Ajker Patrika

খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার আসামিকে পদ: ফেনীতে যুবদলের কমিটি স্থগিত

ফেনী প্রতিনিধি
খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার আসামিকে পদ: ফেনীতে যুবদলের কমিটি স্থগিত
গাজী এনামুল হক সুজন। ছবি: সংগৃহীত

ফেনীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় করা মামলার এক আসামিকে ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক করা নিয়ে তীব্র আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ফেনী পৌর যুবদলের কমিটি স্থগিত করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে শোকজ করা হয়েছে। এ ছাড়া অভিযুক্ত ব্যক্তিকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার ও ঘোষিত ফেনী পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।  

আজ রোববার (৩ মে) দুপুরে কেন্দ্রীয় যুবদলের সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।  

দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ এপ্রিল ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারী স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে ফেনী পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডের কমিটি গঠন করা হয়। এতে পৌর ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের আট সদস্যের কমিটিতে গাজী এনামুল হক সুজনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। পরে বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় করা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি সুজনকে কমিটিতে পদ দেওয়া নিয়ে জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় গতকাল শনিবার (২ মে) ঘোষিত ওই কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া অন্য ছয়জন পদত্যাগ করেন।

পরে কেন্দ্রীয় যুবদলের পক্ষ থেকেও এক বিজ্ঞপ্তিতে ফেনী পৌর যুবদলের কমিটি স্থগিত ও ঘোষিত সব ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ফেনী জেলা যুবদলসহ সংশ্লিষ্ট সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ফেনী পৌর যুবদলের বিদ্যমান কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ কমিটির কার্যক্রম স্থগিত থাকবে এবং গত ৩০ এপ্রিল ফেনী পৌর যুবদলের ঘোষিত ওয়ার্ড কমিটিসমূহ বিলুপ্ত করা হলো।

একই বিজ্ঞপ্তিতে কমিটিতে পদ পাওয়া অভিযুক্ত গাজী এনামুল হক সুজনকে তথ্য গোপন করে দলের পদ নেওয়ায় প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের কোনো ধরনের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নেবে না। যুবদলের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের তাঁদের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বিজ্ঞপ্তিতে ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে শোকজ করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, ফেনী পৌরসভার ঘোষিত ওয়ার্ড কমিটিতে ২০১৭ সালে বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় করা মামলার আসামি এনামুল হক সুজনকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করার মতো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত অনুমোদন করায় ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি এ কে এম জাহিদ হোসেন বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারীকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সম্মুখে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো। জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন ইতিমধ্যে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে ফেনীর মহিপাল এলাকায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় করা মামলায় এজাহারভুক্ত ২৮ জন আসামির তালিকায় এনামুল হক সুজনের নাম ২৫ নম্বরে রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যমুনা হাই ডিলাক্স পরিবহনের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিলন বাদী হয়ে এ মামলা করেন।  

ঘোষিত ওই কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি গাজী আবদুল কাদের নয়ন বলেন, ‘কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুজন আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরাও ওই দলের রাজনীতিতে সক্রিয়। ৫ আগস্টের পর তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। কমিটিতে আমি সভাপতি পদপ্রত্যাশী ছিলাম, কিন্তু কমিটিতে এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাঁরা বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ ধরনের ব্যক্তিদের নেতৃত্বে রাজনীতি করা সম্ভব নয় বলেই আমরা তাৎক্ষণিক পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।’

অভিযুক্ত এনামুল হক সুজন বলেন, ‘পুরো ঘটনাটি মূলত পারিবারিক প্রতিহিংসার ফল। কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি গাজী আবদুল কাদের নয়ন আমার জেঠাতো ভাই এবং এই কমিটির প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন। আমাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক জায়গা-জমিসংক্রান্ত বিরোধ চলছে। ৫ আগস্টের পরপর আমার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় একটি মিথ্যা মামলা করা হয়। এ ঘটনায় দল থেকেও তখন প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল।’

ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলু বলেন, ৫ আগস্টের পর শ্রমিক লীগ নেতা আবুল কাশেম মিলন বাদী হয়ে বেগম খালেদা জিয়ার ওপর হামলার অভিযোগে একটি মামলা করেন, যেখানে সুজনকে আসামি করা হয়েছে। তখন এই বিষয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল। বিষয়টি জেলা বিএনপি ও যুবদল অবগত আছে। এ ঘটনা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।  

এ ব্যাপারে জেলা যুবদলের সদস্য (দপ্তরের দায়িত্বে নিয়োজিত) মো. আল ইমরান বলেন, কেন্দ্রীয় যুবদলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ঘোষিত ফেনী পৌর যুবদলের ১২টি ওয়ার্ডের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ফেনী পৌর যুবদলের কমিটি স্থগিত করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে শোকজ এবং সুজনকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

আইন অনুযায়ী নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভর্সিটিতে যুক্ত করা হবে

নুসরাতের গেজেট স্থগিত করতে ইসিতে মনিরার চিঠি

বাধ্যতামূলক অবসরে আরও ১৭ পুলিশ কর্মকর্তা

মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল অস্ত্র বিক্রির তোড়জোড় ট্রাম্পের, অন্যদিকে অবরোধ ভেঙে ইরান-ইরাক-সিরিয়া অক্ষের উত্থান

বুড়ো বয়সে আমাকে দেখার আশায় সন্তানকে বড় করিনি: অঞ্জন দত্ত

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত