
গুম প্রতিরোধ ও বন্ধে সরকার যে নতুন আইন করতে যাচ্ছে, তাতে ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী ও গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, প্রস্তাবিত গুম প্রতিরোধ আইন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনের কয়েকটি ধারা সংস্কার না হলে গুম আবার ফিরে আসতে পারে। দরজা খোলা রেখে বন্ধ করার কথা বলার মতো হবে আইনটি।
রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবে আজ শনিবার আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। এতে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও গুমবিষয়ক তদন্ত কমিশনের সদস্যরা অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, জনপ্রতিনিধিদের কাজ নিরাপত্তা বাহিনীকে তুষ্ট করা নয়, জনগণের স্বার্থরক্ষা করা। প্রস্তাবিত আইন পাস হলে উচ্চবিত্ত বা সমাজে পরিচিত কেউ গুমের শিকার হলে গণমাধ্যম ও জনমতের চাপে কিছুটা সুরাহা মিলতে পারে। কিন্তু প্রান্তিক ও দরিদ্র মানুষ ভুক্তভোগী হলে, তা নানা কারণে কঠিন হবে। সরকার গুম না করার প্রতিশ্রুতি দিলেও আইনে ‘ছাড়’ বা ‘খোলা পথ’ রাখা হয়েছে, যা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থার জন্য হুমকি।
বক্তারা অভিযোগ করেন, কোনো ভুক্তভোগী গুমের অভিযোগ করার পর তদন্তে তা সত্য প্রমাণিত না হলে উল্টো অভিযোগকারীকে শাস্তির আওতায় আনার বিধান রাখা হয়েছে। এতে গুম বা নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা বিচার চাইতে ভয় পাবেন।
গুমবিষয়ক তদন্ত কমিশনের সাবেক সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস বলেন, গুমসংক্রান্ত আইন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনের ১৪ ও ১৯ ধারায় বড় ধরনের ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ রয়েছে। নিরাপত্তা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে স্বাধীন তদন্তের সুযোগ রাখা হয়নি। মানবাধিকার কমিশন আইনের ১৯ ধারা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে কমিশন সরাসরি তদন্ত করতে পারে না; অভিযুক্ত বাহিনীর কাছেই প্রতিবেদন চাইতে হয়। নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় কালক্ষেপণের সুযোগ থাকে। আবার সুপারিশ পাঠানোর পরও ৪৫ দিন অপেক্ষা করতে হয়, যা প্রমাণ নষ্টের জন্য যথেষ্ট।
এইচআরএসএসের উপদেষ্টা মো. নূর খান বলেন, গুম না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও আইনে এমন ‘খোলা পথ’ রাখা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি।
আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম বলেন, একাধিক সংস্থা গুমের সঙ্গে জড়িত ছিল। নতুন বাংলাদেশেও গুম, নির্যাতন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহির অভাব দেখা যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর নিয়ন্ত্রণে আনা জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব।
চলতি বছরের ১০ এপ্রিল বাগেরহাটের মোংলার জয়মনি এলাকার জেলে ও মোটরসাইকেল রাইডার মিরাজ শেখকে স্থানীয় কোস্ট গার্ডের পন্টুনে তুলে নেওয়ার অভিযোগের কথা উল্লেখ করে শহিদুল আলম বলেন, তাঁর পরিবার বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হয়েছে। হাইকোর্টও মিরাজকে খুঁজে বের করে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
অনুষ্ঠানে মিরাজের বোন লিজা ইসলাম বলেন, ‘আমার ভাইকে ফেরত চাই। এখনো আমরা তাঁকে ফেরত পাইনি।’ আর কোনো সন্তান যেন গুমের শিকার না হয়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিখোঁজ ছাত্র মুহাম্মদ মুকাদ্দাস হোসেনের চাচা আবদুল হাই বলেন, বাংলাদেশ যেন দ্বিতীয়বার গুমের শিকার না হয়—এটাই সরকারের কাছে তাঁদের চাওয়া।
ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম বলেন, বিএনপি সরকার গুমসংক্রান্ত তাদের নতুন আইন পাস করলে গুম বন্ধ হবে না, বরং গুমের পথ সুগম হবে।
ব্লাস্টের অনারারি নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, আইনটি প্রয়োজন, তবে কয়েকটি ধারা পরিবর্তন করা দরকার।
ওএইচসিএইচআরের সহকারী মানবাধিকার কর্মকর্তা সাবরিনা আহমেদ বলেন, সরকার আইন মেনে চললে গুমের মতো ঘটনা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন হবে না বলে তিনি আশা করেন।
আলোচনায় গুমে জড়িত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সবার শাস্তি দাবি করেন স্বজনেরা। গুমের শিকার ইদ্রিস আলী পান্নার ছেলে মামুনুর রশিদ বলেন, ‘আমরা এখনো অনিরাপদ।’ মামলা করেও অগ্রগতি না হওয়া এবং এলাকায় যেতে না পারার কথা জানিয়ে তিনি অপরাধীদের শাস্তির আওতায় এনে এমন আইন করার দাবি জানান।
আলোচনায় এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে মিরাজ শেখসহ আওয়ামী লীগ আমলে নিখোঁজদের খুঁজে বের করা, স্বাধীন তদন্ত, গুম কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন বাস্তবায়নে রোডম্যাপ, গুমের ঘটনায় বিচার, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন (২০২৬) সংশোধন, মানবাধিকার কমিশনের প্রকৃত স্বাধীনতা এবং ভুক্তভোগী ও পরিবারের ‘সঠিক জানার অধিকার’ নিশ্চিতসহ ১২ দফা দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
এইচআরএসএসের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম সমাপনী আলোচনা করেন। আরও বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর শাইখ মাহদীসহ অন্যরা।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেছেন, দেশের প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় মিনি স্টেডিয়ামের পরিবর্তে একটি পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ জন্য সম্ভাব্য তিনটি....
৪০ মিনিট আগে
খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু ও হামের উপদ্রব অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আজ শনিবার খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।
১ ঘণ্টা আগে
লক্ষ্মীপুরে সুপারি গাছে না ওঠায় রিশাদ হোসেন (১২) নামে এক শিশুকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর থেকে ঘাতক রুবেল হোসেন পলাতক রয়েছেন। আজ শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চররুহিতা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
২ ঘণ্টা আগে
নিহত ফজল আমিন নগরীর ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় করা মামলায় মো. শাহজাহান নামের বিএনপির এক কর্মীসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে