
গাইবান্ধার কৃষকেরা এখন ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ধানের এই মৌসুমে দিনভর কাজ করলেও তাঁদের মুখে কোনো হাসি নেই। কৃষকেরা বলছেন, বৃষ্টিতে নিচু জমির ধান তলিয়েছে। অন্যদিকে বেশি মজুরি দিয়ে শ্রমিক রাখার সাধ্যও তাঁদের নেই। পানিতে নেমে নিজেরা তাই ধান কাটছেন। আবার বাজারে ধানের দর কম। কৃষকেরা বলছেন, সরকার কৃষকদের ধান ক্রয় না করলে এবং বাজারে দাম না বাড়লে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বেন তাঁরা। এ ছাড়া পানিতে অনেক ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সারা বছরের খোরাকিতে টান পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ বছর চড়া দামে জ্বালানি তেল, সার ও বীজ কিনে ফসল আবাদ করেছেন কৃষকেরা। দফায় দফায় ডিজেল সংকটের মুখে পড়েছেন। হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে ফসল ঘরে তোলার আগেই বৃষ্টিতে সব তছনছ হয়ে গেছে।
কৃষকেরা বলছেন, বিঘাপ্রতি ৫-৬ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হবে। সরকার মণপ্রতি ১ হাজার ৪৫০ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও বাজারে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে ধান বিক্রি হচ্ছে। সরকারি গোডাউনে ধান দিতে গেলে নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়ছেন তাঁরা।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার মালীবাড়ীর কৃষক আফসার মিয়া বলেন, ‘ধানের দাম কমে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে। হালচাষ, সেচ, সার, কীটনাশক সবকিছুর খরচ বেড়েছে। দোকানের ধারদেনা, ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’
পলাশবাড়ীর আলেয়া বেওয়া বলেন, ‘এবার ঝড় বাতাসোত সক ধানে শুতে গেছে। মোর এখান ৪০ শতক জমি। ধানের গোলাত পানি উঠছে। এই জমির ধান মুই সারা বছর খাম। কৃষাণের যে দাম। কৃষাণ দিয়ে কাটে নিলে যেক না ধান পাম। শোককোনা ধান বেচলেও কৃষাণের ট্যাকা দিতেই যাবে। তাই কষ্ট করে হলেও মোর ব্যাটিছল কোনা নিয়ে কাটতেছোম। তারপরও এবার মোর খোরাকোত টান ধরবে।’
আরেক কৃষক জমির আলী বলেন, ‘বাজারোত ধানের দাম নাই বললেই চলে। খরচের ট্যাকা তোলার জন্য সরকারের ঘরোত ধান দিলে কিছুটা ক্ষতি কম হলো হয়। চার দিন ঘুরছোম অনলাইন নাকি বন্ধ।’
সুন্দরগঞ্জের কৃষক ছালাম মিয়া বলেন, গত কয়েক বছরে ধান উৎপাদনের খরচ কয়েক গুণ বেড়েছে। কিন্তু বাজারমূল্য সেই তুলনায় বাড়েনি, বরং অনেক ক্ষেত্রে কমেছে। ফলে বিনিয়োগের টাকা ঘরে তুলতেই হিমশিম খাচ্ছি।
সাঘাটার কৃষক ওমর ফারুক বলেন, ‘সরকারের গুদামে ধান দেওয়ার জন্য ঘুরছি। ইউনিয়ন পরিষদসহ কয়েক দোকানে গেলাম। সফটওয়্যার নাকি বন্ধ। যারা গতবার করতে পারছে, তারাই ঢুকতে পারছে। আমরা নতুন করে আবেদন করব, তাদের হচ্ছে না।’
গাইবান্ধা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, জেলায় চলতি মৌসুমে ৯ হাজার টন ধান ক্রয় করা হবে। কৃষকেরা অনলাইনে আবদেন করবেন। লটারির মাধ্যমে যাঁদের নাম উঠবে, তাঁদের ধান নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ‘সফটওয়্যারের যদি সমস্যা হয়, সারা দেশের একই অবস্থা। গাইবান্ধার জন্য আলাদা সফটওয়্যার নয়। যাঁরা আবেদন করতে পারছেন না, তাঁদের চেষ্টা করতে হবে। এটা আমার হাতের কাজ নয়।’
গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণের উপপরিচালক মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে ১ লাখ ২৯ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে উচ্চফলনশীল ও দেশীয় জাতের ধান আবাদ করা হয়েছে। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে কিছু ধান নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই কৃষকেরা তাঁদের কষ্টার্জিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পান। এবার ফলন ভালো হওয়ায় শুরুতে কৃষকদের মুখে হাসি থাকলেও বর্তমান বাজারদর নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন।’ তাপমাত্রা ভালো থাকলে কৃষকেরা ধানের ন্যায্য দাম পাবেন বলে আশা করছেন তিনি। যদি ফসলের ন্যায্য দাম না মেলে, তাহলে আগামী দিনে কৃষিকাজে আগ্রহ হারাবেন এই জনপদের কৃষকেরা।

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে সীমান্তে ঘাস কাটাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় ও বাংলাদেশিদের মধ্যে উত্তেজনার ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
৬ মিনিট আগে
গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকায় নির্মাণের কিছুদিনের মধ্যেই একটি পাকা সড়ক ধসে পড়ার ঘটনায় দুই প্রকৌশলীকে বরখাস্তের আদেশ দিয়েছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ওই ঘটনার দেড় মাস না যেতেই গত সোমবার ওই দুই প্রকৌশলীকে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করে...
১২ মিনিট আগে
ভারতে অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে আটক হওয়া ৫ থেকে ১০ বছর বয়সী ২০ বাংলাদেশি শিশুকে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফেরত পাঠানো হলো। আজ বুধবার সন্ধ্যায় ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব শিশুকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে।
১৫ মিনিট আগে
কোস্ট গার্ড ভোলা ও মৎস্য অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে গতকাল মঙ্গলবার (১২ মে) রাত ১০টায় ভোলা সদর উপজেলার পানপট্টি বাজার-সংলগ্ন এলাকায় সন্দেহজনক তিনটি ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ কোটি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ১০ হাজার ১৪০ কেজি সামুদ্রিক ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়।
৩৫ মিনিট আগে