Ajker Patrika

শান্তি প্রতিষ্ঠায় নবী (সা.)-এর যুগান্তকারী ৪ উদ্যোগ

ফয়জুল্লাহ রিয়াদ
শান্তি প্রতিষ্ঠায় নবী (সা.)-এর যুগান্তকারী 
৪ উদ্যোগ
ছবি: সংগৃহীত

নবীজি (সা.)-এর প্রতিটি পদক্ষেপই ছিল বিশ্বশান্তি ও সংঘাত নিরসনের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা। ঐতিহাসিক চার ধাপে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় তাঁর যুগান্তকারী অবদান নিচে

তুলে ধরা হলো:

১. হিলফুল ফুজুল গঠন: মাত্র ১৫ বছর বয়সে ‘হারবুল ফুজ্জার’ বা অন্যায় যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে তিনি ব্যথিত হন। সংঘাত বন্ধ, দুর্বল ও এতিমদের সাহায্য এবং দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মক্কার যুবকদের সংগঠিত করে গড়ে তোলেন ইতিহাসের প্রথম শান্তি সংঘ ‘হিলফুল ফুজুল’, যা প্রায় ৫০ বছর ধরে সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখে।

২. ঐতিহাসিক মদিনা সনদ: মদিনায় হিজরতের পর মুসলিম, অমুসলিম ও বিবদমান আউস-খাজরাজ গোত্রের মধ্যে ঐক্য গড়তে ৪৭ ধারার একটি সনদ প্রণয়ন করেন। এটি পৃথিবীর প্রথম লিখিত সংবিধান, যা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সকল নাগরিকের সমান অধিকার সুনিশ্চিত করে।

৩. হুদাইবিয়ার সন্ধি: ৬২৮ খ্রিষ্টাব্দে আপাতদৃষ্টিতে একপেশে মনে হলেও কেবল শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে কুরাইশদের সঙ্গে ১০ বছরের যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করেন। পবিত্র কোরআন এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তকে ‘প্রকাশ্য বিজয়’ বলে ঘোষণা করে, যা পরে মক্কা বিজয়ের দ্বার উন্মুক্ত করে দেয়।

৪. ক্ষমার নজির—মক্কা বিজয়: রক্তপাতহীন মক্কা বিজয়ের পর দীর্ঘদিনের নির্যাতনকারী শত্রুদের কোনো প্রতিশোধ না নিয়ে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। এই নজিরবিহীন মহানুভবতা প্রমাণ করে তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল ক্ষমা ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠা।

মহানবী (সা.) ছিলেন এক অতুলনীয় রাষ্ট্রনায়ক ও শান্তির প্রতীক। বর্তমান সংঘাতময় বিশ্বে শান্তি ও সম্প্রীতি ফেরাতে তাঁর দেখানো পথই অন্যতম সমাধান।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত