প্রশিক্ষণকালে দুর্ঘটনা, নিহত সেনাসদস্য পিয়াসের বাড়িতে মাতম

তিন বোনের একমাত্র ভাই ছিলেন পিয়াস। বাড়ির সবার আদরের ছেলেটি যেমনি নম্র-ভদ্র, তেমনি দায়িত্বশীল ছিলেন। তাই তাঁর প্রতি সবার ভালোবাসার পরিমাণটাও ছিল বেশি। কদিন আগে ঘর আলো করে এসেছে এক সন্তান। স্ত্রী, সন্তান আর বাবা-মাকে নিয়ে সুখেই কেটে যাচ্ছিল দিনগুলো। কিন্তু বিধাতার পরিহাস! আজ বুধবার চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণকালে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় দুর্ঘটনায় আরও এক জনের সঙ্গে নিহত হন আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস।
আবু বকর সৈনিক পদে কর্মরত ছিলেন। বাড়ি নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের মালিপাড়া গ্রামে। তাঁর বাবা আবদুল ওহাব। পিয়াস মা-বাবা, স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে ক্যান্টনমেন্টে থাকতেন।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের একপর্যায়ে আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে পিয়াসসহ দুই সেনাসদস্য নিহত হন। গুরুতর আহত এক সেনা কর্মকর্তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
পিয়াসের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে আসে। এলাকাবাসী জানায়, ছোটবেলা থেকেই পিয়াস শান্ত, ভদ্র ও অমায়িক স্বভাবের মানুষ হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। হাসিমুখে কথা বলা ও সহজ-সরল ব্যবহারের কারণে স্বজন এবং প্রতিবেশীদের কাছে তিনি খুব প্রিয় ছিলেন।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হবে। তবে কখন আনা হবে, তা নিশ্চিত নয়।
কবিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূদম পুষ্প চাকমা বলেন, ‘দেশের সেবায় নিয়োজিত একজন তরুণের এভাবে অকালে চলে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াসের আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’










