Ajker Patrika

হাত বাঁধা উদ্ধার গৃহবধূর লাশের পরিচয় মিলেছে, যৌতুকের দাবিতে হত্যার অভিযোগ

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 
আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২২: ৫৬
হাত বাঁধা উদ্ধার গৃহবধূর লাশের পরিচয় মিলেছে, যৌতুকের দাবিতে হত্যার অভিযোগ
জমিতে পড়েছিল গৃহবধূর লাশ। ছবি: আজকের পত্রিকা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিদ্যালয়-সংলগ্ন জমির আইল থেকে উদ্ধার হওয়া হাত বাঁধা গৃহবধূর মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তাঁর নাম চন্দনা রানী শীল (২২)। পরিবারের অভিযোগ, যৌতুকের জন্য স্বামী শিমুল শীল তাঁকে হত্যা করেছেন। তবে হত্যার কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বারৈয়ারঢালা ইউনিয়নের টেরিয়াইল উচ্চবিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশের একটি জমি থেকে চন্দনার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি কুমিরা ইউনিয়নের বড় কুমিরা এলাকার মানিক ডাক্তারবাড়ির শিমুল শীলের স্ত্রী।

পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের পর প্রথমে চন্দনার পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার পর তাঁর বাবা তেজেন্দ্র দাস সীতাকুণ্ড থানায় গিয়ে মরদেহটি মেয়ের বলে শনাক্ত করেন। চন্দনার দুই হাত সামনের দিকে কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল এবং গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিল। তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা পুলিশের।

চন্দনার বাবা তেজেন্দ্র দাস অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য তাঁর মেয়েকে প্রায়ই শারীরিক নির্যাতন করতেন শিমুল। গত বুধবারও যৌতুকের টাকা চেয়ে চাপ দিলে চন্দনা স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়িতে যান। সেখানে স্বামীর দাবির কথা জানিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। কিছুদিনের মধ্যে টাকা জোগাড় করে দেওয়ার আশ্বাস দিলে চন্দনা স্বামীর সঙ্গে ফিরে যান।

তেজেন্দ্র দাস আরও বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৮টার পর থেকে মেয়ের মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে তিনি জামাইকে ফোন করেন। তবে শিমুল চন্দনার বিষয়ে কিছু জানেন না বলে ফোন কেটে দেন। আজ শুক্রবার বিকেলে তাঁর এক ভাগিনা মোবাইল ফোন চন্দনার মরদেহের ছবি দেখতে পেয়ে পরিবারকে জানান। পরে তাঁরা থানায় গিয়ে মেয়ের পরিচয় শনাক্ত করেন।

চন্দনার মা আলো রানী দাসের অভিযোগ, যৌতুকের জন্য শিমুল প্রায় প্রতি রাতে তাঁর মেয়েকে নির্যাতন করতেন। স্বামীর দাবি পূরণ করতে চন্দনা স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। মেয়ের হত্যার বিচার চেয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে শিমুলের মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মরদেহ উদ্ধারের সময় নারীর হাতে শাঁখা দেখে তাঁকে সনাতন ধর্মাবলম্বী বলে ধারণা করা হয়েছিল। পরে তাঁর বাবা-মা থানায় এসে পরিচয় শনাক্ত করেন।

ওসি আরও জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। চন্দনার পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুকের জন্য পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত