Ajker Patrika

নিহত সেনাসদস্য রিফাতের মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না বাবা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২: ০৪
নিহত সেনাসদস্য রিফাতের মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না বাবা
নিহত সেনাসদস্য তাসনিম রিফাত। ছবি: সংগৃহীত

তিন বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন রিফাতের মা। মায়ের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে পরিবারটি যখন একটু একটু করে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করেছিল, সে সময়ই ঘটল সবচেয়ে বড় ছন্দপতন। চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে প্রশিক্ষণ গ্রহণকালে নিহত হন সেনাবাহিনীর গানার তাসনিম রিফাত (২৮)। আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

রিফাতের গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর পবা উপজেলার বিন্দারামপুর গ্রামে। দুর্ঘটনার পর দুপুরেই রিফাতের মৃত্যুর খবর পৌঁছে যায় বিন্দারামপুরে। এরপর একে একে স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাঁর বাড়িতে আসতে থাকেন।

রিফাতের বাবা আসাদুল ইসলাম অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী। ছেলের এ হেন মৃত্যু মেনে নিতে পারছিলেন না কিছুতেই। বিকেলে রিফাতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, কেউ রিফাতের বাবা আসাদুল ইসলামকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, কেউ কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। বাড়ির ভেতর থেকে স্বজনদের আহাজারি ভেসে আসছিল। বাইরে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের চোখে মুখেও ছিল বিষাদের ছাপ।

স্বজনেরা জানান, চার ভাইবোনের মধ্যে রিফাত ছিলেন দ্বিতীয়। ছোটবেলা থেকেই তিনি পরিবারের স্বপ্নের অংশ ছিলেন। পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন রিফাত। সেনাবাহিনীর আর্মড কোরে কর্মরত রিফাত চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ১৫ স্বতন্ত্র সাঁজোয়া স্কোয়াড্রনে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

কর্মজীবনে দায়িত্বশীল ও শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন রিফাত। স্ত্রী ও কন্যাসন্তানকে নিয়ে চট্টগ্রাম সেনানিবাসের সরকারি বাসভবনে থাকতেন তিনি। কর্মস্থলে থাকার কারণে নিয়মিত বাড়িতে আসতে না পারলেও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন।

আসাদুল ইসলাম জানান, রিফাতের প্রথম জানাজা আজ বুধবার রাত ১০টায় চট্টগ্রাম সেনানিবাসের জসিম হলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জানাজা শেষে হেলিকপ্টারে তাঁর মরদেহ ঢাকায় নেওয়া হবে। পরে রাজশাহী সেনানিবাসে আনার পর আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত