Ajker Patrika

পরকীয়া সন্দেহে কিশোর হত্যা, ৬ বছর পর রহস্য উদ্‌ঘাটনে পিবিআই

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
পরকীয়া সন্দেহে কিশোর হত্যা, ৬ বছর পর রহস্য উদ্‌ঘাটনে পিবিআই
বালিয়াকান্দিতে কিশোর ওমর আলী হত্যার অভিযোগে মো. নজরুল ইসলাম নামে একজকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। ছবি: সংগৃহীত

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে কিশোর ওমর আলী (১৪) হত্যা মামলার প্রায় ছয় বছর পর রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় মো. নজরুল ইসলাম (৪৮) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতে নেওয়া হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই। আজ বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করে পিবিআই।

পিবিআই জানায়, গত ৫ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে ঢাকার আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকার লাল মিয়া টাওয়ারের একটি ভাড়া বাসা থেকে নজরুলকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই ফরিদপুর জেলার বিশেষ তদন্ত দল।

পিবিআই আরও জানায়, ২০২১ সালের ৪ জানুয়ারি রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ঢোলজানী গ্রামের ঘাসের একটি খেত থেকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় কিশোর ওমর আলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন নিহতের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে বালিয়াকান্দি থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ওই বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি মামলাটির তদন্তভার নেয় পিবিআই ফরিদপুর জেলা।

তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, গ্রেপ্তার নজরুল নিহত ওমর আলীর গ্রাম্য সম্পর্কের নানা। ওমর ও মামলার অন্য আসামিরা পরস্পরের বন্ধু ছিলেন এবং নিয়মিত একসঙ্গে মাদক সেবন করতেন। তাদের মধ্যে দুজনের স্ত্রীর সঙ্গে ওমরের পরকীয়া সম্পর্ক ও সম্পর্ক তৈরির চেষ্টাকে কেন্দ্র করে বিরোধ হয়।

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দুই ব্যক্তি ওমরকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এ জন্য এক সহযোগীর সঙ্গে ৫০ হাজার টাকায় চুক্তি করা হয়। পরে বিষয়টি জানতে পেরে নজরুলও হত্যার পরিকল্পনায় যুক্ত হন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার রাতে ওমরকে পথ থেকে ধরে একজনের বাড়ির টয়লেটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নজরুল তার জামা খুলে মুখ-হাত বেঁধে দেন। পরে অন্যরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ওমরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ওমরকে একটি মুরগির খামারে নিয়ে আবারও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ ঘাসের খেতে ফেলে রেখে চলে যান তারা।

পিবিআই জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর নজরুলকে ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এরপর তিনি এলাকা ছেড়ে ঢাকায় চলে যান এবং অটোরিকশা চালাতে শুরু করেন।

পিবিআই ফরিদপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম বলেন, পেশাদার তদন্তের অন্যতম ভিত্তি হলো তথ্য ও আলামতের যথাযথ বিশ্লেষণ। এ মামলায় ক্রাইমসিন বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য, বিশ্বস্ত সোর্স ও বিভিন্ন নথির সমন্বয়ে তদন্ত করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য-আলামত এবং গ্রেপ্তার আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দিক উদ্‌ঘাটন হয়েছে।

তিনি বলেন, অপরাধীরা ঘটনার পর বিভিন্নভাবে তথ্য ও আলামত গোপনের চেষ্টা করতে পারে। তবে পেশাদার, তথ্যনির্ভর ও প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের মাধ্যমে অপরাধের রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব।

মামলায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত