Ajker Patrika

মৌলভীবাজারে চামড়া সংগ্রহে অনীহা ব্যবসায়ীদের, বাধ্য হয়ে মাটিচাপা

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারে চামড়া সংগ্রহে অনীহা ব্যবসায়ীদের, বাধ্য হয়ে মাটিচাপা
কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন বিক্রেতারা। মৌলভীবাজার পৌর শহরের পুরোনো বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

বাজারে চামড়ার মূল্য না থাকায় মৌলভীবাজারে বেশির ভাগ কওমি মাদ্রাসা এবারের ঈদে চামড়া সংগ্রহ করেনি। এ ছাড়া লোকসানের ভয়ে ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এতে চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কোরবানি দেওয়া পশুর মালিকেরা। সারা দিন অপেক্ষা করে কেউ চামড়া না নেওয়ায় বাধ্য হয়ে অনেকেই মাটিচাপা দিয়েছেন। আবার হাতে গোনা যাঁরা চামড়া বিক্রি করতে পেরেছেন, তাঁদের খরচ তোলা দায় হয়ে পড়েছে।

মৌলভীবাজারের চামড়া ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘গত বছর আমরা যে চামড়া কিনে সংগ্রহ করেছিলাম, তা এখনো বিক্রি করতে পারিনি। আমাদের আগের চামড়ার টাকা ট্যানারির কাছে এখনো পাওনা আছে। ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য সামান্য কিছু চামড়া সংগ্রহ করছি। ১০০-১৫০ টাকা দিয়ে যে চামড়া ক্রয় করছি, তাতেও আমাদের লোকসান হবে।’

গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে মৌলভীবাজার পৌর শহরের পুরোনো বাসস্ট্যান্ড এলকায় দেখা যায়, প্রতিবছরের মতো এবারও সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে চামড়া নিয়ে আসছেন বিক্রেতারা। প্রতিটি চামড়া ১০০-১৫০ টাকা দিয়ে কিনছেন ব্যবসায়ীরা। অনেক বিক্রেতা দূরদূরান্ত থেকে গাড়িতে করে চামড়া নিয়ে এলেও লাভ তো দূরের কথা, গাড়িভাড়ার টাকাও ওঠেনি। চামড়া নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতারা হতাশা প্রকাশ করছেন। জেলার বালিকান্দি বাজারে প্রায় ২০০ বছর ধরে চামড়া সংরক্ষণ ও বিক্রি করলেও এ বছর চামড়া ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনতে অনীহা প্রকাশ করছেন। অনেকটা বাধ্য হয়ে এবং ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য জেলা শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে কিছু চামড়া কিনেছেন ব্যবসায়ীরা।

রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের একটি কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা মিজান আহমেদ বলেন, ‘আমরা প্রতিবছর মাদ্রাসার পক্ষ থেকে চামড়া সংগ্রহ করে বিক্রি করতাম। গত বছর আমাদের লোকসান হওয়ায় এ বছর আমরা চামড়া সংগ্রহ করিনি। আমাদের এলাকার মাদ্রাসাগুলো অন্যান্য বছর চামড়া সংগ্রহ করলেও এ বছর বেশির ভাগ মাদ্রাসা সংগ্রহ করেনি। একটা চামড়া সংগ্রহ করতে যে টাকা খরচ হয়, বিক্রি করার সময় তা মেলে না।’

জুবের আহমদ নামের একজন বলেন, ‘আমি ৪৫টি চামড়া সংগ্রহ করে ৪৫০০ টাকা বিক্রি করেছি। আমাদের কষ্ট ও খরচের টাকাও ওঠেনি।’

তওফিক আহমদ নামের একজন বলেন, ‘আমি দুপুর থেকে চামড়া দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছি। এ বছর কেউ চামড়া নিতে আসেনি। অন্যান্য বছর কওমি মাদ্রাসা থেকে চামড়া নিতে আসত, এবার তারাও আসেননি। বিনা মূল্যেও কেউ চামড়া না নেওয়ায় আমরা বাধ্য হয়ে মাটিতে পুঁতে রেখেছি।’

জমশেদ আহমদ নামের একজন বলেন, ‘আমি প্রায় ৩৫টি চামড়া নিয়ে এসেছি মৌলভীবাজার শহরে। ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনতে অনীহা জানিয়েছেন। একজন ১ হাজার ৫০০ টাকা দাম করেছেন। অথচ আমার সারা দিনের পিকআপ ভাড়া ৩ হাজার টাকা গেছে।’

বালিকান্দি বাজারের চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. শওকত বলেন, ‘আমাদের এলাকায় ২০০ বছর ধরে চামড়ার ব্যবসা চলছে। ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য কিছু চামড়া সংগ্রহ করছি। প্রতিবছর ঈদ এলে সরকার চামড়ার একটি ফি ঠিক করলেও বাস্তবে এই দামে বেচাকেনা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আমাদের গত বছরের চামড়া এখনো বিক্রি করতে পারিনি। এই বছর চামড়া কিনে কার কাছে বিক্রি করব। চামড়া ট্যানারিগুলোর কাছে বকেয়া টাকা রয়েছে ব্যবসায়ীদের। আগামীতে এই শিল্প পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত