Ajker Patrika

পটিয়ায় আমজু মিয়ার বলীখেলার ১১৭তম আসর, বিজয়ী মাসুম বলী

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি  
পটিয়ায় আমজু মিয়ার বলীখেলার ১১৭তম আসর, বিজয়ী মাসুম বলী
বলীখেলায় দুই প্রতিযোগীর লড়াই। ছবি: আজকের পত্রিকা

চট্টগ্রামের পটিয়ায় আমজু মিয়ার বলীখেলার ১১৭তম আসর উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার (৯ মে) বিকেলে পৌরসভার পাইকপাড়া এলাকার ঐতিহাসিক পরীর দীঘির পাড়ে আয়োজিত এই খেলায় অর্ধশত বলী অংশ নেন। প্রতিযোগিতায় কক্সবাজারের মহেশখালীর মাসুম সেরা বলীর খেতাব অর্জন করেন। রানারআপ হন বোয়ালখালীর কাঞ্চন বলী।

বলীখেলায় প্রধান অতিথি ছিলেন পটিয়ার সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম। সভাপতিত্ব করেন আয়োজক কমিটির সভাপতি মো. আনোয়ারুল আলম চৌধুরী। উদ্বোধন করেন আয়োজক কমিটির সচিব শাহজাহান চৌধুরী। খেলা ঘিরে আশপাশের এলাকাসহ দূরদূরান্ত থেকে হাজারো দর্শকের সমাগম ঘটে।

পটিয়ায় একসময় তুফান আলী মুন্সির বলীখেলা, পরীর দীঘির বলীখেলা, ভাটিখাইনের বারেক চেয়ারম্যানের বলীখেলাসহ বেশ কয়েকটি বলীখেলার ব্যাপক পরিচিতি ছিল। সময়ের ব্যবধানে এসব আয়োজন বিলুপ্ত হলেও এখনো ঐতিহ্য ধরে রেখেছে আমজু মিয়ার বলীখেলা। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সত্তরের দশক থেকে আমজু মিয়া সওদাগরের পরিবার নিয়মিত এই খেলার আয়োজন করছে। তবে এর সূচনা আরও আগে। পঞ্চাশের দশকে তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান প্রয়াত আমজু মিয়া সওদাগর নিজ নামে এই খেলার প্রচলন করেন। তাঁর মৃত্যুর পর ছেলে আবু মুছা সওদাগর দায়িত্ব নেন। বর্তমানে উত্তরসূরিরা ঐতিহ্যটি ধরে রেখেছেন।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, পটিয়ার পাইকপাড়ার পরীর দীঘির দক্ষিণ পাড়ে প্রথম বলীখেলার আয়োজন করেছিলেন প্রয়াত তোফায়েল আলী মুন্সী। পরে তাঁর ছেলে মনির আহমেদও এই আয়োজন চালিয়ে যান। বৈশাখ মাসজুড়ে পটিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বলীখেলার আসর বসত, যা একসময় মানুষের প্রধান বিনোদনে পরিণত হয়েছিল।

বলীখেলার উৎপত্তি নিয়ে নানা জনশ্রুতি রয়েছে। গবেষক ও কবি আলাদীন আলীনূরের মতে, পটিয়া ও সাতকানিয়ার মল্ল সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী মল্লক্রীড়া থেকেই বলীখেলার উদ্ভব। পরে তা সমগ্র চট্টগ্রামে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

প্রবীণদের মতে, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় যুবকদের শক্তি, সাহস ও ঐক্যবদ্ধ করতে বলীখেলার আয়োজন করা হতো। ধীরে ধীরে এটি চট্টগ্রামের লোকজ ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়। এখনো পটিয়ার মাটিতে সেই ঐতিহ্যের স্মৃতি বহন করে চলছে আমজু মিয়ার বলীখেলা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত