Ajker Patrika

গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে সেন্ট মার্টিন বিচ্ছিন্ন, বন্ধ নৌযান চলাচল, বিদ্যুৎহীন দ্বীপে দুর্ভোগ

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি 
আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৬, ২০: ৫৭
গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে সেন্ট মার্টিন বিচ্ছিন্ন, বন্ধ নৌযান চলাচল, বিদ্যুৎহীন দ্বীপে দুর্ভোগ
সাগর উত্তাল হওয়ায় গত কয়েক দিন ধরেই প্রবাল দ্বীপটির সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ ও বৈরী আবহাওয়ায় টেকনাফের সেন্ট মার্টিন দ্বীপে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। টানা কয়েক দিন ধরে উত্তাল সাগরের কারণে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপটির সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথে সব ধরনের যাত্রীবাহী নৌযান ও ট্রলার চলাচল বন্ধ থাকায় খাদ্য, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। পুরো দ্বীপ বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

বিদ্যুৎ না থাকায় সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে সেন্ট মার্টিন। ল্যাম্প, মোমবাতি ও চার্জলাইটের ক্ষীণ আলোই এখন অনেক পরিবারের একমাত্র ভরসা। বৈরী আবহাওয়া, টানা বৃষ্টি ও উত্তাল সাগরের কারণে আতঙ্কের মধ্যে দিন-রাত পার করছে দ্বীপবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর জানান, টানা ভারী বৃষ্টি ও সাগরের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় দ্বীপের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে জোয়ারের পানি প্রবেশ করেছে। উপকূল রক্ষা বাঁধ না থাকায় অনেক বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। রাতে জোয়ারের পানি আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় অনেকেই নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।

দ্বীপে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্লু-মেরিন এনার্জি লিমিটেড সোলার ও জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে। তবে বৈরী আবহাওয়া, জ্বালানিসংকট ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে কয়েক দিন ধরে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না।

আরেক বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ বলেন, নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে বাসিন্দারা বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না। আবহাওয়ার দ্রুত উন্নতি না হলে সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়জুল ইসলাম বলেন, দ্বীপের মানুষ চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় পুরো দ্বীপ অন্ধকারে ডুবে আছে। উত্তাল সাগর ও জোয়ারের পানিতে ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় মানুষ রাতে ঘুমাতে পারছে না। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিজিবি ও কোস্ট গার্ড পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানানো হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত