
মাত্র ৯-১০ বছর বয়সে অন্যের বাড়িতে কাজ শুরু করেছিলেন শামসুন্নাহার। সততা, শ্রম আর দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছিলেন নিজের ছোট্ট সংসার। স্বামী-সন্তান নিয়ে স্বপ্ন ছিল একটু ভালোভাবে বাঁচার, বড় ছেলের বিয়ে দেওয়া আর একটি পাকা ঘর তোলার। কিন্তু ২২ জুলাই গভীর রাতের এক আগুনে মুহূর্তেই পুড়ে গেছে তাঁর ৩০ বছরের সঞ্চয়, স্বপ্ন আর শেষ আশ্রয়। এখন চার সন্তান ও স্বামীকে নিয়ে নিঃস্ব শামসুন্নাহার শুধু তাকিয়ে আছেন সহমর্মিতার হাতের দিকে।
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ৫ নম্বর চর ফলকন ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শামসুন্নাহার ও আক্তার দম্পতির সংসারের এই করুণ চিত্র।
স্থানীয়রা জানান, ১৯৯৬ সালে মাত্র ৯-১০ বছর বয়সে শামসুন্নাহার স্থানীয় বিত্তশালী লোকমান সাহেবের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ শুরু করেন। এরপর আর কখনো মা-বাবার কাছে ফিরে যাওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন সেই বাড়িতেই বড় হয়েছেন তিনি। সততা, নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের কারণে ধীরে ধীরে লোকমান পরিবারের বিশ্বস্ত সদস্য হয়ে ওঠেন।
পরে লোকমান দম্পতির সহযোগিতায় তাঁর বিয়ে হয় নদীভাঙনের শিকার দিনমজুর আক্তারের সঙ্গে। সংসার শুরুর পর লোকমান সাহেব নিজের অর্থায়নে তাঁদের জন্য বাড়ির পাশে একটি ছোট ঘর তৈরি করে দেন। ওই ঘরেই শামসুন্নাহার ও আক্তার দম্পতির চার ছেলের জন্ম হয়।
দীর্ঘদিন অন্যের বাড়িতে কাজ, নদীতে শ্রম এবং মাঠে দিনমজুরের কাজ করে অল্প অল্প করে টাকা জমাতে থাকেন তাঁরা। মানবিকতার দৃষ্টান্ত হিসেবে লোকমান সাহেব পরে শামসুন্নাহারকে ২৪ শতক জমি দান করেন। সেই জমিতে নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থে একটি সুন্দর ঘর তৈরি করে নতুনভাবে জীবন শুরু করেন তাঁরা।
সংসারের উপার্জনের সব টাকা শামসুন্নাহারের কাছেই জমা রাখতেন স্বামী ও ছেলেরা। ব্যাংকের প্রতি আস্থা না থাকায় ঘরেই টাকা রাখতেন তিনি। এভাবে জমাতে জমাতে তাঁর কাছে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা সঞ্চয় হয়েছিল। স্বপ্ন ছিল বড় ছেলের বিয়ে দেবেন, পুত্রবধূর জন্য গয়না কিনবেন এবং একটি পাকা ঘর নির্মাণ করবেন।
সংসারে ছিল একটি গরু, ৩০টি হাঁস, ১৫টি মুরগি, ব্যবহারের গয়না ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। কিন্তু গত ২২ জুলাই গভীর রাতে শর্টসার্কিট থেকে লাগা আগুনে মুহূর্তেই সব শেষ হয়ে যায়।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও ঘর থেকে কোনো মূল্যবান জিনিস উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। প্রাণে বেঁচে গেলেও নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন শামসুন্নাহার, তাঁর স্বামী ও চার সন্তান।
স্বজনেরা জানান, ঘটনার পর থেকে শামসুন্নাহার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। পরিচিত কাউকে দেখলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। বর্তমানে তাঁর চিকিৎসার প্রয়োজন।
পরিবারটি ঘুরে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন স্থানীয়রা। তাঁরা আগুনে সব হারানো পরিবারটির জন্য একটি ঘর নির্মাণ ও আর্থিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।
কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাত উজ্জামান বলেন, ‘শামসুন্নাহারের পরিবারের খোঁজখবর নিয়ে মানবিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।’

নেত্রকোনায় টহলরত জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যদের দেখে দৌড়ে পালানোর সময় খালের পানিতে পড়ে সাব্বির শেখ (১৯) নামে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সদর উপজেলার হরিখালি খাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
৫ মিনিট আগে
এক বছর পেরিয়ে গেলেও স্বজনদের চোখে-মুখে এখনো প্রিয়জন হারানোর শোক। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সহায়তা পেলেও তাঁদের একটাই দাবি—যারা গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যা করেছে, তাদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
৮ মিনিট আগে
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ডিএমপির রমনা বিভাগ থেকে ২৩ জন, লালবাগে ৪৩ জন, ওয়ারীতে ৪২ জন, মতিঝিলে ৪৮ জন, তেজগাঁওয়ে ৫৭ জন, মিরপুরে ১৩৫ জন, গুলশানে ৩০ জন এবং উত্তরা বিভাগে ৪০ জন রয়েছেন।
২০ মিনিট আগে
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় ব্যাংকে রাখা প্রায় ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে অসুস্থ বৃদ্ধ বাবাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে নিজ মেয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহত বৃদ্ধের আরেক মেয়ের দায়ের করা হত্যা মামলার আড়াই মাস পর আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্তের জন্য...
২৪ মিনিট আগে