Ajker Patrika

হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের মধ্যেই উত্তাল পদ্মায় খেয়া, আদায় হচ্ছে টোল

পাবনা প্রতিনিধি
হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের মধ্যেই উত্তাল পদ্মায় খেয়া, আদায় হচ্ছে টোল
ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল পদ্মায় চলছে খেয়া নৌকায় যাত্রী পারাপার। সম্প্রতি পাবনার সুজানগর উপজেলার নাজিরগঞ্জ ঘাটে। ছবি: আজকের পত্রিকা

হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে পাবনার সুজানগর উপজেলার নাজিরগঞ্জে পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী খেয়া নৌকা চলাচল ও টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বর্ষার ভরা মৌসুমে উত্তাল পদ্মায় এভাবে যাত্রী পারাপারে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এ কার্যক্রমকে অবৈধ উল্লেখ করে পাবনার জেলা প্রশাসকের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। তবে জেলা প্রশাসনের দাবি, কারা যাত্রী পারাপারের নামে টোল আদায় করছে, সে বিষয়ে তাদের কাছে নির্দিষ্ট তথ্য নেই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তির সহযোগিতায় বৈধ অনুমোদন বা কার্যকর ইজারা ছাড়াই খেয়াঘাট পরিচালনা করছে। বর্ষার ভরা মৌসুমে উত্তাল পদ্মায় এভাবে যাত্রী পারাপারে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলেও আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

সরেজমিন দেখা যায়, পাবনার নাজিরগঞ্জ ও রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া ঘাটের মধ্যে প্রতিদিন শত শত যাত্রী শ্যালোইঞ্জিনচালিত নৌকায় নদী পার হচ্ছেন। একই নদীপথে সরকারি ফেরি ও স্পিডবোট চলাচল করলেও খেয়া নৌকায় যাত্রী পরিবহন অব্যাহত রয়েছে। যাত্রীদের কাছ থেকে ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত টোল আদায় করা হচ্ছে।

খেয়া নৌকায় পারাপার হওয়া যাত্রী মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘নৌকায় খরচ কম, দ্রুত পার হওয়া যায়। তাই খেয়া নৌকায় চলাচল করি। ঝুঁকি থাকলেও চলতে হয় আমাদের। কিছু করার নেই।’

জানা গেছে, গত ২১ এপ্রিল অবৈধ খেয়াঘাট বন্ধে পাবনা জেলা প্রশাসককে চিঠি দেয় বিআইডব্লিউটিএ। জবাবে গত ১৪ মে জেলা প্রশাসক জানান, তারা অবৈধ খেয়াঘাট সম্পর্কে অবগত নন।

এ ছাড়া গত ১৬ জুলাই নাজিরগঞ্জ খেয়াঘাট-সংক্রান্ত একটি রিট মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যেই নাজিরগঞ্জ নদীবন্দরের সীমানার মধ্যে যাত্রী পারাপারের নামে টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল পদ্মায় চলছে খেয়া নৌকায় যাত্রী পারাপার। সম্প্রতি পাবনার সুজানগর উপজেলার নাজিরগঞ্জ ঘাটে। ছবি: আজকের পত্রিকা
ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল পদ্মায় চলছে খেয়া নৌকায় যাত্রী পারাপার। সম্প্রতি পাবনার সুজানগর উপজেলার নাজিরগঞ্জ ঘাটে। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঘাটে টোল আদায়কারীদের দাবি, তারা স্থানীয় বিএনপি নেতা ডা. আব্দুস সালামের নির্দেশনায় ঘাট পরিচালনা করছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. আব্দুস সালাম বলেন, ‘সাধারণ যাত্রীদের পারাপারের সুবিধার জন্য নৌকার মালিকেরা এই খেয়াঘাট চালাচ্ছেন। এটা আমি লাগাইনি। আমার কি কোনো এখতিয়ার আছে যে আমি সেখানে ঘাট লাগাব?’

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর নাজিরগঞ্জ নৌবন্দরের সহকারী বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা গাজী মো. আব্দুল মোতালিব বলেন, ‘কে বা কারা নৌকার মাধ্যমে অবৈধভাবে যাত্রী পারাপার করছে এবং অবৈধ টোল আদায় করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অবৈধ টোল ও যাত্রী পারাপারের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর আমরা পত্র দিয়েছি। সেই পত্রের উত্তরে জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, এই টোল বা যাত্রী পারাপারে কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।’

পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য সরকার দায়বদ্ধ। আমরা খুব শিগগিরই স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করে বিআইডব্লিউটিএর সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত