Ajker Patrika

সালিসে উত্তেজিত বক্তব্যের ভাইরাল ভিডিও, ব্যাখ্যা দিলেন এমপি হানজালা

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি
সালিসে উত্তেজিত বক্তব্যের ভাইরাল ভিডিও, ব্যাখ্যা দিলেন এমপি হানজালা
পীরজাদা মাওলানা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা। ছবি: সংগৃহীত

মাদারীপুর-১ আসনের ১১ দলীয় জোট-সমর্থিত সংসদ সদস্য পীরজাদা মাওলানা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালার একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওর খণ্ডিত অংশে তাঁকে একটি সালিস বৈঠকে উত্তেজিত হয়ে কথা বলতে দেখা যায়।

জানা গেছে, চাচাতো ভাইদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ ও মারামারির ঘটনায় ওই সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তাঁকে মধ্যস্থতার জন্য ডাকা হয়।

ভাইরাল ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘কথা বললেন কেন? আপনারা এখানে কাউন্টার দিলেন কেন?’ পরে টেবিল চাপড়ে তিনি বলেন, ‘এই মিয়া চুপ করেন, আমি বিচার করার জন্য এসেছি। কাউন্টার দিলে আমি দিব।’

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনামূলক মন্তব্য করছেন।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে পীরজাদা হানজালা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘প্রায় এক মাস আগে দত্তপাড়া এলাকায় একটি সালিসে গিয়েছিলাম। আসলে তারা আমাকে ছাড়া সালিসে বসবেই না। অনেক অনুরোধের পর আমি সালিসে উপস্থিত হই। সালিসের একপর্যায়ে দুই পক্ষই তর্কে জড়িয়ে পড়ে। আমি উপস্থিত থাকা অবস্থায় কোনো কথা না শুনেই তারা তর্ক করে। বিষয়টা নিয়ে প্যাঁচাপেঁচি শুরু করে। তখন আমি তাদের থামাতে উত্তেজিত স্বরে কথা বলি। এমনকি সালিস থেকে চলেও আসতে চাই। পরে তারা থেমে যায়।’

হানজালা আরও বলেন, ‘সেখানে অসংখ্য লোক ছিল। শেষ পর্যায়ে আমরা ভালো একটা সমাধানে আসি। পরস্পরের দ্বন্দ্বের অবসান হয়। এই ভিডিওর কিছু অংশই কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভাইরাল করে।’

জানা গেছে, উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নে গত ২২ মে পারিবারিক বিরোধ নিয়ে মারামারি-সংক্রান্ত বিষয়ে একটি সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন এমপি সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা, দত্তপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক তারামিয়াসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি। দুই পক্ষের অভিযোগ উপস্থাপনের সময় গ্রামের প্রচলিত নিয়মভঙ্গের কারণে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা।

ভুক্তভোগী পক্ষের প্রতিনিধি তারামিয়া বলেন, ‘ঘটনাটি প্রায় এক মাস আগের। ওই সালিস বৈঠকে অনেক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বিচার চলাকালে আমার সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। তিনি অভিযোগ করেন, এমপি সাহেব বিচারের মধ্যে অন্য কাউকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে একতরফাভাবে রায় দেওয়ার চেষ্টা করেন। আমি এর প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।’

তারামিয়া আরও বলেন, ‘যেখানে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে সালিস অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে বিচার নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন যুক্তি ও মতামত আসতেই পারে। একজন বিচারকের দায়িত্ব হলো সেসব কথা ধৈর্যসহকারে শোনা। তা না হলে সেটি জনসম্মুখের সালিস না হয়ে ঘরোয়া বা একতরফা বিচার হয়ে যায়।’

এদিকে গতকাল শনিবার (২০ জুন) বিকেলে উপজেলার বন্দরখোলা ইউনিয়নের কাজিরসূরা এলাকায় এক সভায়ও এমপি হানজালা ভাইরাল ভিডিও প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা দেন বলে জানা গেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত