Ajker Patrika

বন্ধ এতিমখানায় সমাজসেবা কার্যালয়ের ৪ লাখ টাকার অনুদান

রঞ্জন কুমার দে, (শেরপুর) বগুড়া
আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৭: ৫১
বন্ধ এতিমখানায় সমাজসেবা কার্যালয়ের ৪ লাখ টাকার অনুদান
শিক্ষক, শিক্ষার্থীবিহীন মানব উন্নয়ন কেন্দ্র এতিমখানা লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের বর্তমান অবস্থা। ছবি: আজকের পত্রিকা

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার একটি নিবন্ধিত এতিমখানা মানব উন্নয়ন কেন্দ্র এতিমখানা লিল্লাহ বোর্ডিং। ৭ জন শিক্ষার্থী নিয়ে দুই বছর আগে প্রতিষ্ঠানটি চালু হয়। তবে এর তেমন কোনো কার্যক্রম এলাকাবাসী দেখেননি কখনো। অথচ গত দুই অর্থবছরে সরকারি বিশেষ আর্থিক অনুদান হিসেবে প্রতিষ্ঠানটিকে ৪ লাখ ৮ হাজার টাকা দিয়েছে সমাজসেবা কার্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে সেই টাকা উত্তোলনও করা হয়েছে।

এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে ২৭ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল মমিন।

অভিযোগে বলা হয়, উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের খুরতা গ্রামের মানব উন্নয়ন কেন্দ্র এতিমখানা লিল্লাহ বোর্ডিং দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রমহীন। প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষক নেই এবং ভবনটিও অধিকাংশ সময় তালাবদ্ধ থাকে।

অভিযোগ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি মো. জুলফিকার আলী ও সহসভাপতি আবু রায়হান দুজনই তেঁতুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। সরকারি চাকরিতে কর্মরত থেকেও তাঁরা ভুয়া নথি তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটির নামে সরকারি বরাদ্দের টাকা তুলছেন।

একই অভিযোগ এর আগে ১৩ জুলাই উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কাছেও দেওয়া হয়েছিল। প্রতিকার না পেয়ে পরে ইউএনওর কাছে নতুন করে লিখিত অভিযোগ করা হয়।

শিক্ষক, শিক্ষার্থীবিহীন মানব উন্নয়ন কেন্দ্র এতিমখানা লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের বর্তমান অবস্থা। ছবি: আজকের পত্রিকা
শিক্ষক, শিক্ষার্থীবিহীন মানব উন্নয়ন কেন্দ্র এতিমখানা লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের বর্তমান অবস্থা। ছবি: আজকের পত্রিকা

উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের তথ্যমতে, শেরপুর উপজেলায় সরকারি বিশেষ আর্থিক অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১০টি। এর মধ্যে মানব উন্নয়ন কেন্দ্র এতিমখানা লিল্লাহ বোর্ডিং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা অনুদান পেয়েছে। দুই অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির নামে মোট উত্তোলিত অর্থের পরিমাণ ৪ লাখ ৮ হাজার টাকা।

খুরতা গ্রামের বাসিন্দা ইউনুস আলী, রেজাউল করিম ও মাহবুবুর রহমান বলেন, প্রায় দুই বছর আগে এতিমখানাটি চালু হয়েছিল। তখন সেখানে সাতজন শিক্ষার্থী ছিল বলে তাঁরা শুনেছেন। তবে প্রতিষ্ঠানের কোনো কার্যক্রম তাঁরা কখনো দেখেননি। তাঁদের ভাষ্য, বছরে দুই দফায় অনুদান তোলার সময়ই কেবল প্রতিষ্ঠানটি খোলা হয়, বাকি সময় তা বন্ধ থাকে।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নাঈম হোসেন বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে চলতি মাসের শুরুতে পরিদর্শনে গিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পান। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারেন, সরকারি অনুদান আসার সময় সাময়িকভাবে কার্যক্রম দেখিয়ে পরে আবার প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তবে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মো. জুলফিকার আলী জুয়েল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়, প্রতিষ্ঠানটি নিয়ম মেনেই পরিচালিত হয়েছে এবং অনুদানের টাকা এখনো প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে জমা আছে।

প্রতিষ্ঠানের সহসভাপতি আবু রায়হান বলেন, এ বিষয়ে সভাপতিই ভালো বলতে পারবেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত