Ajker Patrika

চট্টগ্রামে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে সমঝোতার অভিযোগ

কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 
চট্টগ্রামে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে সমঝোতার অভিযোগ
প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ইয়াছিন আরাফাত (২০) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনার পর আইনি পদক্ষেপের বদলে সালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা ও সমঝোতার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ ইসমাঈলের বিরুদ্ধে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার দিনই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গত বুধবার সকাল আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আজ রোববার সকালে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে আনোয়ারা থানায় একটি মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার ইয়াছিন আরাফাত উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দা।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে ইয়াছিন আরাফাত ওই স্কুলছাত্রীকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতেন এবং অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন। কিশোরী তাতে রাজি না হওয়ায় তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন তিনি।

এজাহার অনুযায়ী, গত বুধবার সকাল আটটার দিকে কিশোরীটি বাড়ি থেকে কোচিং সেন্টারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথে ওত পেতে থাকা ইয়াছিন তাকে জোরপূর্বক ও ভয়ভীতি দেখিয়ে স্কুলের পেছনে একটি নির্জন মুরগির খামারে নিয়ে যান। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হলে কিশোরীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। স্থানীয়দের তৎপরতায় কিশোরীকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ইয়াছিন কৌশলে পালিয়ে যান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার পর ইউপি সদস্য মোহাম্মদ ইসমাঈল বিষয়টি থানা-পুলিশ পর্যন্ত না নিয়ে স্থানীয়ভাবে সমঝোতার জন্য একটি বৈঠক করেন।

তবে সমঝোতার চেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য মোহাম্মদ ইসমাঈল বলেন, ‘বিষয়টি সমঝোতার চেষ্টা নয়। ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তের পরিবারের উপস্থিতিতে আমিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সেখানে গিয়েছিলাম। পরে তো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘটনার দিন বিকেল তিনটার দিকে ৯৯৯ এ কলের মাধ্যমে স্কুল শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনা জানানো হয়। তাৎক্ষণিক পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।’

ওসি আরও বলেন, ভুক্তভোগী স্কুল শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত