Ajker Patrika

চট্টগ্রামের আনোয়ারা: ২ কিমি খাল খননে কাটা হচ্ছে ২ হাজার গাছ

  • শুধু এক্সকাভেটর চলাচলের জন্য গাছগুলো কাটা হচ্ছে।
  • এরই মধ্যে ১ হাজারের বেশি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।
মো. ইমরান হোসাইন, কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) 
চট্টগ্রামের আনোয়ারা: ২ কিমি খাল খননে কাটা হচ্ছে ২ হাজার গাছ
খাল খননের জন্য নির্বিচারে কাটা হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। সম্প্রতি চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের বরৈয়া এলাকায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় খাল খননের জন্য নির্বিচারে গাছ কাটছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। এরই মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির ১ হাজারের বেশি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। খাল খনন পুরোপুরি শেষ হতে আরও ২ হাজার গাছ কাটা পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এতে প্রাকৃতিক বিপর্যয়সহ পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন জনসাধারণ ও পরিবেশবিদেরা।

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ভূ-উপরিস্থ পানির মাধ্যমে সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে এসব খাল পুনঃখনন করছে বিএডিসি। এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা বিএডিসি উপসহকারী প্রকৌশলী আজমানুর রহমান বলেন, ‘২০ লাখ টাকা বরাদ্দে বরৈয়া খালের দুই কিলোমিটার অংশ পুনঃখনন করা হচ্ছে। খাল খনন কাজের সুবিধার্থে এক্সকাভেটর চলাচলের জন্য দুই পাশের গাছগুলো কাটা হচ্ছে। এতে ক্ষতি হলেও খাল খননের জন্য গাছ কাটার বিকল্প নেই। গাছগুলো স্থানীয়রা নিয়ে যাচ্ছেন।’

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের বরৈয়া খাল খননে বিএডিসির নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এক্সকাভেটর মেশিন দিয়ে খালের দুই পাশের ১ হাজারের মতো গাছ উপড়ে ফেলেছে। বিভিন্ন স্থানে গাছের মালিকেরা কাটা গাছ নিজ খরচে গাড়িতে করে নিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে করাত মিলে বিক্রি করে দিচ্ছেন।

উপজেলা বিএডিসি সূত্র বলেছে, আনোয়ারার বুক চিরে প্রবাহিত চারটি খালের নাব্যতা ফেরাতে খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে বিএডিসি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে উপজেলার শাহ্ মোহছেন আউলিয়া খালের ৬ কিলোমিটার, বরৈয়া খালের ৫ কিলোমিটার, কুদালা খালের ৪ কিলোমিটার ও গোবাদিয়া খালের ৩ কিলোমিটারে খননকাজ শুরু হয়। এসব খাল ৩০ ফুট চওড়া এবং পৌনে ৫ ফুট গভীর করে খনন করা হয়। চলতি বছর বরৈয়া খালের ২ কিলোমিটার অংশ ২০ লাখ টাকা বরাদ্দে খননের কাজ শুরু করে বিএডিসি।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুর রহিম বলেন, ‘গত এক সপ্তাহে খাল খননের জন্য শতাধিক গাছ কাটা হয়েছে। শুধু এক্সকাভেটর চলাচলের সুবিধার্থে গাছগুলো কাটা হচ্ছে। অথচ গাছ রেখেও খাল খনন করা সম্ভব, কিন্তু তারা তা করছে না।’

গাছ কেটে নেওয়ার সময় কথা হয় আবদুল আজিজ নামের একটি করাতকলের মালিকের সঙ্গে। ‘গাছ কিনেছেন কি না’ প্রশ্ন করা হলে তিনি ইতস্তত করে বলেন, ‘এখনো কাউকে টাকা দিইনি, দেখি কী করি! কেউ এলে টাকা দেব আর কি।’

পরিবেশকর্মী রিতু পারভীন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বর্তমান উষ্ণায়নের ভয়াবহ সময়ে গাছ কাটার ক্ষতির দিকটা সবার আগে বিবেচনা করা উচিত। ২০২৬ সাল চরম উষ্ণতম বছর হতে যাচ্ছে বলে এরই মধ্যে আভাস পাওয়া গেছে। পূর্ণবয়স্ক এত গাছ কেটে খাল খনন অর্থহীন। যেকোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে পরিবেশ-প্রতিবেশের ক্ষতির ব্যাপারটা পর্যালোচনা করা জরুরি।’

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (উপবন সংরক্ষক) মোহাম্মদ সোহেল রানা বলেন, ‘ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি বা সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমির গাছ কাটার বিষয়ে বিধিনিষেধ রয়েছে। ঘটনাস্থলে বন বিভাগের টিম পাঠানো হবে।’

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এ বিষয়ে বিএডিসির দায়িত্বরত প্রকৌশলী ও বন বিভাগের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত