Ajker Patrika

মৌলভীবাজারে বৃষ্টি ও ঢলে পানিবন্দী ৫ শতাধিক পরিবার

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারে বৃষ্টি ও ঢলে পানিবন্দী ৫ শতাধিক পরিবার
মৌলভীবাজার জেলার চার নদীতে পানি বেড়ে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

দুদিনের অব্যাহত বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এতে পাঁচ শতাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে জেলার চারটি নদীতে বেড়েছে পানি। জেলার জুড়ী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলার বিভিন্ন উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজনগর উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের পূর্ব নন্দীউড়া ও ভুজবল গ্রামে উদনা নদীসংলগ্ন এলাকাগুলোয় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজার, আদমপুর ও পতনঊষার ইউনিয়নে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে বেশ কিছু এলাকা তলিয়ে গেছে। সদর উপজেলার জগন্নাথপুর এলাকায় পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে ঘরবাড়ি। একইভাবে কুলাউড়া ও বড়লেখা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সব মিলিয়ে জেলায় পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

কমলগঞ্জের মুন্সিবাজার ইউনিয়নের পানিবন্দী কাওছার আহমেদ বলেন, ‘দুই দিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। আজ সকালে আমাদের রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। বাড়িতে পানি উঠে গেছে সকালে। বোরো ধান সব তলিয়ে গেছে। টানা তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। সব মিলিয়ে মহা কষ্টের মধ্যে আছি।’

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার সকাল ৬টা থেকে আজ দুপুর পর্যন্ত জেলায় ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আগামী কয়েক দিন আরও বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে মনু, ধলাই, কুশিয়ারা ও জুড়ী নদ-নদীতে পানি বাড়ে। মনু ও ধলাই নদের ছয়টি প্রতিরক্ষা বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। ভারতে বা উজানে অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে বন্যা হতে পারে।

মৌলভীবাজার পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, ‘জেলার প্রধান চারটি নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আমরা পানি বৃদ্ধির পরিস্থিতি সব সময় খেয়াল রাখছি। তবে উজানে অতিবৃষ্টি হলে বন্যা হতে পারে।’

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া বলেন, ‘আমরা সব উপজেলায় বলে দিয়েছি ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দী মানুষের তালিকা করার জন্য। তবে জেলার বেশির ভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। আমরা চাল ও নগদ টাকা বরাদ্দের জন্য প্রস্তুত করেছি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত