Ajker Patrika

আস্ত খাসি পাতে নিয়েই নতুন পাত্রীকে বিয়ে করলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সেই প্রবাসী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আস্ত খাসি পাতে নিয়েই নতুন পাত্রীকে বিয়ে করলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সেই প্রবাসী
নতুন পাত্রীকে বিয়ে করলে জুনায়েদ মিয়া। ছবি: ফেসবুক থেকে

বরে পাতে আস্ত খাসি না রাখায় বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পরদিনই নতুন পাত্রীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সেই জাপানপ্রবাসী যুবক।

গতকাল মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার নেয়ামতপুর গ্রামে কনের মামার বাড়িতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিয়ের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

নববধূ জান্নাতুল ফেরদৌস আক্তার আখাউড়া উপজেলার নূরপুর গ্রামের জাহের মিয়ার মেয়ে। তিনি কসবার সায়েদাবাদ সরকারি কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্রী। অন্যদিকে বর জুনায়েদ মিয়া কসবা উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দা ও জাপানপ্রবাসী।

বরের ছোট ভাই পারভেজ রানা গণমাধ্যমকে জানান, আগের ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন কনেপক্ষই তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। উভয় পরিবারের আলোচনার পর মঙ্গলবার রাতে কনের মামা তাজুল ইসলাম সরকারের বাড়িতে বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

তিনি আরও জানান, দেনমোহর হিসেবে ৬ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ৩০ আগস্ট পর্যন্ত বরের ছুটি থাকলেও তিনি ছুটি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, নতুন কনেপক্ষ বরের জন্য আস্ত খাসির ব্যবস্থা রেখেছিল। বর ও বরযাত্রীরা আনন্দের সঙ্গেই সেই খাবার গ্রহণ করেন।

বরের পাতে আস্ত খাসি। ছবি: স্ক্রিনশট
বরের পাতে আস্ত খাসি। ছবি: স্ক্রিনশট

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে নববধূর সঙ্গে তোলা ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে বর জুনায়েদ মিয়া লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিবাহ সম্পন্ন হলো। মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। সবার কাছে নবদম্পতির জন্য দোয়া ও শান্তিময়, সুখী দাম্পত্য জীবনের কামনা করছি।’

এর আগে গত সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে আখাউড়া উপজেলার তোলাতলা গ্রামের সফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার মেয়ে রাশেদা আক্তারের সঙ্গে জুনায়েদ মিয়ার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। বরপক্ষ কনের বাড়িতে উপস্থিত হলে খাবারের আয়োজনে বরের জন্য আলাদাভাবে আস্ত খাসি না থাকায় বর তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন বলে জানা যায়। বরের এমন আচরণে অসন্তোষ প্রকাশ করে কনেপক্ষ বিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং উপহারসামগ্রীসহ বরপক্ষকে বিদায় করে দেয়।

পাতে আস্ত খাসি না দেওয়ায় বিয়ে না করেই চলে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে বর জুনায়েদ মিয়া সেটি অস্বীকার করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, খদরে খাসি (আস্ত খাসি) নয়, দেনমোহর নিয়ে কনেপক্ষ ঝামেলা করার কারণেই বিয়ে ভেঙে গেছে। সব আনুষ্ঠানিকতার পর কনেপক্ষ অতিরিক্ত দেনমোহর দাবি করেছিল।

তবে পরে খদরে খাসির বিষয়টি স্বীকার করেন বরের ছোট ভাই পারভেজ। একই সঙ্গে প্রকাশ পায় বিয়ের আগে উভয় পক্ষের সম্মতিতে করা একটি ফর্দনামা, যেখানে ২ লাখ টাকা নগদ কাবিনে বিয়ের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ রয়েছে।

বরের ভাই পারভেজ গতকাল বলেছিলেন, বর্তমানে বিয়ে-শাদিতে সামাজিকতার অংশ হিসেবে খদরে খাসি দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। বিষয়টি মেয়ে পক্ষকে আগেই জানানো হয়েছিল।

পারভেজের দাবি, বিয়ের দুই দিন আগেও জুনায়েদ তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে খদরে খাসি দেওয়ার বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যেহেতু উভয় পক্ষ বিয়ের ভিডিও করবে এবং সেসব ভিডিও পরে প্রবাসী বন্ধুদের দেখানো হবে, তাই খদর যেন খাসি দিয়ে করা হয়। পারভেজের দাবি, বর্তমানে দেশে বিয়ের খদরে খাসি দেওয়ার প্রচলন রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত