Ajker Patrika

আগুনে পুড়ে ছাই ৩০ বছরের সঞ্চয়, স্বপ্ন হারিয়ে কাঁদছেন শামসুন্নাহার

কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
আগুনে পুড়ে ছাই ৩০ বছরের সঞ্চয়, স্বপ্ন হারিয়ে কাঁদছেন শামসুন্নাহার
শামসুন্নাহারের পোড়া ঘর । ছবি: আজকের পত্রিকা

মাত্র ৯-১০ বছর বয়সে অন্যের বাড়িতে কাজ শুরু করেছিলেন শামসুন্নাহার। সততা, শ্রম আর দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছিলেন নিজের ছোট্ট সংসার। স্বামী-সন্তান নিয়ে স্বপ্ন ছিল একটু ভালোভাবে বাঁচার, বড় ছেলের বিয়ে দেওয়া আর একটি পাকা ঘর তোলার। কিন্তু ২২ জুলাই গভীর রাতের এক আগুনে মুহূর্তেই পুড়ে গেছে তাঁর ৩০ বছরের সঞ্চয়, স্বপ্ন আর শেষ আশ্রয়। এখন চার সন্তান ও স্বামীকে নিয়ে নিঃস্ব শামসুন্নাহার শুধু তাকিয়ে আছেন সহমর্মিতার হাতের দিকে।

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ৫ নম্বর চর ফলকন ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শামসুন্নাহার ও আক্তার দম্পতির সংসারের এই করুণ চিত্র।

স্থানীয়রা জানান, ১৯৯৬ সালে মাত্র ৯-১০ বছর বয়সে শামসুন্নাহার স্থানীয় বিত্তশালী লোকমান সাহেবের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ শুরু করেন। এরপর আর কখনো মা-বাবার কাছে ফিরে যাওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন সেই বাড়িতেই বড় হয়েছেন তিনি। সততা, নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের কারণে ধীরে ধীরে লোকমান পরিবারের বিশ্বস্ত সদস্য হয়ে ওঠেন।

পরে লোকমান দম্পতির সহযোগিতায় তাঁর বিয়ে হয় নদীভাঙনের শিকার দিনমজুর আক্তারের সঙ্গে। সংসার শুরুর পর লোকমান সাহেব নিজের অর্থায়নে তাঁদের জন্য বাড়ির পাশে একটি ছোট ঘর তৈরি করে দেন। ওই ঘরেই শামসুন্নাহার ও আক্তার দম্পতির চার ছেলের জন্ম হয়।

দীর্ঘদিন অন্যের বাড়িতে কাজ, নদীতে শ্রম এবং মাঠে দিনমজুরের কাজ করে অল্প অল্প করে টাকা জমাতে থাকেন তাঁরা। মানবিকতার দৃষ্টান্ত হিসেবে লোকমান সাহেব পরে শামসুন্নাহারকে ২৪ শতক জমি দান করেন। সেই জমিতে নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থে একটি সুন্দর ঘর তৈরি করে নতুনভাবে জীবন শুরু করেন তাঁরা।

সংসারের উপার্জনের সব টাকা শামসুন্নাহারের কাছেই জমা রাখতেন স্বামী ও ছেলেরা। ব্যাংকের প্রতি আস্থা না থাকায় ঘরেই টাকা রাখতেন তিনি। এভাবে জমাতে জমাতে তাঁর কাছে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা সঞ্চয় হয়েছিল। স্বপ্ন ছিল বড় ছেলের বিয়ে দেবেন, পুত্রবধূর জন্য গয়না কিনবেন এবং একটি পাকা ঘর নির্মাণ করবেন।

সংসারে ছিল একটি গরু, ৩০টি হাঁস, ১৫টি মুরগি, ব্যবহারের গয়না ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। কিন্তু গত ২২ জুলাই গভীর রাতে শর্টসার্কিট থেকে লাগা আগুনে মুহূর্তেই সব শেষ হয়ে যায়।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও ঘর থেকে কোনো মূল্যবান জিনিস উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। প্রাণে বেঁচে গেলেও নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন শামসুন্নাহার, তাঁর স্বামী ও চার সন্তান।

স্বজনেরা জানান, ঘটনার পর থেকে শামসুন্নাহার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। পরিচিত কাউকে দেখলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। বর্তমানে তাঁর চিকিৎসার প্রয়োজন।

পরিবারটি ঘুরে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন স্থানীয়রা। তাঁরা আগুনে সব হারানো পরিবারটির জন্য একটি ঘর নির্মাণ ও আর্থিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।

কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাত উজ্জামান বলেন, ‘শামসুন্নাহারের পরিবারের খোঁজখবর নিয়ে মানবিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত