে কোনো গাছপালা নেই। ফলে সামান্য ঝড়ে এসব ঘর ভেঙে যায়।
নিখি রানী বলেন, ‘এই চরে আসার আগে আমাদের অনেক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে বলা হয়েছিল। ভূমিহীন পরিবারগুলোকে জীবিকার ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু তার কোনোটি করা হয়নি। ঘর ভেঙে পড়লেও সরকারিভাবে মেরামতের কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অনেকে অন্যত্র চলে গেছেন। কোথাও যাওয়ার জায়গা না থাকায় আমরা এখানেই কোনোমতে আছি।
চর আতাউরে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণেরও আগে সেখানে বসবাস করে আসছেন জানিয়ে খোকন মাঝি বলেন বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে এসব ঘর নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করায় অল্প সময়ের মধ্যে এসব ঘর ভেঙে পড়ে। গুচ্ছগ্রাম দুটিতে মানুষের ব্যবহারের জন্য দুটি পুকুর খনন করা হলেও জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়ে তা সমতল হয়ে গেছে।’
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘চর আতাউরে গুচ্ছগ্রাম দুটিতে অনেক অসহায় মানুষ বসবাস করছে। এসব পরিবারকে শীতবস্ত্র, ত্রাণসামগ্রীসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে তাঁদের জন্য একটি পুকুর খননের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু ঘরগুলো মেরামতের জন্য কোনো বরাদ্দ না পাওয়ায় সংস্কার করা সম্ভব হয়নি।’

শূন্য ভিটার ওপর দাঁড়িয়ে আছে বসতঘরের অবকাঠামো। নেই বেড়া, ছাউনি। বৃষ্টির পানিতে ভিটার মাটি ধুয়ে সমতলে মিশে গেছে অনেক আগে। এসব ঘরে এখন আর মানুষ বসবাস করে না। এমন দৃশ্য নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চর আতাউরের গুচ্ছগ্রামের ঘরগুলোর।
ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারিভাবে নির্মিত এসব ঘরে একসময় ১০০টির মতো পরিবার বসবাস করত। নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে চরের এসব ঘরের ঠাঁই পেয়ে একটু ভালোভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখেছিল পরিবারগুলো। কিন্তু মেরামতের অভাবে ছয় বছরের ব্যবধানে ভূমিহীনদের সেই স্বপ্ন চরেই মিশে গেছে। বাধ্য হয়ে ঘরগুলোর বাসিন্দারা অন্যত্র গিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নেন। তবে যাদের কোথাও যাওয়ার জায়গা হয়নি, এমন ১৪-১৫টি পরিবার এখনো কোনোমতে এই ভাঙাচোরা ঘরেই বসবাস করছে।
জানা গেছে, বিগত সরকার ভূমিহীনের পুনর্বাসনের জন্য হাতিয়ার বিভিন্ন চরে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করে। তমরদ্দি ইউনিয়নের পশ্চিম পাশে চর আতাউরে ১২ একর জায়গায় ‘তরুবীথি’ ও ‘ছায়াবীথি’ নামের দুটি গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করা হয়। ২০১৯ সালের শেষের দিকে এর কাজ শেষ হয়। প্রতিটি গুচ্ছগ্রামে ৫০টি করে এক শ ভূমিহীন পরিবারকে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। প্রতি ৫০ পরিবারের জন্য চারটি গভীর নলকূপ স্থাপন এবং একটি পুকুর খনন করা হয়। এ ছাড়া প্রতিটি পরিবারকে একটি শৌচাগার, রান্নাঘর ও দুটি থাকার কক্ষ বরাদ্দ দেয় উপজেলা প্রশাসন।
লোহার পাতের ওপর টিন দিয়ে নির্মিত এসব ঘর ছয় বছরের মধ্যে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। একাধিকবার ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলো বিধ্বস্ত হয়; যা পরে আর মেরামত করা হয়নি। ফলে পরিবারগুলো বাসস্থান ছাড়তে বাধ্য হয়।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, তরুবীথি গুচ্ছগ্রামের ৩১ নম্বর ঘরে বসবাস করছেন সুমা বেগম। ভাঙাচোরা ঘরের দরজা-জানালা দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা। তাঁদের পূর্ব পাশে থাকা ঘরগুলো ভেঙে গেছে। এসব ভাঙা ঘরে বর্তমানে সাত-আটটি পরিবার বসবাস করছে।
সুমা বেগম জানান, অনেক আগে তাঁর ঘরবাড়ি নদীভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। স্বামী ইটভাটার শ্রমিক। চার সন্তানকে নিয়ে ২০২০ সালের দিকে এই চরে বসবাস শুরু করেন। সরকারিভাবে তাঁদের এই গুচ্ছগ্রামে একটি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু তিন বছর যেতে না যেতে তাঁদের ঘরটি ঝড়ে ভেঙে পড়ে। ঘরের দরজা-জানালা ভেঙে যায়। সেগুলো কোনোমতে দড়ি দিয়ে তা বেঁধে রেখে বসবাস করছেন।
পাশেই ছায়াবীথি গুচ্ছগ্রাম। এখানে ৫০টি পরিবারের মধ্যে বসবাস করছে মাত্র ৭টি। অন্য ঘরগুলোতে দরজা, জানালা, বেড়া—কিছুই নেই। সেগুলোতে কেউ আর বসবাসও করেন না।
ছায়াবীথির ৩৯ নম্বর ঘরে বসবাস করেন নিখি রানী দাস। স্বামী মৌসুমি শ্রমিক। নিখি রানী জানান, পরিবার নিয়ে পাঁচ বছর ধরে এই চরে বসবাস করে আসছেন তিনি। ঘরগুলো নদীর তীরে এবং পাশে কোনো গাছপালা নেই। ফলে সামান্য ঝড়ে এসব ঘর ভেঙে যায়।
নিখি রানী বলেন, ‘এই চরে আসার আগে আমাদের অনেক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে বলা হয়েছিল। ভূমিহীন পরিবারগুলোকে জীবিকার ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু তার কোনোটি করা হয়নি। ঘর ভেঙে পড়লেও সরকারিভাবে মেরামতের কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অনেকে অন্যত্র চলে গেছেন। কোথাও যাওয়ার জায়গা না থাকায় আমরা এখানেই কোনোমতে আছি।
চর আতাউরে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণেরও আগে সেখানে বসবাস করে আসছেন জানিয়ে খোকন মাঝি বলেন বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে এসব ঘর নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করায় অল্প সময়ের মধ্যে এসব ঘর ভেঙে পড়ে। গুচ্ছগ্রাম দুটিতে মানুষের ব্যবহারের জন্য দুটি পুকুর খনন করা হলেও জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়ে তা সমতল হয়ে গেছে।’
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘চর আতাউরে গুচ্ছগ্রাম দুটিতে অনেক অসহায় মানুষ বসবাস করছে। এসব পরিবারকে শীতবস্ত্র, ত্রাণসামগ্রীসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে তাঁদের জন্য একটি পুকুর খননের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু ঘরগুলো মেরামতের জন্য কোনো বরাদ্দ না পাওয়ায় সংস্কার করা সম্ভব হয়নি।’

যমুনা রেলসেতু-ঈশ্বরদী রেলপথে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার ঘাটিনা, পাবনার মুলাডুলি ও দিলপাশার এলাকায় একাধিক স্থানে রেলহেডে (দুই পাতের সংযোগ) ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে দিলপাশার এলাকায় ভাঙা অংশ তাৎক্ষণিক মেরামত করা হলেও অন্য দুই স্থানে এখনো সংস্কার কাজ শুরু হয়নি।
৩ ঘণ্টা আগে
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিনের সহযোগী (জুনিয়র) জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাডভোকেট রায়হান মারধরের শিকার হয়েছেন। গতকাল বুধবার রাতে বরিশাল নগরের সিঅ্যান্ডবি রোডে জয়নুল আবেদিনের বাসভবনে এ ঘটনা ঘটে।
৩ ঘণ্টা আগে
জবানবন্দিতে ত্রিদিব হত্যার দায় স্বীকারের পাশাপাশি জানায়, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন বিএনপি নেতা আলমগীরের ‘মেয়ের জামাই’ পরশ ও প্রতিবেশী সাগর। তিনি জবানবন্দিতে আরও জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যার আগে প্রিন্স নামের একজন তাঁকে মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যায়।
৩ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা সরোয়ার হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) করা হয়েছে। জাতীয় সংসদীয় আসন-২১৪ এলাকার নির্বাচনী অনুসন্ধানী বিচারিক কমিটির সিভিল জজ...
৪ ঘণ্টা আগে