Ajker Patrika

প্রতিপক্ষ পেছন দিক থেকে আঘাত করার অপচেষ্টা করছে: রিজওয়ানা হাসান

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার ও জাবি প্রতিনিধি
আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১: ০৩
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। ছবি: আজকের পত্রিকা
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। ছবি: আজকের পত্রিকা

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ‘প্রতিপক্ষ সংগঠিত এবং পেছন দিক থেকে আঘাত করার অপচেষ্টা করছে। এর বিপরীতে আমাদের আরও বেশি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং আমরা তা করছি। আমরা নিরাপত্তা আরও জোরদার করছি।’

আজ মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তথ্য উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘৫৪ বছর পরেও যখন একটা গণ-অভ্যুত্থান হতে হয়, তার অর্থ হচ্ছে একাত্তরের যে স্বপ্নটা আমাদের ছিল, যে বিশ্বাসটা আমাদের ছিল, যে প্রত্যাশাটা আমাদের ছিল, রাষ্ট্র সেই প্রত্যাশাটা পূরণ করতে পারেনি। আমরা আশা করি, এই নির্বাচনের মাধ্যমে একটা ভিত্তি স্থাপন হবে। যেই ভিত্তিটা গণতন্ত্রকে যেমন সুদৃঢ় করবে, তেমনি জনগণের কাছে সরকারকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করবে এবং একই সঙ্গে একটি বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার স্বপ্নটা আমাদের এখনো অধরাই রয়ে গেছে। এর মাধ্যমে আমাদের পূর্ণতার যাত্রা শুরু করতে পারব।’

রাজনীতিতে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য অনেক সময় যুক্তিতর্ক না করে হত্যাচেষ্টাকে একটা অস্ত্র হিসেবে গ্রহণ করা হয়, যা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও কাপুরুষোচিত বলে মন্তব্য করেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে এটা একটা খুবই দুঃখজনক বিষয় যে আমাদের প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য অনেক সময় দেখা যায়, আমরা যুক্তিতর্ক না করে হত্যাচেষ্টাকে একটা অস্ত্র হিসেবে গ্রহণ করি। এটা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও কাপুরুষোচিত, এটার মধ্যে তো কোনো বীরত্ব নেই, আপনার যদি শক্তি থাকে, আপনি জনগণের মুখোমুখি হন, জনগণের মুখোমুখি কীভাবে হতে হয়, একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে তো সবার কাছে স্পষ্ট। সেটা না করে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার এই যে একটা রাজনৈতিক সংস্কৃতি চলে এসেছে, এটা কোনোভাবেই নতুন বাংলাদেশে গ্রহণ করার কোনো সুযোগ দেখতে পাচ্ছি না।’

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘নিরাপত্তা দেওয়ার যতটা স্বাভাবিক প্রস্তুতি থাকে, সবটুকু স্বাভাবিক প্রস্তুতি আমাদের আছে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ের আঘাতটা নিয়ে স্বাভাবিক প্রস্তুতির চেয়েও বেশি কিছু আমাদের নিতে হবে। কারণ, প্রতিপক্ষ আরও বেশি সংগঠিত এবং সে পেছন দিক থেকে আঘাত করছে।’ তিনি বলেন, ‘এই যে পেছন দিক থেকে আঘাত, এটার বিপরীতে আমাদের আরও বেশি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আমরা নিরাপত্তা আরও জোরদার করছি।’

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা আজকে এমন একটা সন্ধিক্ষণে আছি, যেখানে আমরা একটা শাসনব্যবস্থাকে পেছনে ফেলে নতুন করে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করব। সেখানে ফেব্রুয়ারি মাসে আমাদের নির্বাচন আছে, আমরা খুবই আশা করছি, নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের পথে সুদৃঢ় একটা যাত্রা আমরা শুরু করব। এ জন্য কেবল একটা নির্বাচনই হচ্ছে না, সঙ্গে গণভোটও হচ্ছে।’

সবকিছু বিবেচনায় অন্তর্বর্তী সরকার সফল নাকি ব্যর্থ—এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বটা নিয়েছিলাম, তখন একটা একেবারে ভেঙে পড়া অবস্থায় আমরা কাজটা শুরু করেছি। সেই ভেঙে পড়া অবস্থাকে জোড়া লাগিয়ে রাষ্ট্রটাকে আবার একটা যাত্রার দিকে নিয়ে যাওয়াই ছিল আমাদের কাজ। আমরা সেই কাজটা করেছি। সেখানে আমি এই সরকারকে ব্যর্থ বা সফল কোনোটা বলারই সুযোগ দেখতে পাচ্ছি না। এ সরকার তখনই সফল হবে, যখন দেখা যাবে যে উদ্দেশ্য নিয়ে এই সরকারের যাত্রা—একটা সুষ্ঠু নির্বাচন, বিচার করা এবং সংস্কার করা; সেই কাজগুলো সম্পন্ন হয়েছে।’

রিজওয়ানা হাসান আরও বলেন, ‘আমাদের প্রচেষ্টা হচ্ছে, সুষ্ঠু একটা নির্বাচন হবে। স্বতঃস্ফূর্তভাবে লোকে ভোট দিতে পারবে, শান্তিপূর্ণভাবে লোকে ভোট দিতে পারবে। এখন এটাকে ব্যহত করার জন্য একটা শক্তি সমাজে কাজ করছে। সে শক্তিটাকে একই সঙ্গে আমাদের প্রতিহত করতে হচ্ছে এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হচ্ছে। আমাদের প্রত্যাশার জায়গা থেকে আমরা বলে দিতে পারি, আমরা শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু, স্বতঃস্ফূর্ত একটা নির্বাচনের দিকে তাকাচ্ছি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

বরগুনার তালতলী: খাল খননে দায়সারা কাজ

  • সামান্য খনন করে খালের বাঁধ কেটে পানি প্রবেশ করানো হচ্ছে।
  • খননে উপকার হবে না বলে অভিযোগ কৃষকদের।
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি 
দায়সারা খনন করে খালের বাঁধ কেটে পানি প্রবেশ করানো হচ্ছে। গতকাল বরগুনার তালতলী উপজেলার বথিপাড়া খালের অংকুজানপাড়া এলাকায়। ছবি: আজকের পত্রিকা
দায়সারা খনন করে খালের বাঁধ কেটে পানি প্রবেশ করানো হচ্ছে। গতকাল বরগুনার তালতলী উপজেলার বথিপাড়া খালের অংকুজানপাড়া এলাকায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

বরগুনার তালতলী উপজেলার ৯টি খাল খননে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উপজেলা সদস্য ও নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান বাচ্চু ও তাঁর লোকজন খালগুলো খনন করছেন। দায়সারা খনন করে খালের বাঁধ কেটে পানি প্রবেশ করানো হচ্ছে; যাতে খাল খননের অনিয়ম ধরা না পড়ে। এ খননে কোনো উপকার হবে না বলে মনে করছেন কৃষকেরা।

জানা গেছে, জলবায়ু ও দুর্যোগ-সহনশীল ক্ষুদ্রাকার পানিসম্পদ প্রকল্পের অর্থায়নে নলবুনিয়া সমবায় সমিতির আওতায় ১৭ হাজার ৫৫২.৫ মিটার খাল খননের প্রকল্প নেওয়া হয়। বরগুনা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী এ খাল খননের কাজ দেখভাল করেন। নলবুনিয়া খাল, চিলু মাঝির খাল, সুন্দরিয়া খাল, সুন্দরিয়া শাখাখাল, তাঁতিপাড়া খাল, চামোপাড়া খাল, মৌরাবির খাল, বথিপাড়া খাল ও পাওয়াপাড়া-মোয়াপাড়া খাল খননে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৩৭ হাজার ৮৮৩ টাকা।

সমিতির লোকজনের খাল খননের কথা থাকলেও নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান বাচ্চু তাঁর লোকজন দিয়ে খাল খনন করাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, ৯টি খাল খননে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে। নামমাত্র খাল খনন করে খালের বাঁধ ছেড়ে দিয়ে পানি ঢোকানো হচ্ছে, যাতে বিষয়টি ধরা না পড়ে। এ খাল খননের সঙ্গে কামরুজ্জামান বাচ্চুর সিন্ডিকেট জড়িত। তাঁরাই ঠিকাদার, তাঁরাই সমিতির সভাপতি-সম্পাদক, আবার তাঁরাই স্বাক্ষর দিয়ে বরাদ্দ টাকা উত্তোলন করেন।

গত রোববার তাঁতিপাড়া, চামোপাড়া, মৌরাবির, বথিপাড়া ও পাওয়াপাড়া-মোয়াপাড়া খাল ঘুরে দেখা গেছে, ভেকু মেশিন দিয়ে খাল খনন করছেন চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান বাচ্চুর লোকজন। একদিকে ভেকু মেশিন দিয়ে খাল খনন করছেন, অন্যদিকে খালের বাঁধ কেটে পানি প্রবেশ করাচ্ছেন। খাল খনন তদারকির জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অফিসের কেউ নেই।

বথিপাড়া খালপাড়ের বাসিন্দা হাবিব হাওলাদার, মো. মুছা, আব্দুল খালেক ও আব্দুল মান্নান জানান, চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান বাচ্চু ও প্যানেল চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম নামমাত্র খাল খনন করছেন। খালের দুই পাড়ের কিছু মাটি তুলে নিচ্ছেন। গভীর করে খাল খনন হচ্ছে না।

স্থানীয়রা আরও জানান, যেভাবে খাল খনন করছে, তাতে কৃষকদের কোনো উপকারে আসবে না। বৃষ্টি শুরু হলেই পাড়ের মাটিতে খাল ভরে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে।

প্যানেল চেয়ারম্যান মো. রফিবুল ইসলাম বলেন, ‘চেয়ারম্যান আমাকে যেভাবে খাল খনন করতে বলেছেন, আমি সেভাবে খনন করছি।’ খাল খননকাজ শেষ না হতেই কেন বাঁধ কেটে দিয়ে খালে পানি প্রবেশ করানো হচ্ছে, এমন প্রশ্নের কোনো জবাব দিতে পারেননি তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান বাচ্চু বলেন, ‘ঠিকমতো খাল খনন করছি। খননের কাজ স্থানীয় সরকারি উপজেলা প্রকৌশলী, বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক পরিচালক দেখভাল করছেন। কিছু অনিয়ম থাকলেও তা সংশোধন করা হবে।’

তালতলী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত অর্ধেক বিল দেওয়া হয়েছে। কাজের অনিয়মের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি তা এড়িয়ে গিয়ে বলেন, স্থানীয় কৃষকেরা পানি চলাচল করতে খালের বাঁধ কেটে দিয়েছেন।

বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান বলেন, অনিয়মের বিষয় খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রকল্প পরিচালক এনামুল কবির বলেন, ‘খাল খননের অনিয়মের একটি বিষয়ে আমি অবগত আছি। ওই স্থানে কালভার্ট করে দেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

  • আম চাষে বাড়ছে উৎপাদন খরচ।
  • বিরূপ আবহাওয়া নিয়ে উদ্বেগ।

আম বাগান: ভালো ফলন ও দাম নিয়ে শঙ্কা কৃষকের

আব্দুল বাশির, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের হোসেনডাঙ্গা এলাকার একটি আমবাগানে গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত চাষি। গত শুক্রবার তোলা ছবি। আজকের পত্রিকা
চাঁপাইনবাবগঞ্জের হোসেনডাঙ্গা এলাকার একটি আমবাগানে গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত চাষি। গত শুক্রবার তোলা ছবি। আজকের পত্রিকা

আমের রাজধানীখ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জে গাছে গাছে দোল খাচ্ছে আমের মুকুল। সোনালি মুকুলে ভরে উঠেছে আমবাগানগুলো। তবে আবহাওয়া বিরূপ হলে আমের ফলন কেমন হবে তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা। সেই সঙ্গে বাগান চাষে বাড়ছে উৎপাদন খরচ। তাই আম বিক্রি করে উৎপাদন খরচ উঠিয়ে শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত লাভের মুখ দেখতে পারবেন কি না, তা নিয়েও চিন্তিত কৃষকেরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমচাষি ও বাগানমালিকেরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। অভিজ্ঞ চাষিদের মতে, মুকুলের এ সময়টিই নির্ধারণ করে পুরো মৌসুমের লাভ-লোকসান। তাই গাছের রোগবালাইসহ পোকা দমনে সেচ, স্প্রে দেওয়ার পাশাপাশি বাড়তি পরিচর্যায় কোনো কমতি রাখতে চাচ্ছেন না তাঁরা।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টরে আমের চাষ করা হয়েছে। এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ১৮ হাজার ৫০০ টন।

হোসেনডাঙ্গা এলাকার উদ্যোক্তা বুলবুল আহম্মেদ বলেন, ‘শীত বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে আগাম মুকুল আমাদের নতুন আশা দেখাচ্ছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক মাত্রায় বালাই ব্যবস্থাপনা করছি, যাতে ফলন ভালো হয় এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো যায়।’

শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট এলাকার আমচাষি মাসুদ বলেন, সময়মতো শীতের বিদায়, কুয়াশাহীন পরিবেশ, উপযুক্ত তাপমাত্রা ও পর্যাপ্ত রোদের কারণে এবার প্রতিটি বাগানেই ভালো মুকুল এসেছে। তিনি বলেন, এখন যদি ঝড়বৃষ্টি কিংবা বড় কোনো রোগবালাই না আসে, তাহলে ফলন ভালো হওয়ার আশা আছে।

গোমস্তাপুর উপজেলার আম উদ্যোক্তা রুবেল আলী বলেন, ‘মুকুলের এ সময়টাই সবচেয়ে স্পর্শকাতর। তাই দিনরাত সেচ, স্প্রে আর পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। তবে ভালো ফলন ও ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে আমাদের বড় দুশ্চিন্তা রয়েছে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম মানিক বলেন, ‘ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে এ শিল্প আজ চ্যালেঞ্জের মুখে।’

শিবগঞ্জ ম্যাংগো প্রডিউসার কো-অপারেটিভ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন শামীম খান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি বালাইনাশক, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। ফলে বিনিয়োগ বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত লাভ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. ইয়াছিন আলী বলেন, ‘কৃষকদের বালাইনাশক যত্রতত্র মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার না করে জৈব বালাইনাশক এবং ব্যাগিংয়ের মাধ্যমে নিরাপদ এবং পুষ্টিকর আম উৎপাদনের পরামর্শ দিচ্ছি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

কুমিল্লার দেবিদ্বার: সময় বেঁধে দেওয়ার পরও দখলমুক্ত হয়নি ফুটপাত

  • সংসদ সদস্যের তিন দিনের আলটিমেটাম, সাত দিন পেরিয়ে গেলেও ফুটপাতে বহাল ব্যবসায়ীরা।
  • ক্ষণে ক্ষণে যানজটের সৃষ্টি, ভোগান্তি পথচারী ও চালক-যাত্রীদের।
  • কিচেন মার্কেটে ৬ মাস বিনা ভাড়ায় ব্যবসার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হলেও আগ্রহ নেই।
দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি  
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার নিউমার্কেট এলাকায় ফুটপাতের ওপর দোকান বসিয়েছে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা। এতে যানজটের সৃষ্টি হয়। গত সোমবার বিকেলে তোলা ছবি। আজকের পত্রিকা
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার নিউমার্কেট এলাকায় ফুটপাতের ওপর দোকান বসিয়েছে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা। এতে যানজটের সৃষ্টি হয়। গত সোমবার বিকেলে তোলা ছবি। আজকের পত্রিকা

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় দোকান ব্যবসায়ীদের তিন দিনের মধ্যে ফুটপাত ছাড়ার জন্য সময় বেঁধে (আলটিমেটাম) দিয়েছিলেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ (মো. আবুল হাসনাত)। নির্বিঘ্নে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলের সুবিধার্থে ফুটপাত দখলকারীদর গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি এই আলটিমেটাম দিয়েছিলেন। কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার সাত দিন পেরিয়ে গেলেও ফুটপাত দখলমুক্ত হয়নি।

দেবিদ্বার নিউমার্কেট এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, ক্ষুদ্র ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা আগের মতো ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। পথচারীদের চলাচলে ভোগান্তি অব্যাহত রয়েছে। সড়ক সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় ক্ষণে ক্ষণে যানজটেরও সৃষ্টি হচ্ছে।

জানা গেছে, ব্যবসায়ীদের জন্য পুরান বাজারে পৌরসভার নির্মিত কিচেন মার্কেটে ৬ মাস বিনা ভাড়ায় ব্যবসার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হলেও তাঁরা সেখানে যেতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। অন্যদিকে জেলা পরিষদ মার্কেটের নিচতলার অংশ প্রস্তুত করার কাজ চলতে দেখা গেছে।

ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করা কয়েকজন বলেন, আমরা এখান থেকে সরে গেলে ব্যবসা হবে না। যদি কাঁচাবাজার, মাছ-মাংস ও সবজির বাজারসহ সবকিছু একসঙ্গে স্থানান্তর করা হয়, তাহলে আমরাও সেখানে যাব।

এর আগে ২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে আইনশৃঙ্খলা সভায় এবং বিকেলে বাজার পরিদর্শনে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি তিন দিনের মধ্যে ফুটপাত ছেড়ে নির্ধারিত স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানান।

এ সময় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে ফুটপাত দখলে রেখে ব্যবসা পরিচালনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নাগরিক সুবিধা বিঘ্নিত করে কোনোভাবেই ফুটপাতে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না। ব্যবসায়ীদের জেলা পরিষদ মার্কেট অথবা পৌরসভার মার্কেটে বসতে হবে। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম বলেন, পুরান বাজারের পৌরসভার কিচেন মার্কেটে ব্যবসায়ীরা ৬ মাস বিনা ভাড়ায় ব্যবসা করতে পারবেন।

তবে সংসদ সদস্যের ঘোষণার বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, ‘জেলা পরিষদ মার্কেট নিয়ে প্রশাসনিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি ব্যক্তিগতভাবে কিছু বলে থাকলে, সেটি তাঁর বক্তব্য। ইজারা ছাড়া জেলা পরিষদ মার্কেটে কাউকে বসানোর এখতিয়ার আমাদের নেই।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

মন ভালো করা সম্প্রীতির ছবি

শরীফ নাসরুল্লাহ, ঢাকা
স্টলে দুই খুদে পাঠক। গতকাল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অমর একুশে বইমেলা প্রাঙ্গণে। ছবি: আজকের পত্রিকা
স্টলে দুই খুদে পাঠক। গতকাল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অমর একুশে বইমেলা প্রাঙ্গণে। ছবি: আজকের পত্রিকা

গতকাল মেলায় প্রবেশ করতেই ঢাকের মৃদু আওয়াজ। রমনা কালীমন্দিরের দিকে বেশ ভিড়। সেখানে উপস্থিত লোকজনের পরনে নতুন জামাকাপড়। অনেকের মুখে আবিরের রং। দোলযাত্রায় আসা পুণ্যার্থী তারা। সেখান থেকে দুই তরুণী মেলায় ঢুকে পড়লেন হাতে আবির নিয়ে। খানিক মাখিয়ে দিলেন বন্ধুদের। আবিরের সেই রং যেন ছড়িয়ে পড়ল পুরো মেলায়। একদিকে মুসলিমদের পবিত্র মাহে রমজান, অন্যদিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের পরব দোলযাত্রার আনন্দ আর সর্বজনীন উপলক্ষ একুশের চেতনার আলো মিলেমিশে একাকার। গতকাল বইমেলা প্রাঙ্গণে এই সম্প্রীতির ছবি মন ভালো করে দিল।

বেসরকারি কলেজের শিক্ষার্থী প্রীতি ধর বান্ধবী সুমনা বিশ্বাসকে নিয়ে দোলযাত্রা উপলক্ষে মন্দিরে এসেছিলেন। উৎসবে হাজিরা দিয়ে এসেছেন বইমেলায়। সুমনা বললেন, ‘দোলযাত্রায় এসেছিলাম। ভাবলাম, এসেছি যখন, বইমেলা ঘুরে যাই। এবার অত ভিড় নেই বলে ভালো লাগছে।’

বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আর ধর্মীয় উৎসব-পার্বণের সহাবস্থানের কথা তুললে সুমনা বললেন, ‘আমাদের তো কখনোই মনে হয় না আলাদা। আমার অনেক মুসলমান বান্ধবী আছে। আমরা একসঙ্গেই বেড়ে উঠেছি। এটাই তো আমাদের বাংলাদেশ।’

একটি স্টলের সামনে সারিতে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছিলেন ধর্মীয় শিক্ষায়তনের পোশাক পরা বেশ কয়েকজন তরুণ। জানা গেল, তানজিমুল উম্মাহ আলিম মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তারা। মাদ্রাসাটির কর্মকর্তা আব্দুল আলীম ছিলেন তাদের সঙ্গে। তিনি জানালেন, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের বইয়ের দিকে আগ্রহী করতে বইমেলায় নিয়ে আসেন। একেক দিন একেক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসেন।

গতকাল মেলার মূলমঞ্চে ছিল আমাদের অন্যতম জাতীয় নেতা তাজউদ্দীন আহমদের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে অনুষ্ঠান। সেখানে লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ইতিহাস আমাদের এমন কিছু সময় ও ঘটনার মুখোমুখি করে, যেটাকে আমরা বলি ক্রান্তিকাল। তাজউদ্দীন আহমদ এমনই একটি সময়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন ১৯৭১ সালে। ওই সময়টি তাঁর এবং সমগ্র জাতির জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। তাজউদ্দীন আহমদ রাজনীতিতে যত দিন সক্রিয় ছিলেন, তত দিন মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন।’

অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান বলেন, ‘তাজউদ্দীন আহমদ যেভাবে ধীরে ধীরে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পর্যায়ে উঠে এসেছিলেন, তা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিশীলিত মনোভাব, শিক্ষিত মনন ও দূরদৃষ্টিই তাঁকে নেতা করে তুলেছিল।’

নতুন বইয়ের খোঁজে

গতকাল অমর একুশে বইমেলার ষষ্ঠ দিনে তথ্যকেন্দ্রে নতুন বই জমা পড়েছে ৬৫টি। কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত, চিত্তরঞ্জন দাস, আবদুল হামিদ খান ভাসানী, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া ও ড. এ আর মল্লিককে নিয়ে ৬টি প্রবন্ধের সংকলন এনেছে আগামী প্রকাশনী। ‘মজলুম জনতার মওলানা ভাসানী ও অন্যান্য প্রবন্ধ’ নামে বইটির লেখক অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেয়ালে দেয়ালে লেখা স্লোগান আর গ্রাফিতি নিয়ে ‘মুক্তির দেয়াল: বর্ষা বিপ্লবের দ্রোহলিপি’ নামের অ্যালবাম বের করেছে ঐতিহ্য।

গানের মানুষ শিল্পী লুৎফর হাসান এবারের বইমেলায় হাজির হয়েছেন কবিতা নিয়ে। ‘জীবন ফুরিয়ে যাচ্ছে তোমাকে পাচ্ছি না’ শিরোনামে বইটি বের করেছে অন্যপ্রকাশ।

বনজঙ্গল ও রহস্যরোমাঞ্চ নিয়ে লেখালেখি করা ইশতিয়াক হাসানের দুটি বই এনেছে কথাপ্রকাশ। ব্রিটিশ প্রকৃতিবিদ ও লেখক জর্জ পি স্যান্ডারসনের বইয়ের অনুবাদ ‘বাংলার পাহাড়ে-জঙ্গলে: ঢাকা থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম’ এবং বিশ্বের নানা বিচিত্র বিষয় নিয়ে সংকলন ‘অদ্ভুত ৫০’। দেড় শ বছর আগের গহিন বনে ঢাকা অতি দুর্গম পার্বত্য চট্টগ্রামকে খুঁজে পাওয়া যাবে ‘বাংলার পাহাড়ে-জঙ্গলে: ঢাকা থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম’ বইটিতে। কথাপ্রকাশের স্টলের সামনে থাকা লেখক ইশতিয়াক জানালেন, ‘অশুভ পাহারাদার’ নামে তাঁর ‘নাহিদ দ্য ইনভেস্টিগেটর’ সিরিজের নতুন বই এসেছে ঐতিহ্য প্রকাশনী থেকে।

অন্যান্য আয়োজন

‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন আলী আহমদ। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি সাখাওয়াত টিপু। আবৃত্তি পরিবেশন করেন এ কে এম দিদার উদ্দিন ও অনন্যা লাবণী। এ ছাড়া ছিল জারিন তাসনিম ঐশ্বর্যর পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ঐকান্তিক শিল্পীগোষ্ঠী’ এবং দীপ্তি রাজবংশীর পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘বাংলাদেশ লোকসঙ্গীত পরিষদ’-এর পরিবেশনা।

আজ বুধবার মেলা শুরু হবে বেলা ২টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত