
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর উপকূলীয় বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারে ২৯৪ কোটি টাকার একটি প্রকল্প চার বছর আগে শেষ হয়েছে। পরে আরও ৬০০ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প নেওয়া হলেও টেকসই কাজের অভাবে উপকূলবাসীর ‘বেড়িবাঁধ-আতঙ্ক’ কাটেনি। এবারের বন্যায়ও খানখানাবাদ, প্রেমাশিয়া, ডোংরা, বাঘমারা, ছনুয়াসহ কয়েকটি স্থানে বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হলেও তা অব্যাহত রয়েছে।
এই বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. তানভীর সাইফ আহমদ জানান, উপকূলীয় এলাকার মানুষের নিরাপত্তায় বাঁশখালীতে বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার প্রকল্পের কাজ চলছে। এই প্রকল্পে বাঁশখালী ও আনোয়ারায় ৮৭৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। প্রায় ১২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই প্রকল্পে আনোয়ারা অংশে ৫ দশমিক ১৭৫ এবং বাঁশখালী অংশে ৭ দশমিক ৫১০ কিলোমিটার স্থায়ী তীর প্রতিরক্ষা কাজ করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এর মধ্যে বাঁশখালীতে ব্যয় হবে ৬০০ কোটি টাকা।
পাউবো থেকে পাওয়া তথ্যমতে, বাঁশখালীতে ‘পোল্ডার নং ৬৪ /১ এ, ৬৪ /১বি ও ৬৪ /১ সি-এর ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্বাসন’ প্রকল্প ২০১৫ সালের ১ মে শুরু হয়। প্রকল্পের বাজেট ছিল ২৫১ কোটি ২৯ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। শেষ হওয়ার কথা ২০১৮ সালের ৩০ জুন। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ না হয়ে তা ২০২২ সালের জুনে সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ২৯৩ কোটি ৬০ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। প্রকল্পের আওতায় সিসি ব্লক দিয়ে ১০ কিলোমিটার ঢাল সংরক্ষণ, দুই কিলোমিটার বাঁধ পুনর্গঠন ও সাঙ্গুর তীরে সাড়ে তিন কিলোমিটার সুরক্ষামূলক কাজ হয়। লক্ষ্য ছিল প্রায় ১৫ হাজার ৯০১ হেক্টর এলাকা রক্ষা করা। ব্যয় বাড়ার সঙ্গে প্রকল্পের দৈর্ঘ্যও বেড়ে দাঁড়ায় ৩৭ কিলোমিটার।
পাউবোর তথ্যমতে, ৩৭ কিলোমিটার বাঁধের মধ্যে স্থায়ী বাঁধ মাত্র ৯ কিলোমিটার। বাঁশখালীর প্রেমাশিয়া থেকে ছনুয়া পর্যন্ত প্রকল্পের দৈর্ঘ্য। ৯ কিলোমিটার স্থায়ী ছাড়া বাকি ২৮ কিলোমিটারই অরক্ষিত মাটির বাঁধ। বাঁধের উচ্চতা ৭ দশমিক ২০ থেকে ৯ মিটার। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সেই উচ্চতা রক্ষা করা হয়নি। এর মধ্যে আবার ২০২০ সালে ১১ হাজার ৩৬টি ব্লক পরীক্ষা করে ৩ হাজার ৭৮৭টিকে অত্যন্ত নিম্নমানের চিহ্নিত করে বাতিলের সুপারিশ করেছিল বুয়েট। ৪ বছর আগে প্রকল্পটি শেষ হলেও বেড়িবাঁধ থেকে যে সুফল পাওয়ার কথা ছিল, উপকূলের মানুষ তা পাননি বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান।
গত শনিবার খানখানাবাদের প্রেমাশিয়া ও কদমরসুলের কয়েকটি পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায় ভাঙনের ভয়াবহ চিত্র। সাগরের পানির ঢেউয়ের তোড়ে সিসি ব্লকগুলো (ছোট সাইজের) ধসে পড়ছে। বাঁধের মাটি খসে যাচ্ছে। ভাঙন ঠেকাতে সম্প্রতি ফেলা জিও ব্যাগ ছিঁড়ে বালু বেরিয়ে পড়ছে। অক্ষত অংশেও গভীর ফাটল দেখা দিচ্ছে। সবচেয়ে ভয়াবহ ভাঙন প্রেমাশিয়া ও খানখানাবাদ ভূমি অফিসের পশ্চিমে। যেখানে বাঁধের মাত্র এক-দেড় ফুট টিকে আছে। ফেলা বালুর বস্তাও তলিয়ে যাচ্ছে সাগরে। কদমরসুলের হাছিয়াপাড়ায় ব্লকের চিহ্নই নেই। বড় মাওলানা মাজার এলাকায় সৈকতের বালু আর বাঁধ প্রায় সমান উচ্চতায়। আজিম উদ্দিন মাওলানা বাড়ি ও কালা গাজীপাড়ায়ও বাঁধের সামান্য অংশ অবশিষ্ট।
কদমরসুল এলাকার কৃষক মো. জাহেদুল ইসলাম জানান, এখানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে দেখি আবার ভাঙতেও দেখছি। প্রথম কথা হচ্ছে, সিসি ব্লকগুলো আকারে ছোট। এখানে পানির যে ঢেউ, তাতে এক টনের বড় সিসি ব্লক দেওয়া দরকার ছিল, যাতে ঢেউয়ের ঝাপটায় স্থির থাকে।
একই বিষয়ে খানখানাবাদ ইউনিয়নের ডোংরা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম বলেন, ‘বাঁধটি দুই বছরও টেকেনি। এখন বাঁধ নিয়ে নতুন আতঙ্ক তৈরি হয়েছে মানুষের মাঝে। বন্যায় সবচেয়ে ভয়ে ছিলাম বাঁধটি নিয়ে। এখন বিভিন্ন পয়েন্টে বাঁধে ভাঙন দেখা দেওয়ায় উপকূলের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ভর করেছে।’
এদিকে বাঁধের কারণে ঝুঁকিতে আছে উপকূলীয় এলাকার ৫৭টি কালভার্ট, ৪৪টি সেতু, ৭ হাজার ১৬৭টি ঘরবাড়ি, ২৩১টি মসজিদ-মন্দির, ১৫টি মাদ্রাসা, ৩১টি স্কুল ভবন ও ৪৫টি স্কুল-কাম-সাইক্লোন শেল্টার। এ ছাড়া ২৪টি ইউপি ভবন, ১৮টি হাসপাতাল-স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ৯টি কৃষি গুদাম, ৫৫৩ কিলোমিটার সড়ক, ৪ হাজার ৬৬৬টি দোকান, ১২টি করাতকল এবং ৫ হাজার ৩৮০ একর কৃষিজমিও লবণাক্ততা ও প্লাবনের ঝুঁকিতে।
চলমান প্রকল্পটি চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও আনোয়ারা উপজেলায় উপকূলীয় বেড়িবাঁধ সংস্কারে নেওয়া হয়। প্রকল্পের ব্যয় ৮৭৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। ২০২৪ সালের ২৭ মে প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন হওয়ার পর একই বছরের ১ জুলাই কাজ শুরু হয়। ৮৭৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকার মধ্যে ৬০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে বাঁশখালী অংশের জন্য। বাকি টাকা আনোয়ারা অংশের জন্য ব্যয় করা হবে। ২০২৭ সালের ৩০ জুন প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে জানিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী ড. তানভীর সাইফ আহমদ বলেন, ‘প্রকল্পটি শেষ হলে নদী ও সাগর উপকূলের মানুষসহ সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে উপকূলের বেড়িবাঁধ রক্ষায় প্রকল্পটি কার্যকর হবে।’ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের লবণ, মৎস্য ও কৃষিপণ্য চাষে আমূল পরিবর্তন ঘটবে। প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

রাঙামাটির কাপ্তাই ৪১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে সম্প্রীতি ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দরিদ্র, দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ, ঢেউটিন ও সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে
১০ মিনিট আগে
খুলনায় ৯ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত টানা চার দিনের ভারী বৃষ্টিতে মৎস্য ও কৃষি খাতে অন্তত ১৪০ কোটি ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে শুধু মৎস্য খাতেই প্রায় ১২৬ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
১১ মিনিট আগে
সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় মাছের ঘের থেকে সুমন হোসেন (২৯) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার সকালে উপজেলার কৈখালী এলাকার কেসমত আলীর মাছের ঘের থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
৩১ মিনিট আগে
কুড়িগ্রামের উলিপুরে বিদ্যুতায়িত হয়ে আবুল হোসেন (৫৫) নামে এক ইজিবাইকচালকের মৃত্যু হয়েছে। ইজিবাইকের চার্জারের সংযোগ খুলতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হন তিনি।
৩৩ মিনিট আগে