Ajker Patrika

কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে ইউনিয়নভিত্তিক মিনি কোল্ডস্টোরেজ নির্মাণ করা হবে: কৃষিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৬, ২২: ০১
কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে ইউনিয়নভিত্তিক মিনি কোল্ডস্টোরেজ নির্মাণ করা হবে: কৃষিমন্ত্রী
চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে মৎস্য ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশীদ। ছবি: আজকের পত্রিকা

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, কৃষিপণ্য সংরক্ষণের অভাবে শস্য মৌসুমে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পান না। এই সমস্যা সমাধানে ইউনিয়নভিত্তিক ‘মিনি কোল্ডস্টোরেজ’ নির্মাণ করা হবে। আজ শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে মৎস্য ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শুরুর আগে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসন ওই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, অনেক সময় টমেটো, গাজর বা কাঁচা মরিচের দাম এত কমে যায় যে খেত থেকে ফসল তুলেও লাভ হয় না। কিন্তু কয়েক মাস পর একই পণ্যের দাম কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কনসেপ্ট থেকে ইউনিয়নে কোল্ডস্টোরেজ করা হবে এবং সেটি সোলার প্যানেলের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। স্থানীয় সমবায় বা কৃষক সংগঠন এগুলো পরিচালনা করবে। শুধু জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ থাকবে। এতে পরিচালন ব্যয় কম হবে এবং কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না।’

কৃষিমন্ত্রী বলেন, এসব কোল্ডস্টোরেজ স্থাপন করা হলে কৃষকেরা মৌসুমে উৎপাদিত কৃষিপণ্য সেখানে সংরক্ষণ করে পরে সুবিধাজনক সময়ে বাজারে বিক্রি করতে পারবেন। এতে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন, আবার মৌসুম চলে গেলেও বাজারে দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়বে না।

উৎপাদন ও বাজারের চাহিদার মধ্যে সমন্বয় করা গেলে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবও কমে আসবে বলে জানান মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বাজার ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে। এ জন্য কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, এই কৃষক কার্ডের কারণে সারা দেশের কৃষকদের একটি ডেটাবেইজ তৈরি হচ্ছে। কোন অঞ্চলে কী ফসল উৎপাদিত হয়, কে কোন কৃষি কাজে যুক্ত, তা ডেটাবেইজে সংরক্ষণ করা হবে।

মন্ত্রী জানান, কোন এলাকায় কোন ফসলের চাহিদা কত, কোথায় উদ্বৃত্ত উৎপাদন হচ্ছে—সেসব তথ্য বিশ্লেষণ করে উৎপাদন পরিকল্পনা করা যাবে। তখন কৃষকেরা চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন করতে পারবেন। এতে কৃষকের ক্ষতির ঝুঁকিও কমবে।

কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকের কাছে সরকারি প্রণোদনা, ভর্তুকি ও অন্যান্য সহায়তা সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ধান সংগ্রহের বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, সরকার ইউনিয়নভিত্তিক নির্দিষ্ট স্থানে ধান কেনার ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে। আগে থেকেই কৃষকদের জানিয়ে দেওয়া হবে কোথায়, কবে ও কী দামে সরকার ধান কিনবে।

খাদ্য আমদানির প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে ধানের উৎপাদন বাড়লেও জনসংখ্যার তুলনায় চাহিদা বেশি। এ ছাড়া হাওরাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে প্রতিবছর কিছু ফসলের ক্ষতি হয়। তাই খাদ্য আমদানির প্রয়োজন হয়।

এই ক্ষতি কমাতে আগাম পাকে এমন ধানের জাত উদ্ভাবন ও নতুন ধরনের হারভেস্টিং প্রযুক্তি নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানান মন্ত্রী।

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার ইতিমধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে সেই অর্থ পরিশোধ করেছে। পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে খাল পুনঃখননের মাধ্যমে সেচব্যবস্থা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মৎস্য খাত নিয়ে মন্ত্রী বলেন, জাটকা সংরক্ষণ মৌসুমে জেলেদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে, যাতে দাদননির্ভরতা কমে এবং ইলিশের উৎপাদন বাড়ে। সমুদ্রে লাইসেন্সবিহীন মাছ ধরার অভিযোগ নিয়েও সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত