Ajker Patrika

জুলাই শহীদ বোরহানের মরদেহ উত্তোলনে পরিবারের আপত্তি

সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি 
আপডেট : ২৪ জুন ২০২৬, ২২: ৫৪
জুলাই শহীদ বোরহানের মরদেহ উত্তোলনে পরিবারের আপত্তি
জুলাই শহীদ বোরহানের কবরের পাশে ম্যাজিস্ট্রেটসহ অন্যরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

ফেনীর সোনাগাজীতে জুলাই শহীদ আবদুল গণি বোরহানের লাশ উত্তোলনে পরিবারের সদস্যরা আপত্তি জানিয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের আপত্তিতে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন না করে ফিরে গেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যরা।

আজ বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে ঢাকার রমনা থানার এসআই মো. হানিফের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ফেনীতে যায়। তখন ফেনী জেলা প্রশাসক কর্তৃক মনোনীত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সোনাগাজীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইউসুফ মিয়া লাশ উত্তোলন করতে কবরস্থানে যান। সেখানে বোরহানের ভাই আমানত উল্যাহ লাশ উত্তোলনে আপত্তি জানিয়ে লিখিত আবেদন করেন। তিনি বলেন, দুই বছর আগে বোরহানের লাশ দাফন করা হয়েছে।

ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর দেহাবশেষ উত্তোলন করলে ধর্মীয়, সামাজিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মানসিক অনুভূতিতে আঘাত আসবে। তাই তিনি ফেনী জেলা প্রশাসকের কাছে লাশ উত্তোলন না করতে একটি লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইউসুফ মিয়া বলেন, ‘আদালতের আদেশে ফেনী জেলা প্রশাসকের মনোনীত ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কবর থেকে বোরহানের লাশ তুলতে যাই। সেখানে তাঁর পরিবারের সদস্যরা আপত্তি জানালে আমি জেলা প্রশাসককে বিষয়টি জানিয়ে লাশ উত্তোলন না করে ফিরে আসি।’

নিহত বোরহানের বড় ভাই আমানত উল্যাহ বলেন, সন্ধানী লাইফ ইনস্যুরেন্সের ঢাকার বাংলামোটর শাখায় আইটি কর্মকর্তা ছিলেন বোরহান। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট অফিসের কাজ শেষ করে বাংলামোটর জামে মসজিদের সামনে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগ দেন তিনি।

আমানত উল্যাহ আরও বলেন, বিকেল ৪টার দিকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কর্মীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বোরহান। উপস্থিত লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাতে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এই ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা না করলেও রমনা থানা-পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করে।

জানা গেছে, সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের ছাড়াইতকান্দি গ্রামের মৃত মাস্টার আহসান উল্যাহর ছেলে আবদুল গণি বোরহান। ছোটবেলা থেকে মেধাবী ছাত্র ছিলেন তিনি। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর পাস করেন। স্থানীয়ভাবে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত