এর চেয়ে নিখুঁত আর রোমাঞ্চকর স্ক্রিপ্ট ফুটবল ইতিহাসে আর কখনো লেখা হয়েছে কি না সন্দেহ। বিশ্বমঞ্চের ফাইনাল জেতার চেয়ে বড় আনন্দ আর কিছু হতে পারে না, আর সেই জয়ের রাতে যদি ফুটবল ইতিহাসের টানা অপরাজিত থাকার বিশ্বরেকর্ডটি নিজের করে নেওয়া যায়, তবে আর কী-ই বা বলার থাকে!
ইতালির টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার যে অবিশ্বাস্য কীর্তি ছিল, আজ লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা তা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল। টানা ৩৮ ম্যাচ অপরাজিত থাকার নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়ে ছেলেদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেদের একচ্ছত্র সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করল ‘লা রোহা’রা।
শিরোপা হারানোর চরম হতাশায় ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পরপরই মাঠে স্পেনের ফুটবলারদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। পুরো ম্যাচ জুড়েই তাঁর আচরণ বেশ উগ্র ছিল এবং বেশ কয়েকটি কড়া ফাউল করে পার পেয়ে গিয়েছিলেন। তবে ম্যাচ শেষ হলেও নিয়ম অনুযায়ী রেফারি মাঠ ছাড়ার আগ পর্যন্ত কার্ড দেখানোর পূর্ণ এখতিয়ার রাখেন, আর সেই সুযোগেই শৃঙ্খলাভঙ্গের চূড়ান্ত দায়ে পারেদেসকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি।
১২০+৬’ রেফারি শেষ বাঁশি বাজালেন! অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ের খেলা শেষেও ১-০ ব্যবধান ধরে রাখল স্পেন। সমাপ্তি ঘটল এক শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালের। আর্জেন্টিনাকে স্তব্ধ করে দিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন হলো স্পেন। এটি তাঁদের দ্বিতীয় শিরোপা।
১২০+২’ কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে বক্সের ঠিক মাঝখান থেকে ডান পায়ে শট নেন আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ড জুলিয়ানো সিমিওনে। তবে তাঁর নেওয়া শটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। ম্যাচে এটিই ছিল আর্জেন্টিনার প্রথম শটের প্রচেষ্টা, যদিও তা অন-টার্গেট ছিল না।
১১৪’ এবার গোল করেও উদযাপনে বাধা পেলেন ফেররান তোরেস। হাফওয়ে লাইন থেকে একাই ক্ষিপ্র গতিতে বল নিয়ে ছুটে গিয়ে এমি মার্তিনেসকে পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়েছিলেন তোরেস।

১০৬’ (গোল...!!! স্পেন ১ - ০ আর্জেন্টিনা):
অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হওয়ার ঠিক ৩৭ সেকেন্ডের মাথায় ভাঙল ডেডলক। পেদ্রো পোরোর দূরপাল্লার ক্রসে হেড করে বলটি বক্সে ফেরত পাঠান নিকো উইলিয়ামস, আর সেখানে ঠিক সময়ে ছুটে এসে জোরাল শটে বল জালের জড়িয়ে দেন ফেররান তোরেস। নিখুঁত এই ফিনিশিংয়ে স্তব্ধ হয়ে যায় আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ।
রেফারির সঙ্গে তর্কের জেরে হলুদ কার্ড পেলেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি।
১০২’ হুলিয়ান আলভারেসের জায়গায় মার্কোস সেনেসিকে মাঠে নামিয়ে শেষ পরিবর্তনটি করল আর্জেন্টিনা।
৯৯’ অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে জোড়া পরিবর্তন আনলেন স্প্যানিশ কোচ। বিশ্বরেকর্ড গড়া অধিনায়ক রদ্রিকে তুলে নিয়ে মাঠে নামানো হয়েছে মার্তিন সুবিমেন্দিকে। একইসঙ্গে রক্ষণভাগ জমাট করতে আইমেরিক লাপোর্তের পরিবর্তে মাঠে নেমেছেন এরিক গার্সিয়া।
৯৬’ এবার জালের দেখা পেয়েও উল্লাসে মাততে পারল না স্পেন। আলগা বল থেকে আলতো টোকায় বল জালে জড়ান নিকো উইলিয়ামস, তবে তার ঠিক আগেই আর্জেন্টিনার ওতামেন্দিকে মিকেল মেরিনোর চ্যালেঞ্জের কারণে ফাউলের বাঁশি বাজান রেফারি।
৯৩’ অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই স্পেনের বিপজ্জনক আক্রমণ। পেদ্রির বাড়ানো একটি ফ্ল্যাট ক্রস গতিশীল উইঙ্গার নিকো উইলিয়ামসের মাথায় আলতো ছোঁয়া লেগে গোলের দিকে যাচ্ছিল, তবে দারুণ এক ডাইভে বলটি দূরে ঠেলে দেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমি মার্তিনেস। তবে এই যাত্রায় আর্জেন্টিনা বেঁচে গেলেও মার্তিনেসের সেভ বেড়েই চলেছে; ম্যাচে এটি তাঁর ১১তম সেভ।
১৯৬৬ সাল থেকে বিশ্বকাপ ইতিহাসে অপটার বিশ্লেষণ করা ৯০০ ম্যাচের মধ্যে আর্জেন্টিনা মাত্র তৃতীয় দল হিসেবে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো শট নিতে পারেনি। এর আগে ১৯৯০ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে কোস্টারিকা এবং ২০২২ সালে স্পেনের বিপক্ষে কোস্টারিকা এই অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের মুখোমুখি হয়েছিল। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের হাই-প্রেসিং ফুটবল ও নিখুঁত নিয়ন্ত্রণের সামনে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা আক্রমণে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়। লিওনেল মেসির দল পুরো ম্যাচে স্প্যানিশ রক্ষণভাগের কড়া পাহাড়ার কারণে প্রতিপক্ষের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে একটি শটও নিতে পারেনি।
৯০’ বক্সের বাইরে থেকে স্পেনের তরুণ ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামাল তাঁর জাদুকরী বাঁ পায়ে দূরপাল্লার এক জোরালো শট নেন। বলটি পোস্টের ডানদিকের নিচের কোণ ঘেঁষে জালের দিকে যাচ্ছিল, কিন্তু আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস দুর্দান্ত এক ডাইভে রুখে দেন। তাঁর এই সেভেই ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যায় ১০ জনের আর্জেন্টিনা।
স্পেনের বিপক্ষে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটেদ্বিতীয় হলুদ কার্ড (লাল কার্ড) দেখে মাঠ ছাড়েন মিডফিল্ডার এনসো ফের্নান্দেস। এর মাধ্যমে ফুটবল ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনালে ৩টি লাল কার্ড দেখার বিব্রতকর রেকর্ড নিজেদের করে নিল আলবিসেলেস্তেরা।
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার লাল কার্ডের ইতিহাস:

৯০+৩’ পাউ কুবারসিকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড ও লাল কার্ড দেখলেন এনসো ফের্নান্দেস।
৯০’ ৯০ মিনিট পেরিয়ে যোগ করা হলো ৪ মিনিট। খেলা কি অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে?
৮২’ রদ্রিকে ফাউল করে হলুদ কার্ড পেলেন এনসো ফের্নান্দেস। এনিয়ে তিনটি হলুদ কার্ড পেল আর্জেন্টিনা।
৭৭’ স্পেনের মিডফিল্ডার পেদ্রি দ্রুত দৌড়ে ডি-বক্সের সীমানায় পৌঁছে একটি শট নেন, যা আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমি মার্তিনেস সহজেই গ্লাভসবন্দী করেন। শট নেওয়ার মুহূর্তে পেছন থেকে সামান্য ধাক্কা খাওয়ায় ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিলেন পেদ্রি।
এর ঠিক কয়েক মুহূর্ত পরেই ২৫ গজ দূর থেকে এক দুর্দান্ত জোরাল শট নেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার পাউ কুবারসি। বলটি সরাসরি মার্তিনেসের সোজা আসলেও তিনি একটু বেশি ডাইভ দিয়ে ফেলেছিলেন, যার ফলে পরিষ্কারভাবে বলটি সেভ করতে পারেননি। বলটি তাঁর হাত লেগে প্রায় জালেই জড়িয়ে যাচ্ছিল
৭৫’ আলেক্স বায়েনা ও দানি অলমোর জায়গায় মাঠে নেমেছেন মিকেল মেরিনো ও নিকো উইলিয়ামস।
৭১’ ম্যাচে পাঁচটি বদল করে ফেলল আর্জেন্টিনা। রদ্রিগো দে পল ও ক্রিস্তিয়ান রোমেরোকে উঠিয়ে জুলিয়ানো সিমিওনে ও ফাকুন্দো মেদিনাকে মাঠে নামিয়েছেন কোচ স্কালোনি।
৬৭’ স্পেনের একের পর এক শট ভালোভাবেই তালুবন্দী করছেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমি মার্তিনেস। যেন ক্যাচ প্র্যাকটিস করছেন। দ্বিতীয় হাইড্রেশন ব্রেকের আগে ফেরান তোরেসের হেড রুখে দেন তিনি।
৬২’ ম্যাচে প্রথম পরিবর্তন আনল স্পেন, তাও জোড়া। মিকেল ওইয়ারসাবাল ও ফাবিয়ান রুইসের জায়গায় মাঠে নেমেছেন পেদ্রি ও ফেরান তোরেস।
৫৮’ গনসালো মন্তিয়েলে পরিবর্তে নাউয়েল মোলিনাকে নামিয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি।
৫২’ মাঠে নামার ৭ মিনিটের মধ্যে রদ্রিকে ধাক্কা মেরে হলুদ কার্ড দেখলেন লেয়ান্দ্রো পারেদেস।
৪৭’ দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই স্পেনের দারুণ আক্রমণ। দূর থেকে জোরাল শট নেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার আলেক্স বায়েনা। তবে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমি মার্তিনেস বলটি রুখে দেন এবং গোল হজম করা থেকে দলকে বাঁচান।
দীর্ঘ ২৭ মিনিটের হাফটাইম বিরতি শেষে শুরু হলো দ্বিতীয় অধ্যায়ের খেলা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই নিজেদের দ্বিতীয় পরিবর্তনটি এনেছে আর্জেন্টিনা; নিকো গনসালেসের পরিবর্তে মাঠে নেমেছেন লেয়ান্দ্রো পারেদেস।

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপের ফাইনালের প্রথমার্ধেই এক অনন্য বিশ্ব রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি। প্রথমার্ধের লড়াইয়ে তিনি একাই ৫০টি সফল পাস সম্পন্ন করেছেন।
তাতে ভেঙে দিয়েছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি দুঙ্গার (১৩০৬টি পাস) বহু পুরোনো এক রেকর্ড। ১৯৬৬ সাল থেকে বিশ্বকাপের পরিসংখ্যান সংরক্ষণের ইতিহাস অনুযায়ী, বিশ্বকাপে এখন সবচেয়ে বেশি সফল পাস দেওয়ার কীর্তি রদ্রির (১৩৪৩টি পাস)।
স্পেন ম্যাচে এখন পর্যন্ত ৩ শট নিয়েছে। যা ১৯৬৬ সালের পর থেকে বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রথমার্ধে সবচেয়ে কম। একই সঙ্গে ১৯৬৬ সালের পর এই প্রথম আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচের প্রথমার্ধে একটিও শট নিতে পারেনি।
আর্জেন্টিনা প্রথমার্ধে স্পেনের বিপক্ষে ৯ বার প্রতিপক্ষকে ফাউল করেছে। তার চেয়েও কম সংখ্যকবার তারা বল নিয়ে প্রতিপক্ষের ফাইনাল থার্ডে সফল পাস সম্পন্ন করেছে (আটবার)।
৪৫’ গোলশূন্যতেই শেষ হলো প্রথমার্ধ। স্পেন বেশ কয়েকটি আক্রমণ চালালেও আর্জেন্টিনা ছিল অনেকটাই নিষ্প্রভ।
৪৪’ হলুদ কার্ড পাওয়ার পরই চোটে পড়লেন লিসান্দ্রো মার্তিনেস। তাঁর বদলি হিসেবে নিকোলাস ওতামেন্দিকে মাঠে নামিয়েছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।
৪১’ ওইয়ারসাবালকে ফাউলের কারণে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেসকে হলুদ কার্ড দেখিয়ে সতর্ক করেন রেফারি।
৩৯’ আর্জেন্টিনার অর্ধে একের পর এক বিপদ তৈরির চেষ্টা করছে স্পেন। বক্সের বাইরে থেকে মিকেল ওইয়ারসাবালের শট ঠেকিয়ে দিয়েছেন মার্তিনেস।
২৪’ প্রথম হাইড্রেশন ব্রেকের বাঁশি বাজালেন রেফারি। ২৪ মিনিটে কোনো গোল না হলেও অন্তুত দুটি সুযোগ পেয়েছে স্পেন।
১৭’ দারুণ গতিতে পাল্টা আক্রমণে ওঠে স্পেন। ডান প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নেন লামিনে ইয়ামাল। শরীর ঝাঁকিয়ে মার্কারকে ফাঁকি দিয়ে বক্সে একটি লো ক্রস বাড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি, তবে সতর্ক পজিশনিংয়ে সহজে বলটি তালুবন্দী করেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমি মার্তিনেস।
১৭’ বক্সের ভেতর লিওনেল মেসিকে ফাউল করে আর্জেন্টিনাকে ফ্রি-কিকের সুযোগ করে দেন আলেক্স বায়েনা। তবে দে পলের ফ্রি কিক কোনো কাজে আসেনি।
১৩’ মাঠের পিচ বেশ অস্বাভাবিক আচরণ করছে। বল মাটিতে অসমানভাবে ড্রপ খাচ্ছে এবং প্রচুর লাফাচ্ছে।

৫’ দানি অলমোর পাস থেকে দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন লামিনে ইয়ামাল। ৬ গজ বক্সের বাইরে থেকে তাঁর শট ঠেকিয়ে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস।
বিলম্বিত সমাপণী অনুষ্ঠানের কারণে ৫ মিনিট দেরিতে শুরু হলো বিশ্বকাপ ফাইনাল।

শিরোপা নির্ধারণী এই মহারণের আগে দেওয়া বক্তব্যে পুরো বিশ্বকে এক সুতোয় বাঁধার ক্ষেত্রে ফুটবল বিশ্বকাপের জাদুকরি ও শক্তিশালী ক্ষমতার কথা তুলে ধরেছেন হলিউড তারকা টম ক্রুজ।

ম্যাচ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে জমকালো আয়োজনে বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফিটি উন্মোচন করেছেন ফুটবলের দুই কিংবদন্তি। ২০১০ বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের হয়ে ঐতিহাসিক জয়সূচক গোল করা আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা এবং ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনার অধিনায়ক মারিও কেম্পেস যৌথভাবে এই ট্রফি উন্মোচন করেন।

কুকুরেয়া (স্পেন ডিফেন্ডার): ভীষণ আনন্দিত এবং ম্যাচটি শুরু করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি। আমরা জানি, আমাদের সামনে একটি অনন্য সুযোগ রয়েছে। এখন শুধু গা গরম করা এবং মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার অপেক্ষা। কোচ আমাদের খেলাটি উপভোগ করতে বলেছেন; আমরা কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন ছোঁয়ার ঠিক এক ধাপ দূরে দাঁড়িয়ে আছি। আমরা সবাই দারুণ অনুপ্রাণিত এবং মাঠে আমাদের ঠিক কী করতে হবে, তা খুব ভালো করেই জানি।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে মাত্র দুজন খেলোয়াড় তিনটি ফাইনাল খেলার অনন্য কীর্তি গড়েছেন। ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফুর (১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০০২) পর এই ক্লাবে যুক্ত হলেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি (২০১৪, ২০২২, ২০২৬)।

বিশ্বকাপ ফাইনালে শুরুর একাদশে থাকা সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড়দের তালিকায় শীর্ষ পাঁচে জায়গা করে নিয়েছেন লামিনে ইয়ামাল ও পাউ কুবারসি। কিলিয়ান এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে তালিকার তৃতীয় স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন ইয়ামাল। আজ ফাইনালে মাঠে নামার দিনে তাঁর বয়স মাত্র ১৯ বছর ৬ দিন। তাঁর ঠিক পরেই রয়েছেন ১৯ বছর ১৭৮ দিনের কুবারসি। ২০১৮ বিশ্বকাপ ফাইনালে ১৯ বছর ২০৭ দিন বয়সে মাঠে নেমেছিলেন এমবাপ্পে।
এই তালিকার সবার ওপরে আছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলে। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে মাত্র ১৭ বছর ২৪৯ দিন বয়সে ফাইনাল খেলে এখনো চূড়ায় আছেন তিনি। আর ১৯৮২ বিশ্বকাপ ফাইনালে ১৮ বছর ২০১ দিন বয়সে খেলে দ্বিতীয় স্থানে আছেন ইতালির জুসেপ্পে বারগোমি।
খেলা শুরুর ৯০ মিনিট আগে সমাপনী অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা সময়মতো শুরু করা যায়নি। স্টেডিয়ামে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতির কারণে নিরাপত্তাব্যবস্থা অতিরিক্ত জোরদার করতেই এই বিলম্ব। এর ফলে মূল ম্যাচ শুরু হতেও দেরি হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে বিলম্বের মাঝেই আলোচনা জমছে ২৫ থেকে ৩০ মিনিটের দীর্ঘ হাফটাইম শো নিয়ে। যার মধ্যে মূল পারফরম্যান্স থাকবে প্রায় ১১ মিনিট এবং বাকি সময় মঞ্চ তৈরি এবং তা ভাঙার কাজে ব্যয় হবে।
এই মেগা শোতে পপতারকা জাস্টিন বিবার মাত্র ৯০ সেকেন্ডের জন্য কণ্ঠ মেলাবেন। এ ছাড়া মঞ্চ কাঁপাবেন শাকিরা, বার্না বয়, বিটিএস ও মাদোনার মতো বিশ্বখ্যাত তারকারা। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেবেন কন্ডাক্টর গুস্তাভো দুদামেল, নিউইয়র্ক ফিলহারমোনিক এবং শিশুদের বিশেষ কোরাস দল। তবে দীর্ঘ বিরতির কারণে খেলোয়াড়দের পেশি ঠান্ডা হয়ে চোটের ঝুঁকি বাড়াবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তিনটি পরিবর্তন নিয়ে ফাইনালে নামছে আর্জেন্টিনা। কোচ লিওনেল স্কালোনি বেঞ্চে বসিয়েছেন নাউয়েল মোলিনা, লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও জুলিয়ানো সিমিওনে। তাঁদের পরিবর্তে একাদশে ফিরেছেন গনসালো মন্তিয়েল, রদ্রিগো দে পল, নিকো গনসালেস। অন্যদিকে স্পেন মাঠে নামছে অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে।
আর্জেন্টিনা একাদশ
এমি মার্তিনেস, গনসালো মন্তিয়েল, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেস, নিকোলাস তালিয়াফিকো, রদ্রিগো দে পল, এনসো ফের্নান্দেস, মাক আলিস্তার, নিকো গনসালেস, লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেস।
স্পেন একাদশ
উনাই সিমন, পেদ্রো পোরো, পাউ কুবারসি, আইমেরিক লাপোর্তে, কুকুরেয়া, রদ্রি, ফাবিয়ান রুইস, দানি অলমো, লামিনে ইয়ামাল, আলেক্স বায়েনা ও মিকেল ওইয়ারসাবাল।
বিশ্বকাপ ফাইনাল উপলক্ষে আয়োজিত আজকের পত্রিকার ধারাবিবরণীতে স্বাগত। নিউজার্সি স্টেডিয়ামে রাত ১টায় মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা-স্পেন। আর্জেন্টিনা যেখানে টানা দ্বিতীয় ও চতুর্থ শিরোপার লক্ষ্যে মাঠে নামছে। ১৬ বছর পর ফাইনালে ওঠা স্পেন রয়েছে দ্বিতীয় শিরোপার খোঁজে।