Ajker Patrika

স্ত্রীকে জমিজমা লিখে না দেওয়ায় ব্যবসায়ী খুন, ৫২ দিন পর লাশ উদ্ধার

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
স্ত্রীকে জমিজমা লিখে না দেওয়ায় ব্যবসায়ী খুন, ৫২ দিন পর লাশ উদ্ধার
ব্যবসায়ী আওলাদ হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় স্ত্রীকে জমিজমা লিখে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে আলু ব্যবসায়ী আওলাদ হোসেনকে (৬৫) হত্যার অভিযোগে ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। নিখোঁজের ৫২ দিন পর আজ বুধবার ভোর ৫টার দিকে উপজেলার চাইনপাড়া গ্রামের বোরহান বেপারীর গরুর ফার্মের রান্নাঘরের মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

বেলা ১২টার দিকে নিজ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম।

আটক ব্যক্তিরা হলেন নিহতের স্ত্রীর ভগ্নিপতি মানিক বেপারী (৩০), সাইফুল ইসলাম (৪২), মো. রিপন (৩৪) এবং মো. বিন আমিন শেখ (৩৫)। পুলিশ জানায়, হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী নিহতের স্ত্রী রানী বেগম (৩৭) ও গরুর ফার্মের মালিক বোরহান বেপারী পলাতক রয়েছেন।

নিহত আওলাদ হোসেন সিরাজদিখান উপজেলার চাইনপাড়া গ্রামের প্রয়াত ফরিদ শেখের ছেলে। আটক মানিক, রিপন ও বিন আমিনের বাড়ি একই গ্রামে। সাইফুল ইসলামের বাড়ি রংপুরের কোতোয়ালি থানা এলাকায়।

পুলিশ সুপার জানান, প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর আওলাদ হোসেন রানী বেগমকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে সন্তান না হওয়ায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। একপর্যায়ে রানী বেগম তাকে জমিজমা লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। রানী বেগমের ভগ্নিপতি মানিক বেপারীও আওলাদ হোসেনের কাছ থেকে প্রায়ই টাকা-পয়সা নিতেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জমিজমা লিখে না দেওয়ায় স্ত্রী ও তার ভগ্নিপতি আওলাদ হোসেনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ৯ মে সন্ধ্যার দিকে একই গ্রামের বোরহানের গরুর ফার্মে ডেকে নেওয়া হয় তাকে। সেখানে ফার্মের কাজের লোক সাইফুল ইসলাম তাকে বিছানায় ফেলে মাথা চেপে ধরেন। পরে মানিক বেপারী কোদাল দিয়ে গলায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এ সময় ফার্মের বাইরে পাহারায় ছিলেন বিন আমিন ও রিপন।

হত্যার পর সাইফুল, বিন আমিন ও রিপন ফার্মের রান্নাঘরের মেঝেতে গর্ত করে লাশ পুঁতে রাখেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার পর গত ১০ মে নিহতের ছোট ভাই বেলায়েত হোসেন সিরাজদিখান থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে ২৩ মে একই থানায় তিনি বাদী হয়ে ভাবী রানী বেগম, মানিক বেপারীসহ অজ্ঞাত আরও ২ থেকে ৩ জনকে আসামি করে অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

মামলার সূত্র ধরে গত ৩১ মে মানিক বেপারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ৩০ জুন বিকেলে ঢাকার সাভারের একটি ডেইরি ফার্ম থেকে সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন রাতে গ্রেপ্তার করা হয় রিপন ও বিন আমিনকে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ বুধবার ভোরে চাইনপাড়া গ্রামের বোরহানের গরুর ফার্মের রান্নাঘর থেকে আওলাদ হোসেনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত