Ajker Patrika

পানছড়ির দুর্গম সীমান্তে বিজিবির মানবিক সেবা: নলকূপ, ফ্রি চিকিৎসা ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

পানছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি 
পানছড়ির দুর্গম সীমান্তে বিজিবির মানবিক সেবা: নলকূপ, ফ্রি চিকিৎসা ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ
দুর্গম পাহাড়ের অধিবাসীদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে বিজিবি-৩ এর সদস্যরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে বিশুদ্ধ পানির জন্য নলকূপ স্থাপন, বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবা এবং শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি-৩)। আজ রোববার দিনব্যাপী এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

ছোট তারাবন চড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত মেডিকেল ক্যাম্পে বিজিবি-৩ এর মেডিকেল অফিসার মেজর মো. নাইমুল মুশফিক নাঈম এবং পানছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. ফজলুল বারী জিহান শতাধিক অসহায় ও অসুস্থ মানুষকে বিনা মূল্যে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করেন।

পরে জগৎ মোহন পাড়ায় স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনে একটি নলকূপ স্থাপন করা হয়।

এ ছাড়া কৃষক-কৃষাণীদের মাঝে ছাতা এবং ছোট তারাবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে খাতা, কলমসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেন বিজিবি-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা, বিশুদ্ধ পানি ও শিক্ষা উপকরণের ঘাটতি দীর্ঘদিনের সমস্যা। বিজিবির এ ধরনের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবের পাশাপাশি সরকারি সেবার সুফল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ছোট তারাবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিরঞ্জন চাকমা বলেন, “দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের জন্য বিজিবির এই মানবিক উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা সহায়তা শিশুদের ভবিষ্যৎ গঠনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এমন কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে তা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”

বিজিবি-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম বলেন, “সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি জনসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনাও বিজিবির দায়িত্বের অংশ। পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও মৌলিক চাহিদা পূরণে আমরা সব সময় পাশে থাকার চেষ্টা করি। ভবিষ্যতেও স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের সহযোগিতায় এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

রবিউল ইসলাম আরও বলেন, “জনগণের আস্থা ও অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই সীমান্ত এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিজিবি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।”

এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য রুপক চাকমাসহ গণ্যমান্য ব্যক্তি ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত