Ajker Patrika

রমজানকে সামনে রেখে গাংনীতে বাড়ছে মাছ-মাংসের দাম

গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি 
রমজানকে সামনে রেখে গাংনীতে বাড়ছে মাছ-মাংসের দাম
বামন্দী বাজারে মাছ বেচাকেনা চলছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

রমজান মাস সামনে রেখে গরম হতে শুরু করেছে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মুরগি, মাংস ও মাছের বাজার। বাজারে শাকসবজির দাম নাগালের মধ্যে থাকলেও ধীরে ধীরে বাড়ছে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। রমজানের বাড়তি চাহিদা থাকায় এখন থেকেই জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। আর এতে বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ব্রয়লার, সোনালি, লেয়ার ও দেশি মুরগির দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। মরিচের দাম কেজিতে বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পেঁয়াজ ১০ থেকে ১৫ ও রসুন ১৫ থেকে ২০ টাকা। বাজারে ১ কেজি ওজনের ইলিশ মাছ ২ হাজার ৮০০ টাকা, মাঝারি আকারের ইলিশ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ এবং ছোটগুলো ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া অন্যান্য জিনিসের দামও বেড়েছে। তবে বাজার নিয়ন্ত্রণে মাঠে কাজ করছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে উপজেলার বামন্দী বাজার ঘুরে দেখা গেছে মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচসহ বিভিন্ন জিনিসের দাম বেড়েছে। তবে সবজির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বাজার করতে আসা রবিন আহমেদ বলেন, ‘বাজারে শুধু সবজি কিনেই স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে। অন্য সব জিনিসের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। সামনে রমজান। অনেক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে বেশি দাম হাঁকিয়ে নেবে। প্রশাসনের দ্রুত বাজারে নজর দেওয়া দরকার।’

বাজার করতে আসা আসমত আলী বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সবজির দাম কম ছিল। বাজারদর এমন থাকলে সবজি কিনে স্বস্তি মিলবে। কিন্তু রমজান সামনে দেখে মুরগি, মাছ, রসুন, পেঁয়াজ, মাংস—এগুলোর দাম আস্তে আস্তে বাড়তে শুরু করছে। প্রশাসন দ্রুত মনিটরিংয়ে না নামলে ক্রেতারা অনেক ঠকবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘গরুর মাংসের দাম সব সময় বেশি নিচ্ছে। প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ টাকা।’

বাজার করতে আসা সাইফুল ইসলাম বলেন, সবজির দাম অনেক দিন ধরে স্বাভাবিক রয়েছে। আলু ১০০ টাকায় পাঁচ থেকে ছয় কেজি পাওয়া যাচ্ছে। তবে অন্যান্য জিনিসের দাম বাড়ছে। রমজানে যদি এগুলোর দাম আরও বাড়ে, তাহলে নিম্ন আয়ের মানুষের খুব কষ্ট হবে। তিনি আরও বলেন, রমজান মাস সামনে রেখে প্রতিটি পরিবার একটা প্রস্তুতি নিয়ে থাকে। প্রতিটি পরিবারের অভিভাবকই পরিবারের সদস্যদের মুখে একটু ভালো খাবার তুলে দেওয়ার চেষ্টা করে। জিনিসপত্রের দাম বাড়লে অনেক পরিবার কষ্টে পড়ে যাবে। তা ছাড়া ইফতারের জন্যও আলাদা প্রস্তুতি নিতে হয়।

সবজি ব্যবসায়ী শাকের আলী বলেন, ‘সবজির মধ্যে প্রতি কেজি বেগুন ৪০ থেকে ৫০ টাকা, শসা ৮০, টমেটো ৪০, গাজর ৪০, মুলা ৩০, শিম ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ফুলকপি ৩০-৪০ টাকা, লাউ ৩০ টাকা। তিনি আরও বলেন, সবজির দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে রয়েছে। প্রতিটি সবজির দাম কম। সবজি ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে রয়েছে। শুধু শসার কেজি ৮০ টাকা। তবে আগামী সপ্তাহ থেকে দাম বৃদ্ধি পেতে পারে।’

ফল ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আজওয়া খেজুরের কেজি ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা বা তার বেশি হতে পারে। কারণ, এগুলোর দাম বেশি হওয়ায় আমাদের গ্রাম এলাকায় তেমন কেউ নেয় না। আমরা সাধারণত ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা দরের খেজুরগুলো বিক্রি করে থাকি। তবে এখনো খেজুরের দাম বৃদ্ধি পায়নি। আগামী সপ্তাহে সম্ভবত বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে কিছুদিন আগে খেজুরের দাম কিছুটা কম ছিল।’

আলু ও পেঁয়াজ ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন বলেন, ‘কেজিপ্রতি পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৫০ টাকা, মরিচ ১৫০ থেকে ১৬০, রসুন ৮৫ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর আলু ১০০ টাকায় ৫ থেকে ৬ কেজি। গত হাটের চেয়ে দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। মনে হচ্ছে, দাম আরও বাড়বে।’

মাছ ব্যবসায়ী বজলুর রহমান বলেন, ‘বড় ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। রমজান মাস সামনে রেখে দাম আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এ ছাড়া অন্যান্য মাছের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।’

মুরগি ব্যবসায়ী বশির আহমেদ বলেন, ‘চার থেকে পাঁচ দিন হলো প্রতিটি মুরগির দাম কেজিপ্রতি ৩০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। সামনে রমজান। মুরগির দাম আরও বাড়বে বলে মনে হচ্ছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও আনোয়ার হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা বাজার মনিটরিংয়ে নেমেছি। প্রয়োজনে মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে। কোনো সিন্ডিকেট তৈরি করতে দেওয়া হবে না। দ্রব্যমূল্যের দাম অতিরিক্ত নিলেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রমজান মাস সামনে রেখে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী অসদুপায় অবলম্বনের চেষ্টা করবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

তবে কি এপস্টেইনই ছিলেন বিটকয়েনের রহস্যময় স্রষ্টা ‘সাতোশি’

ব্যারিকেড ভেঙে যমুনা অভিমুখে ইনকিলাব মঞ্চ, জাবের-আম্মারসহ আহত কয়েকজন

চীনের হোটেলে গোপন ক্যামেরার বাণিজ্য, পর্নো সাইটে নিজেকে আবিষ্কার করছেন দর্শকেরা

মাশরাফিকে রাজশাহীতে নাগরিক সংবর্ধনা

বিএনপি ইশতেহারে গণভোট ও সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে: এনসিপির নির্বাচনী মিডিয়া কমিটির প্রধান

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত