দেবাশীষ দত্ত, কুষ্টিয়া

শ্যালোইঞ্জিনের ওপর নানা কাঠামো বসিয়ে তৈরি করা হয় রকমারি গাড়ি। নছিমন, করিমন, ভটভটি, স্টিয়ারিং ট্রলি, লাটাহাম্বার মতো অদ্ভুত নাম নিয়ে কুষ্টিয়ার সড়ক-মহাসড়কগুলোতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এই অবৈধ যান। এর কারণে প্রতিবছর জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে।
সচেতন সমাজ ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শ্যালোর গাড়ির দৌরাত্ম্যে সড়কে লাশের মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। গুরুতর আহত অবস্থায় পঙ্গুত্ব সঙ্গী করে জীবনযাপনের সংখ্যাও কম নয়। অদ্ভুত এই গাড়ির কোনো প্রকৌশলগত ব্যাখ্যা নেই। গাড়িচালকের প্রশিক্ষণও নেই। এগুলো ব্যবহার হয় শুধু মাত্রাতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের চক্রে। নিয়ন্ত্রণ নেই সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের।
তথ্যসূত্রে জানা গেছে, দেশের সবচেয়ে বেশি অবৈধ যানবাহন তৈরির কারখানা রয়েছে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ভাদালিয়া বাজারে। পুরো জেলায় রয়েছে শতাধিক। এসব কারখানায় প্রতি মাসে শত শত নছিমন, করিমন, ট্রলি ও ভটভটি তৈরি হচ্ছে। চীন থেকে শ্যালোইঞ্জিন এনে নিজেদের মতো যানবাহন তৈরি করে বাজারজাত করা হচ্ছে। এমনকি ছোট ছোট ট্রাক তৈরি করা হচ্ছে এসব কারখানায়, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
২০২০ সালে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে কুষ্টিয়া জেলা থেকে সব ধরনের অবৈধ যান তৈরির কারখানা বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছিল জেলা পুলিশ। সে সময় জেলার সব নছিমন, করিমন ও ভটভটি তৈরির কারখানামালিককে ডেকে সময় বেঁধে দিয়েও কাজ হয়নি। ওই সময় পুলিশ জেলায় ৭০টি কারখানা খুঁজে পায়। এসব কারখানামালিকের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করা হয়েছিল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুষ্টিয়ার ছয়টি উপজেলায় অন্তত হাজারতিনেক শ্যালোইঞ্জিনের গাড়ি ব্যবহৃত হচ্ছে ‘স্টিয়ারিং ট্রলি’ নামে। বাকি দুই হাজারের মতো অন্যান্য নাম ও কাঠামোয়। এ ছাড়া প্রতিদিন বাইরে থেকে প্রবেশ করা গাড়ির সংখ্যা আরও অন্তত হাজারখানেক। সব মিলিয়ে ৬ হাজারের মতো শ্যালোর গাড়ি প্রতিনিয়ত চলছে জেলার সব ধরনের সড়ক-মহাসড়কে।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত দুই মাসে কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। জানুয়ারি মাসে ৪ স্কুলশিক্ষার্থীসহ ১২ এবং ফেব্রুয়ারি মাসে নিহত হয়েছে ৫ শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১৮ জন। এর মধ্যে শ্যালোইঞ্জিনচালিত স্টিয়ারিং ট্রলির চাপায় মারা গেছে অন্তত ৬ জন।
উদ্বেগজনক তথ্য হলো, কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের অন্তত ৬০ ভাগ শ্যালোর গাড়ি সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনা থেকে। বাকি ৪০ ভাগের অধিকাংশ ডাম্প ট্রাকের দখলে। ভয়াবহতার তালিকায় রয়েছে দ্রুতগতির মোটরসাইকেল এবং অপ্রশিক্ষিত চালকের ইজিবাইক।
কুষ্টিয়ায় এ ধরনের ইঞ্জিনে তৈরি গাড়ি মূলত পণ্য পরিবহন, গবাদিপশু পরিবহন, নির্মাণসামগ্রী পরিবহন, বালু পরিবহন, ইটভাটায় মাটি সরবরাহ ও মাটি পরিবহনকাজে ব্যবহার হয়ে আসছে। বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এ ধরনের ইঞ্জিনে তৈরি গাড়ি কতটা যৌক্তিক জানতে চাইলে কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের মেকানিক্যাল টেকনোলজি বিভাগের চিফ ইনস্ট্রাক্টর বিপুল কুমার কুণ্ড বলেন, লোহা-লক্কড় ব্যবহার করে গড়িয়ে দিতে পারলেই গাড়ি হবে না। এসব গাড়ির প্রকৌশলগত কোনো উপযুক্ত ব্যাখ্যা নেই। এগুলো বিপজ্জনক এবং সড়কে দুর্ঘটনা ত্বরান্বিত করছে।
বেশ কয়েকজন চালক ও শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গাড়ির ইঞ্জিনের বিকট শব্দে চালকের আসনে বসে চলতি অবস্থায় আশপাশের কোনো হর্ন বা চিৎকার শোনা সম্ভব নয়। ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার বেগের ওপরে থাকলে ব্রেক করে গাড়ি থামাতে বেশ সময় ও দীর্ঘ জায়গা প্রয়োজন হয়, যা ব্যস্ত সড়কে প্রায় অসম্ভব। পাশাপাশি ডান-বাঁয়ে গাড়ি ঘোরার যে পদ্ধতি তাতেও মাপজোখের অনিশ্চয়তা রয়েছে। চালক ও সহযোগীর আসনে সার্বক্ষণিক অসহনীয় ঝাঁকুনি থাকে।
এসব গাড়ির স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ইমাম জানান, জনসাধারণের স্বাস্থ্যঝুঁকি তো রয়েছেই। পাশাপাশি চালকের চেম্বারের ভাইব্রেশন, হিট, শব্দ ও রাসায়নিক মস্তিষ্ক থেকে শুরু করে দেহের সব মূল অর্গানসহ সারা দেহে ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করবে। কার্সিনোজেনিক ইফেক্টে ক্যানসারের ঝুঁকিও রয়েছে। স্বাভাবিক বয়সের তুলনায় স্বাস্থ্য দ্রুত বৃদ্ধ হবে।
সার্বিক বিষয়ে কথা হলে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, ‘এটা সারা দেশে অবৈধভাবে চলছে। জিরো টলারেন্সে নেওয়া কঠিন ব্যাপার। কোনো এলাকাবাসী লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা সেটার ব্যবস্থা নেব।’

শ্যালোইঞ্জিনের ওপর নানা কাঠামো বসিয়ে তৈরি করা হয় রকমারি গাড়ি। নছিমন, করিমন, ভটভটি, স্টিয়ারিং ট্রলি, লাটাহাম্বার মতো অদ্ভুত নাম নিয়ে কুষ্টিয়ার সড়ক-মহাসড়কগুলোতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এই অবৈধ যান। এর কারণে প্রতিবছর জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে।
সচেতন সমাজ ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শ্যালোর গাড়ির দৌরাত্ম্যে সড়কে লাশের মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। গুরুতর আহত অবস্থায় পঙ্গুত্ব সঙ্গী করে জীবনযাপনের সংখ্যাও কম নয়। অদ্ভুত এই গাড়ির কোনো প্রকৌশলগত ব্যাখ্যা নেই। গাড়িচালকের প্রশিক্ষণও নেই। এগুলো ব্যবহার হয় শুধু মাত্রাতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের চক্রে। নিয়ন্ত্রণ নেই সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের।
তথ্যসূত্রে জানা গেছে, দেশের সবচেয়ে বেশি অবৈধ যানবাহন তৈরির কারখানা রয়েছে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ভাদালিয়া বাজারে। পুরো জেলায় রয়েছে শতাধিক। এসব কারখানায় প্রতি মাসে শত শত নছিমন, করিমন, ট্রলি ও ভটভটি তৈরি হচ্ছে। চীন থেকে শ্যালোইঞ্জিন এনে নিজেদের মতো যানবাহন তৈরি করে বাজারজাত করা হচ্ছে। এমনকি ছোট ছোট ট্রাক তৈরি করা হচ্ছে এসব কারখানায়, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
২০২০ সালে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে কুষ্টিয়া জেলা থেকে সব ধরনের অবৈধ যান তৈরির কারখানা বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছিল জেলা পুলিশ। সে সময় জেলার সব নছিমন, করিমন ও ভটভটি তৈরির কারখানামালিককে ডেকে সময় বেঁধে দিয়েও কাজ হয়নি। ওই সময় পুলিশ জেলায় ৭০টি কারখানা খুঁজে পায়। এসব কারখানামালিকের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করা হয়েছিল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুষ্টিয়ার ছয়টি উপজেলায় অন্তত হাজারতিনেক শ্যালোইঞ্জিনের গাড়ি ব্যবহৃত হচ্ছে ‘স্টিয়ারিং ট্রলি’ নামে। বাকি দুই হাজারের মতো অন্যান্য নাম ও কাঠামোয়। এ ছাড়া প্রতিদিন বাইরে থেকে প্রবেশ করা গাড়ির সংখ্যা আরও অন্তত হাজারখানেক। সব মিলিয়ে ৬ হাজারের মতো শ্যালোর গাড়ি প্রতিনিয়ত চলছে জেলার সব ধরনের সড়ক-মহাসড়কে।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত দুই মাসে কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। জানুয়ারি মাসে ৪ স্কুলশিক্ষার্থীসহ ১২ এবং ফেব্রুয়ারি মাসে নিহত হয়েছে ৫ শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১৮ জন। এর মধ্যে শ্যালোইঞ্জিনচালিত স্টিয়ারিং ট্রলির চাপায় মারা গেছে অন্তত ৬ জন।
উদ্বেগজনক তথ্য হলো, কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের অন্তত ৬০ ভাগ শ্যালোর গাড়ি সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনা থেকে। বাকি ৪০ ভাগের অধিকাংশ ডাম্প ট্রাকের দখলে। ভয়াবহতার তালিকায় রয়েছে দ্রুতগতির মোটরসাইকেল এবং অপ্রশিক্ষিত চালকের ইজিবাইক।
কুষ্টিয়ায় এ ধরনের ইঞ্জিনে তৈরি গাড়ি মূলত পণ্য পরিবহন, গবাদিপশু পরিবহন, নির্মাণসামগ্রী পরিবহন, বালু পরিবহন, ইটভাটায় মাটি সরবরাহ ও মাটি পরিবহনকাজে ব্যবহার হয়ে আসছে। বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এ ধরনের ইঞ্জিনে তৈরি গাড়ি কতটা যৌক্তিক জানতে চাইলে কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের মেকানিক্যাল টেকনোলজি বিভাগের চিফ ইনস্ট্রাক্টর বিপুল কুমার কুণ্ড বলেন, লোহা-লক্কড় ব্যবহার করে গড়িয়ে দিতে পারলেই গাড়ি হবে না। এসব গাড়ির প্রকৌশলগত কোনো উপযুক্ত ব্যাখ্যা নেই। এগুলো বিপজ্জনক এবং সড়কে দুর্ঘটনা ত্বরান্বিত করছে।
বেশ কয়েকজন চালক ও শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গাড়ির ইঞ্জিনের বিকট শব্দে চালকের আসনে বসে চলতি অবস্থায় আশপাশের কোনো হর্ন বা চিৎকার শোনা সম্ভব নয়। ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার বেগের ওপরে থাকলে ব্রেক করে গাড়ি থামাতে বেশ সময় ও দীর্ঘ জায়গা প্রয়োজন হয়, যা ব্যস্ত সড়কে প্রায় অসম্ভব। পাশাপাশি ডান-বাঁয়ে গাড়ি ঘোরার যে পদ্ধতি তাতেও মাপজোখের অনিশ্চয়তা রয়েছে। চালক ও সহযোগীর আসনে সার্বক্ষণিক অসহনীয় ঝাঁকুনি থাকে।
এসব গাড়ির স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ইমাম জানান, জনসাধারণের স্বাস্থ্যঝুঁকি তো রয়েছেই। পাশাপাশি চালকের চেম্বারের ভাইব্রেশন, হিট, শব্দ ও রাসায়নিক মস্তিষ্ক থেকে শুরু করে দেহের সব মূল অর্গানসহ সারা দেহে ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করবে। কার্সিনোজেনিক ইফেক্টে ক্যানসারের ঝুঁকিও রয়েছে। স্বাভাবিক বয়সের তুলনায় স্বাস্থ্য দ্রুত বৃদ্ধ হবে।
সার্বিক বিষয়ে কথা হলে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, ‘এটা সারা দেশে অবৈধভাবে চলছে। জিরো টলারেন্সে নেওয়া কঠিন ব্যাপার। কোনো এলাকাবাসী লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা সেটার ব্যবস্থা নেব।’

যশোরে গত এক বছরে খুন হয়েছেন অন্তত ৬২ জন। অধিকাংশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বিদেশি পিস্তল। সীমান্ত দিয়ে যে হারে অস্ত্র ঢুকছে, সেই তুলনায় উদ্ধার তৎপরতা কম। এমন বাস্তবতায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
৫ ঘণ্টা আগে
রবিশস্য ও বোরো মৌসুম চলছে। দেশের উত্তরাঞ্চলের কৃষিপ্রধান জেলা নীলফামারীতে মাঠজুড়ে কৃষকের ব্যস্ততা। আলু, গম, ভুট্টা, শাকসবজি ও বোরো ক্ষেতে সেচ ও পরিচর্যায় সময় কাটছে কৃষকদের। তবে এই ব্যস্ততার আড়ালে চলছে আরেক লড়াই—সার সংগ্রহের। আবাদের জন্য প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না অনেক কৃষক।
৫ ঘণ্টা আগে
বরিশাল নগরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের রুপাতলীতে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী লালার দীঘি দখলবাজির কারণে ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। দীঘিটির দক্ষিণ পাড়ের ৫০ শতাংশ জায়গা পাইপের মাধ্যমে ভরাট করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে বরিশাল নগরের রুপাতলী হাউজিং স্টেট কর্তৃপক্ষ। এ জন্য দীঘির বিশাল অংশ নিয়ে তারা পাইলিংও দিয়েছে।
৫ ঘণ্টা আগে
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পার্বত্য রাঙামাটি আসনের ভোটে বড় ফ্যাক্টর আঞ্চলিক দল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) অংশ নিচ্ছে না। এতে জয়ের পাল্লা ভারী হয়েছে বিএনপির। এদিকে জেএসএসের রাজনীতিতে একসময় যুক্ত থাকা স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমাও আছেন আলোচনায়।
৫ ঘণ্টা আগে