Ajker Patrika

লালমনিরহাটে বিপৎসীমার ওপরে বইছে তিস্তার পানি, প্লাবিত নিম্নাঞ্চল

লালমনিরহাট প্রতিনিধি 
আপডেট : ২৩ জুন ২০২৬, ১৭: ৪৩
লালমনিরহাটে বিপৎসীমার ওপরে বইছে তিস্তার পানি, প্লাবিত নিম্নাঞ্চল
বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে তিস্তা নদীর পানি। ছবি: আজকের পত্রিকা

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে লালমনিরহাটের ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার বেলা ৩টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৬ মিটার, যা বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটারের চেয়ে ১ সেন্টিমিটার বেশি। এতে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে শত শত পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, উজানে ভারতে কয়েক দিন ধরে ভারী বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদীতে পানির প্রবাহ বেড়েছে। তবে গত কয়েক দিন তা বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। আজ হালকা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে।

ফলে জেলার পাঁচটি উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকা বন্যায় প্লাবিত হচ্ছে। তিস্তা চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি ইতিমধ্যে পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। পানিবন্দী মানুষের সংখ্যাও ক্রমেই বাড়ছে।

পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ নদীতীরবর্তী এলাকার উঁচু রাস্তাগুলো ঝুঁকিতে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় এসব বাঁধ চলতি বন্যায় বড় ঝুঁকিতে রয়েছে বলে দাবি তাঁদের।

বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে তিস্তা নদীর পানি। ছবি: আজকের পত্রিকা
বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে তিস্তা নদীর পানি। ছবি: আজকের পত্রিকা

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ মেরামতের কাজ না করে ফেলে রাখে। বর্ষা এলে জরুরি মেরামতের নামে সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় করা হয়। তাঁদের মতে, শুষ্ক মৌসুমে বাঁধ মেরামত করলে কাজ টেকসই হতো এবং নদীভাঙন ও বন্যার ক্ষতি কমানো যেত।

আজিজ আহমেদ নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, ‘শুষ্ক মৌসুমে কাজ করলে ফাঁকি দিতে পারবে না। আর বর্ষায় কাজ করলে, কাজ না করেও বলতে পারবে কাজ করেছি, পানিতে ভেসে গেছে। এসব কারণে নদীর স্থায়ী কোনো কাজ হয় না। বর্ষা এলে সিসি ব্লক আর বালুর বস্তা নিয়ে দৌড়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন।’

নদীতীরের গোবর্ধন গ্রামের আব্দুর রশিদ বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে পানি বাড়া-কমা করছিল। আজকে বাড়ার পরিমাণটা বেশি। চরাঞ্চলের অনেক বাড়িতে পানি উঠেছে। তারা পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানিবন্দী এলাকায় শিশু, বৃদ্ধ আর প্রতিবন্ধীদের নিয়ে চরম কষ্টে থাকতে হয়। গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি নিয়েও আমাদের কষ্টের শেষ নেই। এর সঙ্গে থাকে সাপ-বিচ্ছুর উপদ্রব। সব মিলিয়ে আমাদের নিদ্রাহীন রাত কাটে বন্যার সময়। বন্যা যত দিন, আমাদের কষ্ট তার চেয়েও বেশি।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উজানের পানির প্রবাহ অব্যাহত থাকায় তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি বেড়েছে। এ কারণে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে হালকা বন্যা দেখা দিতে পারে। বন্যা পরিস্থিতি সার্বিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, বেলা ৩টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। উজানের পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় এই পয়েন্টে পানির প্রবাহ বেড়েছে। তাই হালকা বন্যা দেখা দিয়েছে। উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতি দীর্ঘ হতে পারে। উজানের ঢলের ওপরই নির্ভর করছে পানির চাপ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত