Ajker Patrika

লক্ষ্মীপুরে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে পশুর হাট, বড় গরু নিয়ে বিপাকে ব্যাপারীরা

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে পশুর হাট, বড় গরু নিয়ে বিপাকে ব্যাপারীরা
রাত পোহালেই পবিত্র ঈদুল আজহা। শেষ মুহূর্তে লক্ষ্মীপুরে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। ছবি: আজকের পত্রিকা

দুদিন বৃষ্টির কারণে কিছুটা সমস্যা হলেও আজ বুধবার সকাল থেকে আবহাওয়া ভালো থাকায় শেষ মুহূর্তে লক্ষ্মীপুরে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। জেলাজুড়ে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে ৯০টি হাট বসেছে। প্রতিটি হাট ভরে উঠেছে দেশি জাতীয় গরু-ছাগলে। তবে ছোট-মাঝারি গরু বেচাকেনা ভালো হলেও বড় গরু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ব্যাপারীরা।

আজ বুধবার সকালে পৌর গরু বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাটে বড় আকারের গরুই বেশি। সে তুলনায় মাঝারি বা ছোট আকারের গরু কম।

কথা হয় গরু ব্যাপারী আবুল বাশারের সঙ্গে। তিনি বলেন, তাঁর খামারে দুই শতাধিক গরু ছিল। ইতিমধ্যে ১৯০টি গরু বিক্রি হয়েছে। ১০টি বড় গরু রয়েছে। এগুলোর দাম সাড়ে ৩ লাখ টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত। এগুলো বিক্রি করতে কষ্ট হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আজ শেষ হাট। দাম কিছুটা কম হলেও বড় গরুগুলো ছেড়ে দেব। অন্য গরুতে ভালো দাম পেয়েছি।’

একই কথা বললেন আরেক ব্যাপারী মুনছুর আলী। তিনি বলেন, ‘ছয় মাস আগে যশোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ২০টি গরু কিনে এনে লালন-পালন করি। বাজারে ১৮টি গরু বিক্রি হয়েছে। দামও ভালো পেয়েছি। দুটি নিয়ে হাটে আছি। আশা করি, বিক্রি করতে পারব।’ বাজার ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

শুধু আবুল বাসার বা মুনছুর আলীই নয়, একই চিত্র পুরো হাটের। অনেকের দাবি, ভারতীয় গরুর দাপট না থাকায় দাম ভালো পাওয়া গেছে। এখন হাটে ছোট ও মাঝারি আকারের গরু তেমন অবশিষ্ট নেই। তবে বড় গরুর ক্রেতা কম। এতে বিপাকে পড়েছেন ব্যাপারীরা।

জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম ফজলুল হক বলেন, এবার কোরবানির জন্য লক্ষ্মীপুরে পশুর চাহিদা ৮৯ হাজার ২১৫টি থাকলেও ৯৫ হাজার ৪৭৭টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। চাহিদার তুলনায় ৬ হাজার ২৬২টি বেশি। প্রতিটি হাটে প্রাণীসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা আছেন। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা গরু অসুস্থ হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বাজারের ব্যবস্থাপনা খুবই ভালো। গরুর ব্যাপারী বা খামারিরা গরুর দাম অনেক ভালো পেয়েছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন-অর্থ) মো. হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, জেলার পাঁচটি উপজেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে ৯০টি হাট বসেছে। প্রতিটি হাটে কয়েক স্তরের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত। হাটে জাল টাকা যেন ছড়াছড়ি না হতে পারে, সেদিকে পুলিশের বিশেষ নজর ছিল। হাটে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা চাঁদাবাজি হয়নি। পুলিশ তৎপর রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত