Ajker Patrika

বরগুনা এলজিইডি: ৩৬ কোটি টাকার টেন্ডারে স্বজনপ্রীতি প্রকৌশলীদের

  • তিন কর্মকর্তার আত্মীয় ও আ.লীগ নেতার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ
  • প্রধান কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ, বরিশাল বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীকে তদন্তের নির্দেশ
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি 
বরগুনা এলজিইডি: ৩৬ কোটি টাকার টেন্ডারে
স্বজনপ্রীতি প্রকৌশলীদের
ছবি: সংগৃহীত

বরগুনার আমতলী ও তালতলী উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের ৩৬ কোটি টাকার চারটি প্রকল্পে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বানের পর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলীসহ তিন কর্মকর্তা তাঁদের আত্মীয় ও আওয়ামী লীগ নেতার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেন। এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে এমন অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

তালতলীর বাসিন্দা ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন সম্প্রতি এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে এই অভিযোগ করেছেন। তিনি বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস)। এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেন বরিশাল বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মোহা. নুরুল ইসলামকে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, এলজিইডির বরগুনা কার্যালয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খান, জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল কুমার গাইন ও গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহ তাঁদের নিকটাত্মীয়দের পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে স্বজনপ্রীতি করে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। এসব ঠিকাদার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন অভিযোগ করেন, গত মার্চ মাসে আমতলী-তালতলী উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৩৬ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করে বরগুনা এলজিইডি কার্যালয়। এতে ৭৭টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। গত ২০ এপ্রিল চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অনিয়ম ও অনৈতিকতার আশ্রয় নিয়ে ওই কাজ পাইয়ে দেন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খানসহ তিন প্রকৌশলী।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে ওই তিন কর্মকর্তা তাঁদের আত্মীয়দের দরপত্রের মাধ্যমে কাজ পাইয়ে দেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চারটি হলো নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান খানের নিকটাত্মীয় বরিশাল এমএস লুৎফুল কবির ট্রেডার্স, শেখ সেলিমের ভাগনে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী

লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ আতিকুর রহমান নুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএস নুর কনস্ট্রাকশন, সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহর নিকটাত্মীয় নড়াইল জেলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লেলিন-দিপ (জয়েন্ট ভেঞ্চার) এসএম লেলিন ট্রেডার্স, জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রকৌশলী

শ্যামল গাইনের নিকটাত্মীয় ঝিনাইদহের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিশিত বসু ট্রেডার্স।

ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন বলেন, বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খান, জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল কুমার গাইন ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহ ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আমতলী-তালতলীর ৩৬ কোটি টাকার কাজ তাঁদের নিকটাত্মীয় ও আওয়ামী লীগ নেতার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়েছেন। এসব দরপত্রে তাঁরা মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে কাজ পাইয়ে দেন। তদন্ত করলেই তাঁদের দুর্নীতির বাস্তব চিত্র বেরিয়ে আসবে

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খান বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে কেন অভিযোগ দিয়েছেন, তা যিনি দিয়েছেন, তিনিই বলতে পারবেন। আমি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম করিনি।’

অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া এলজিইডির বরিশাল বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মোহা. নুরুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘অভিযোগ তদন্ত করতে প্রধান কার্যালয় থেকে আমাকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ১৪ মে তদন্তকাজ শুরু করা হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত