Ajker Patrika

লক্ষ্মীপুরে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ, আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ, আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ
গতকাল সন্ধ্যায় রামগতি উপজেলার চর সেকান্তর এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করেন এলাকাবাসী। ছবি: আজকের পত্রিকা

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে মারিয়া আক্তার মীম (১৬) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে মামলা গ্রহণে পুলিশের গড়িমসির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করেছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

বুধবার সন্ধ্যায় রামগতি উপজেলার চর সেকান্তর এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হলে যাত্রী ও পথচারীরা দুর্ভোগে পড়েন। পরে কয়েক শ নারী-পুরুষ বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রামগতি থানার সামনে অবস্থান নেন এবং সড়ক অবরোধ করেন।

এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘আমার বোন কবরে, খুনি কেন বাইরে’ এবং ‘মামলা নিতে সমস্যা কী, প্রশাসন জবাব চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাঁদের অভিযোগ, মীমের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করতে চাইলেও পুলিশ তা গ্রহণে গড়িমসি করেছে।

মানববন্ধনে নিহতের বাবা আবদুল মালেক বলেন, ‘এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমার মেয়ের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অথচ থানায় মামলা করতে গেলে তা গ্রহণে অনীহা দেখানো হয়েছে।’ তিনি পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, ‘নিহতের পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে আসছিলেন। প্রথমে তাঁরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পুলিশ তাতে সম্মতি দেয়নি। পরে তাঁরা হত্যা মামলা করতে চাইলে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।’

ওসি আরও জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরবর্তী সময়ে নিহতের পরিবারের সদস্যরা মামলা করতে সম্মত হলে বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিহতের মা বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলায় মীমের স্বামী মাহিন উদ্দিনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর শ্বশুর মোহাম্মদ হানিফ ও শাশুড়িকেও আসামি করা হয়েছে।

রাত সাড়ে ১২টার দিকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে ওসি লিটন দেওয়ান জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার ইউনিয়নের আসলপাড়া গ্রামে স্বামীর বাড়ি থেকে মীমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত মীম পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চর সেকান্তর গ্রামের আবদুল মালেকের মেয়ে। ঘটনার পর থেকে তাঁর স্বামী মাহিন উদ্দিন, শ্বশুর মোহাম্মদ হানিফসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার বিকেলে স্থানীয় আবদুল বারেক মাঝি জামে মসজিদ কবরস্থানে মীমের দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর স্বজন ও এলাকাবাসী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত