
রাজধানীর তুরাগে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের আড্ডার অভিযোগে একটি উন্মুক্ত লাইব্রেরিতে হামলা ও ভাঙচুরের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতারা মামলা করেছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতাদের ওপর হামলায় অভিযোগে এই মামলা করা হয়। তবে লাইব্রেরি ভাঙচুর এবং লুটপাটের অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ কিছুই জানে না বলে জানিয়েছে।
ডিএমপির তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম আজ শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) আজকের পত্রিকাকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে তুরাগের ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্প (রুয়াপ) সেন্ট্রাল মাঠসংলগ্ন কামিনী ভবনের সামনে বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। রুয়াপের ভেতরের লাইব্রেরিতে আওয়ামী লীগের দোসররা আড্ডা দেয়—এমন অভিযোগ তুলে ভাঙচুর চালানো হয়। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হামলায় আহতরা হলেন বৈষম্যবিরোধীর তুরাগ থানার সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রিফাত হাসান সান (২৬), রাসেল হোসাইন (২৫), হাবিবুল বাশার (২৭), সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব আবরার হানিফ (২৭), খন্দকার সাকিবুল ইসলাম (২৪) ও শাহিন (২৫)। তাঁদের মধ্যে বাশার, রাসেল, সান ও আবরার গুরুতর আহত হয়। আহতরা প্রথমে উত্তরার কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন, পরে তাঁরা উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান।
এদিকে ভাঙচুরের সময় লাইব্রেরিতে থাকা বই, চেয়ার-টেবিল ও আসবাব লুটেরও অভিযোগ উঠেছে। লাইব্রেরিটি পরিচালনা করত ইউনাইটেড ব্রাদার্স ক্লাব।
এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে আহত হাবিবুল বাশার বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলায় বেআইনি জনতাবদ্ধ হয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করে হাড় ভেঙে দেওয়া, কাটা, রক্তাক্ত করা ও জখমের অভিযোগ আনা হয়। মামলায় মোস্তাফিজ হাফিজ সুনম (৪০), সাফিন হাসান অপূর্ব (২৮), শাহেদ বিন অনন্ত (২৪), রাকিব (২৭), তনয় (২৩), রক্সি (৪২), অনিক (৩০), মুসা (২৩) ও জীবনসহ (২২) অজ্ঞাতনামা ২৫-৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অপরদিকে লাইব্রেরি ভাঙচুরের ঘটনায় পরদিনই ইউনাইটেড ব্রাদার্স ক্লাবের সভাপতি আব্দুল্লাহ ফাহাদ তুরাগ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে বলা হয়, উন্মুক্ত লাইব্রেরি ও ইউনাইটেড ক্লাবের অস্থায়ী অফিসকক্ষে ভাঙচুর চালিয়ে লাইব্রেরিতে থাকা বই, ৪০টি চেয়ার, ৫টি টেবিল, ৪টি সিসিটিভি ক্যামেরা, একটি হার্ডডিস্ক, একটি রাউটার, ক্লাবের মাঠের ৩০টি ফ্লাডলাইট, ক্রিকেট খেলার সামগ্রীসহ প্রায় আড়াই লাখ টাকার মালপত্র লুট করা হয়েছে। তা ছাড়া অফিসকক্ষ ও লাইব্রেরি ভাঙচুরে আনুমানিক ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
থানা-পুলিশের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ কর্মকর্তা ও রুয়াপের একাধিক বাসিন্দা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বের জেরে “আওয়ামী লীগের দোসররা লাইব্রেরিতে আড্ডা দেয়” ট্যাগ দিয়ে উন্মুক্ত লাইব্রেরিতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে।’

মারামারি, হামলা ও ভাঙচুরের বিষয়ে তুরাগ থানার ওসি মনিরুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরে মারামারির ঘটনায় গত রাতে (শুক্রবার দিবাগত) মামলা হয়েছে। ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
লাইব্রেরি ভাঙচুরের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘এমন কোনো ঘটনা আমার জানা নাই।’
মারামারির প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওসি মনিরুল বলেন, ‘সন্ধ্যায় চায়ের দোকানে বসাবসি নিয়ে একটি গ্রুপের সঙ্গে গন্ডগোল হয়েছিল। পরে আবার মিউচুয়াল (সমঝোতা) হয়েছিল। পরে আবার রাতে মারামারি হয়েছিল। মারামারির পর এক গ্রুপ হাসপাতালে ভর্তি ছিল। ওই ঘটনায় মামলা হয়েছে।’
অপরদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তুরাগ থানার সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সিফাত হাসান মুন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘রুয়াপের ৫ নম্বর গেটের সামনে একটি দোকান আছে, সেখানে আমরা চা-টা খাই। সেখানে উত্তরার কামারপাড়া থেকে এক ছোট ভাই পারভেজ হাসান এসে চা খাচ্ছিল। ওই সময় ওই দোকানের একটি ছেলে সাইকেল নিয়ে তার টুলের (বেঞ্চ) ওপর তুলে দেয়। ছোট ভাই এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে দোকানের ছেলেটা পোলাপান ডাকিয়ে নিয়ে এসে ছোট ভাইয়ের ওপর হামলা করে। তারপর ছোট ভাইটি আমাদের ফোন দিলে আমাদের প্রতিনিধিরা পঞ্চবটী থেকে সেখানে গিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে।’
সিফাত হাসান মুন আরও বলেন, ‘ওই সময়ে ছাত্রলীগের পোলাপান সুনম ও তাঁর সহযোগীরা গিয়ে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলা, এটা-সেটা করার হুমকি দেয়। তখন আমাদের প্রতিনিধিরা বলে, আপনারা ছেলেটাকে ধরে মারছেন, আবার আপনারাই মামলা করেন, তাহলে বিষয়টি কী রকম হয়ে গেল না। পরে আমাদের প্রতিনিধিরা চলে আসে।’
সিফাত হাসান মুন আরও বলেন, ‘চলে আসার পর তারা (সুনমরা) আমাদের বৈষম্যবিরোধীর হাবিবুল বাশারকে হুমকি দিয়ে বলে, ‘৫ আগস্টের আগে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল ছিল, এরাই এখানকার রাজত্ব করতে পারবে। বৈষম্যবিরোধী বলতে কোনো কিছু থাকবে না। সবকিছু আমাদের রাজত্বে হবে।’ তখন গালি দিয়ে বাশার বলে, ‘তোমরা...। ৫ আগস্টের পূর্বে খুঁজে পাওয়া যায় নাই। এখন তোমরা নেতা হইছো।’ একপর্যায়ে সুনমরা থ্রেট (হুমকি) দেয়। পরে আমাদের ভাইয়েরা রুয়াপে ঢুকলে তাদের ওপর ওরা ১৫-২০ মিলে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের পদধারী নেতা।’
সিফাত হাসান মুন আরও বলেন, ‘হামলাকালে সুনম কোমর থেকে কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় পিস্তল বের করে বাশারকে গুলি করতে যায়। তখন বৈষম্যবিরোধীর যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল তাকে (সুনমকে) বলে, ‘ভাই, আমরা তো নিরস্ত্র, আপনি কি এভাবে আমাদের মারতে পারেন?’ তখন সুনম বলে, ‘সানমুন, রাসেল, বাশারসহ পাঁচটা আছে, এদের ক্লিয়ার করতে পারলে বৈষম্যবিরোধী বলতে কিছু থাকবে না।’ এদিকে আমাদের লোকজন চলে আসলে ওরা (সুনমরা) দৌড়ে পালিয়ে যায়।’
সিফাত হাসান মুন আরও বলেন, পরে ওরা লাইব্রেরি থেকে চাপাতি, রামদা, লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করে। এদিকে হামলার বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে উত্তরা থেকে অনেক লোক এসে লাইব্রেরিসহ আশপাশের সব জায়গা তল্লাশি করে। তারপর তাদের খুঁজে পাচ্ছিল না। ওই সময় দেখা যায়, লাইব্রেরির ভেতরে অস্ত্র (চাপাতি, রামদা, স্ট্যাম্প, হকিস্টিক)। তখন লাইব্রেরিটি ভেঙে ফেলা হয়।’
মুন আরও দাবি করেন, ‘এই ক্লাবটাকে কেন্দ্র করে গন্ডগোল। বাইরে বইয়ের সারি রাখছে, আর ভেতরে ছিল মাদকের আখড়া। কিশোরেরা এসে এখানে মাদক সেবন করত। ক্লাবটা ভাঙাটাও খারাপ হইছে। যদিও এটি অবৈধ, অস্থায়ী। যদি ক্লাবের ভেতর থেকে আমাদের ভাইদের ওপর হামলা করা হইছে। কিন্তু ক্লাবের পোলাপান হামলা করেনি।’

বাগেরহাটের ফকিরহাটে ভৈরব নদ পুনঃখননে ব্যয় হয়েছিল ২৩ কোটি টাকা। লক্ষ্য ছিল নাব্যতা ফিরিয়ে এনে আশপাশের এলাকার জলাবদ্ধতা কমানো এবং নৌপথ সচল করা। কিন্তু খননের ছয় মাসের মধ্যেই নদ আবার পলি জমে ভরাট হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় নৌযান চলাচল।
১ ঘণ্টা আগে
কোলে দুই বছরের কন্যাশিশু। পরনে মলিন পোশাক। মাথার ওপর ছাদ বলতে চুয়াডাঙ্গা শহরের একটি সড়কের পাশের পরিত্যক্ত পানির ট্যাংকের একটুখানি ছাউনি। রোদ-বৃষ্টি কিংবা কনকনে শীত—সব আবহাওয়াতেই মা-মেয়ের ঠিকানা এই একচিলতে ফুটপাত।
২ ঘণ্টা আগে
পঞ্চগড়ে ১১টি সরকারি প্রাথমিক স্কুলের ওয়াশ ব্লক নির্মাণের মেয়াদ শেষ হলেও সাতটির কাজ এখনো শুরু হয়নি। এমনকি ওই সব স্কুলের প্রধান শিক্ষকেরা জানেন না এমন প্রকল্পের অনুমোদন হয়েছে। তাঁদের দাবি, বিদ্যালয়ের নামে দরপত্র হলেও এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। তাঁরা সম্পূর্ণ অন্ধকারে ছিলেন।
২ ঘণ্টা আগে
১৫০ বাংলো ও ৭০০ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট কোয়ার্টারে সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ৮টি গভীর নলকূপ এবং ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ৮টি ওভারহেড পানির ট্যাংক স্থাপন করা হয়েছিল। ৪০ বছর আগে এই ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে।
২ ঘণ্টা আগে