Ajker Patrika

মাদক সেবনের সময় নারীসহ যুবদল নেতা গ্রেপ্তার, ভিডিও ভাইরাল

 গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
মাদক সেবনের সময় নারীসহ যুবদল নেতা গ্রেপ্তার, ভিডিও ভাইরাল
রেজাউল করিম। ছবি: সংগৃহীত

নাটোরের গুরুদাসপুরে নারীসহ (৩৮) এক যুবদল নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার রাতে উপজেলার হামলাইকোল গ্রামের একটি ঘরে নারীসহ ওই যুবদল নেতাকে অবরুদ্ধ করেন স্থানীয় গ্রামবাসী। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

আজ বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে পুলিশ ১৫১ ধারায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে চালান দিলেও কোনো মাদক বা নগদ টাকা জব্দের তালিকা দেখায়নি।

অভিযুক্ত রেজাউল করিম (৪২) উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বড় ভাই সামছুল আলম নাজিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যুবদল নেতা বুধবার রাতে বাড়ি থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরের হামলাইকোল গ্রামের একটি ঘরে ওই নারীর সঙ্গে মাদক সেবন করছিলেন। গ্রামের মানুষ দলবদ্ধ হয়ে তাঁদের অবরুদ্ধ করেন। এ সময় কেউ কেউ ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁদের আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।

এদিকে ওই ঘটনার একটি ভিডিওতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় দুই মিনিটের ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নারী সিগারেটের মধ্যে গাঁজা ভরছেন, আর যুবদল নেতা কিছু টাকা গুনে ওই নারীকে দিচ্ছেন। একপর্যায়ে গ্রামের ১৫-২০ জন লোক দলবদ্ধ হয়ে সেখানে হানা দিয়ে দুজনকে অবরুদ্ধ করেন। পরে গ্রামের শত শত মানুষ এসে তাঁদের ঘিরে ধরলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ গিয়ে তাঁদের আটকের পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যুবদল নেতা রেজাউল করিম একজন মাদক কারবারি। ওই নারীর বাড়িতে নিয়মিত মাদকের আড্ডা বসানো হতো। এতে গ্রামবাসী অতিষ্ঠ ছিলেন।

মনিরুল ইসলাম ও আল আমিন নামে ঘটনার দুই প্রত্যক্ষদর্শী অভিযোগ করে বলেন, ‘ঘরের ভেতর নারীসহ যুবদল নেতাকে মাদক সেবন এবং বিছানায় মাদকের উপস্থিতি লক্ষ করেছি। কিন্তু পুলিশ ঘরের ভেতর ঢুকে কোনো আলামত জব্দ করেনি। শুধু তাঁদের দুজনকে আটক করেছে। পুলিশের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ এলাকার মানুষ।’

তবে অভিযোগ সম্পর্কে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম বলেন, গ্রামের মানুষের অভিযোগে নারীসহ ওই যুবদল নেতাকে আটক করলেও সেখানে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। এ কারণে ১৫১ ধারায় তাঁদের আটক দেখানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার নারীর বড় বোন জানান, ষড়যন্ত্রমূলক তাঁর বোনসহ যুবদল নেতাকে ফাঁসানো হয়েছে। অভিযুক্ত রেজাউলের মাধ্যমে তাঁর বোনের কিছু সোনার গয়না বন্ধক রাখা হয়েছিল। সেই টাকার লেনদেন হয়েছে। আর যুবদল নেতার বড় ভাই ও নাজিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি সামছুল হক বলেন, তাঁরা সক্রিয় রাজনীতি করার কারণে কিছু মানুষ তাঁর ভাইকে ফঁসিয়েছে। আইনগত ভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত