Ajker Patrika

শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতন: বিমানের সাবেক এমডি সাফিকুরের জামিন

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৯: ০৬
শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতন: বিমানের সাবেক এমডি সাফিকুরের জামিন
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমান। সংগৃহীত

নিজ বাসার শিশু গৃহকর্মী মোহনাকে নির্যাতনের ঘটনায় করা মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমানকে জামিন দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-৩-এর বিচারক মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালত আসামিকে ৫ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন দেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. জহিরুল ইসলাম (কাইয়ুম) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামির বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় এই জামিন দেওয়া হয়েছে।

১১ বছরের শিশু গৃহকর্মী মোহনার বাবা হোটেল কর্মচারী গোলাম মোস্তফা গত ১ ফেব্রুয়ারি উত্তরা পশ্চিম থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় সাফিকুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী বীথি এবং বাসার দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও সুফিয়া বেগমকে আসামি করা হয়।

মামলা দায়েরের পর গত ২ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৩টার দিকে উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করে উত্তরা পশ্চিম থানা-পুলিশ। পরে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাফিকুর, তাঁর স্ত্রী বীথিসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে চারজনকেই বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেওয়া হয়। এর মধ্যে সাফিকুরের স্ত্রী ও অন্য দুই গৃহকর্মী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে শিশুকে নির্যাতনের দায় স্বীকার করেন। সাফিকুর রহমান পুলিশের কাছে দায় স্বীকার করলেও আদালতে জবানবন্দি দিতে অস্বীকার করেন। সেই থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। সাফিকুরের জামিন মঞ্জুর করা হলেও অন্য তিনজন এখনো কারাগারে রয়েছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে সাফিকুর রহমানের বাসা। ওই বাসার নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীর শিশুর দেখাশোনার জন্য অল্প বয়সী মেয়ে খুঁজছিলেন। পরে গোলাম মোস্তফার সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। মেয়ের বিয়েসহ যাবতীয় খরচ বহনের প্রতিশ্রুতি পেয়ে মোস্তফা গত বছরের জুনে তাঁর মেয়েকে ওই বাসায় কাজে পাঠান। সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর ওই বাসায় গিয়ে মোহনাকে দেখে আসেন তিনি। এরপর আর তাঁকে পরিবারের কারও সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ৩১ জানুয়ারি গৃহকর্ত্রী বীথি মোবাইল ফোনে মোস্তফাকে জানান, মোহনা অসুস্থ। তাকে যেন নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ভুক্তভোগী মোহনাকে আনতে যান গোলাম মোস্তফা। সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোলাম মোস্তফার কাছে মোহনাকে বুঝিয়ে দেন বীথি।

মোস্তফা মামলায় বলেছেন, তখনই তিনি মেয়ের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম দেখতে পান। তাঁর মেয়ে ভালোভাবে কথাও বলতে পারছিল না। কারণ জিজ্ঞাসা করলে বিমানের এমডির স্ত্রী বীথি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে মোহনাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান মোস্তফা।

ভুক্তভোগী শিশু মোহনা তার বাবাকে জানায়, ওই বাসায় বিভিন্ন সময়ে তার ওপর নির্যাতন করা হয়েছে। তাকে মারধর করার পাশাপাশি খুন্তি গরম করে শরীরে ছ্যাঁকাও দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, এ ঘটনার পর বিমানের সাবেক এমডি সাফিকুর রহমানকে তাঁর দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত