Ajker Patrika

ঈদের ছুটিতে চাঁদপুরের তিন নদীর মোহনায় মানুষের ঢল

চাঁদপুর প্রতিনিধি
আপডেট : ৩০ মে ২০২৬, ১৫: ৪৮
ঈদের ছুটিতে চাঁদপুরের তিন নদীর মোহনায় মানুষের ঢল
ঈদের ছুটিতে চাঁদপুর শহরের তিন নদীর মোহনা বড় স্টেশন মোলহেডে দর্শনার্থীদের ভিড়। ছবি: আজকের পত্রিকা

চাঁদপুর জেলার প্রায় ২৮ লাখ মানুষের জন্য কোনো বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় ঈদসহ অন্যান্য উৎসবে ভ্রমণপ্রিয় লোকজন ভিড় জমায় শহরের তিন নদীর মোহনা বড় স্টেশন মোলহেডে। এবারের ঈদুল আজহায়ও তিন দিন ধরে সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে এই স্থানে ছুটে আসছে বিভিন্ন বয়সের মানুষ। যার ফলে তিন নদীর মোহনা এখন দর্শনার্থীদের পদচারণে মুখর।

চাঁদপুরের এই তিন নদীর মোহনায় এসে মিশেছে পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদী। আজ শনিবার সকাল থেকেই পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব ও প্রিয়জনদের সঙ্গে নিয়ে মানুষ উপভোগ করছেন মোহনার নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তিন নদীর এই মোহনা বিভিন্ন রূপ ধারণ করে। বিশেষ করে বিকেলে সূর্যাস্তের সময় স্থানটি নয়নাভিরাম হয়ে ওঠে।

এদিকে তিন নদীর মোহনা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌ থানা ও সদর মডেল থানা-পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। সাদাপোশাকেও রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

মোহনা এলাকা ঘুরে ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে চাঁদপুর ছাড়াও কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরসহ আশপাশের এলাকা থেকে লোকজন সময় কাটাতে এসেছেন। কেউ নদীর পাড়ে বসে গল্প-আড্ডায় মেতে উঠেছেন, কেউবা মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় স্মৃতিবন্দী করছেন আনন্দঘন মুহূর্ত। অনেকে আবার ট্রলার ও নৌকায় ঘুরে আসছেন মেঘনার বুকে জেগে ওঠা বালুচরে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে ‘মিনি কক্সবাজার’ নামে পরিচিত।

তবে মোহনার এই মনোরম পরিবেশে বিকেলের দিকে দর্শনার্থীদের ভিড় আরও বাড়তে থাকে। শিশুদের হাসি, তরুণ-তরুণীদের ছবি তোলার ব্যস্ততা এবং নদীর ঢেউয়ের মৃদু শব্দ মিলিয়ে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

চাঁদপুর সদরের চান্দ্রা এলাকার বাসিন্দা মোফাজ্জল হোসেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসেছেন সময় কাটাতে। তিনি বলেন, ‘এই স্থান ছাড়া আমাদের সময় কাটানোর আর ভালো বিনোদন কেন্দ্র নেই। যে কারণে বারবার এখানে সময় কাটাতে আসি।’

পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মানিকগঞ্জের বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে একটু ভিন্ন পরিবেশে সময় কাটাতে চাঁদপুরে এসেছি। তিন নদীর মোহনার সৌন্দর্য সত্যিই অসাধারণ। এখানে এসে মনটা অনেক ভালো হয়ে গেছে। ভবিষ্যতে ঈদের ছুটিতে আবারও পরিবার নিয়ে আসার চেষ্টা করব।’

লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর থেকে বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে এসেছেন পাঁচ বন্ধু। তাঁদের একজন মিনহাজ উদ্দিন বলেন, ‘সময় পেলে এই স্থানে ঘুরতে আসি। ঈদে সময় কাটানোর জন্য বন্ধুরা মিলে এসেছি। এই স্থানে এলে কিছু সময় হলেও আনন্দ উপভোগ করা যায়। বিশেষ করে তিন নদীর মিলনস্থলের ঢেউ সকলের নজর কাড়ে।’

কুমিল্লা থেকে বন্ধুদের নিয়ে আসা কলেজশিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান বলেন, অনেক দিন ধরেই বড় স্টেশন মোলহেডে আসার ইচ্ছা ছিল। ঈদের ছুটিতে সুযোগ পেয়ে চলে এসেছি। নদীর মাঝখানে ট্রলারে ঘোরাঘুরি আর বালুচরে সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা দারুণ।

চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, ঈদ উৎসবকেন্দ্রিক মানুষের সার্বিক নিরাপত্তায় তিনটি টহল টিম কাজ করছে। এ ছাড়া বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত তিন নদীর মোহনায় আলাদা একটি টিম রয়েছে। এ ছাড়া সড়কের প্রতিটি মোড়ে আলাদা ট্রাফিক টিম রয়েছে। মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারে এবং ঘুরতে পারে, সে জন্য পুলিশ সব সময় সজাগ রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত