Ajker Patrika

রাঙামাটিতে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র খুন, দায় স্বীকার করে পুলিশে আত্মসমর্পণ যুবকের

রাঙামাটি প্রতিনিধি 
আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১৪: ১৯
রাঙামাটিতে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র খুন, দায় স্বীকার করে পুলিশে আত্মসমর্পণ যুবকের
দায় স্বীকার করা যুবক স্বপন চাকমা। ছবি: সংগৃহীত

রাঙামাটি সদর উপজেলার জীবতলী ইউনিয়নের হেডম্যান পাড়ায় রূপন চাকমা (১২) নামে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রকে ছুরিকাঘাত ও গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে স্বপন চাকমা (২২) পুলিশের কাছে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছেন।

সোমবার বিকেল ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রূপন চাকমা পার্শ্ববর্তী কাপ্তাই ইউনিয়নের হরিণছড়ার বাজ্জেতুলি গ্রামের বাসিন্দা লক্ষ্মীধন চাকমার ছেলে। পড়াশোনার সুবিধার জন্য সে জীবতলী ইউনিয়নের হেডম্যান পাড়ায় তার খালু অশ্বিনী কুমার চাকমার (৫০) বাড়িতে থাকত।

আত্মসমর্পণকারী স্বপন চাকমা অশ্বিনী কুমার চাকমার প্রতিবেশী রিময় লাল চাকমার ছেলে। অশ্বিনী কুমার ও রিময় লাল দুজনই পেশায় জেলে ও কৃষক।

জীবতলী ইউনিয়নের হেডম্যান হিটলার দেওয়ান জানান, সোমবার বিকেলে অশ্বিনী কুমার ও তাঁর স্ত্রী এবং রিময় লাল ও তাঁর স্ত্রী কেউই বাড়িতে ছিলেন না। তাঁরা বাড়ির বাইরে ছিলেন। এ সময় দুই বাড়িতে রূপন ও স্বপন ছিলেন।

এই সুযোগে স্বপন রূপনকে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাত ও গলা কেটে হত্যা করেন বলে অভিযোগ। পরে মরদেহটি রূপনের থাকার কক্ষের খাটের (চৌকি) নিচে লুকিয়ে রেখে স্বপন কাপ্তাই নৌবাহিনী ক্যাম্পসংলগ্ন পুলিশের কাপ্তাই সার্কেলের কার্যালয়ে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

সেখানে পুলিশকে ঘটনার কথা জানালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরে পুলিশ ও হেডম্যান ঘটনাস্থলে গিয়ে রূপনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘স্বপন চাকমা আমার কার্যালয়ে এসে ঘটনা বলতে থাকে। তার কথাবার্তা শুনে প্রথমে আমি অবাক হয়েছিলাম। পরে জীবতলী হেডম্যান হিটলার দেওয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি জানাই। এরপর হেডম্যানসহ পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করি।’

স্বপন চাকমা মানসিক ভারসাম্যহীন কি না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সে মূলত ছোট বাচ্চাদের সঙ্গে মেশে। তার একটি নৌকা ছিল। মাছ ধরে এবং বাজারে যায়। তবে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকে না। আলাদাভাবে রান্না করে খায়। তার কাছে ১০ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। দুই দিন আগে সে মাছ ধরার নৌকাটি বিক্রি করে এবং কাপ্তাই বাজার থেকে একটি ছুরি কিনে আনে। ওই ছুরি দিয়েই রূপনকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।’

হেডম্যান হিটলার দেওয়ান বলেন, স্বপন চাকমাকে পুরোপুরি মানসিক ভারসাম্যহীন বলা যায় না। তিনি বিভিন্ন জায়গায় শ্রমিকের কাজ করেন, মাছ ধরেন, বাজারে যান এবং কেনাবেচা করেন। মোবাইল ফোনও ব্যবহার করেন। তবে মাঝেমধ্যে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন। কোনো কারণে রূপনের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহেদুল ইসলাম আরও বলেন, ‘স্বপন আমার কার্যালয়ে আসার পথে সেনাবাহিনী, আনসার বা নৌবাহিনীর সদস্যদের কাছেও যেতে পারত। কিন্তু সে তাদের কাছে না গিয়ে পুলিশের কাছে এসেছে। সে জানে এ ধরনের কাজ পুলিশ করে। তাই স্বপন চাকমা পুরোপুরি মানসিক ভারসাম্যহীন—এটা বলা যাচ্ছে না। ভুক্তভোগীর সঙ্গে কোনো বিষয়ে তার ক্ষোভ থেকে এ ঘটনা ঘটতে পারে।’

তিনি জানান, মরদেহ উদ্ধার করে স্বপন চাকমাকে রাঙামাটি কোতোয়ালি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় স্বপন চাকমাকে আটক করা হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত