Ajker Patrika

বরগুনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার হিরু আর নেই

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি
আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৯: ৪০
বরগুনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার হিরু আর নেই
সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার হিরু। ছবি: সংগৃহীত

বরগুনা-২ (পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার হিরু আর নেই। সোমবার (২৭ জুলাই) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর সহধর্মিণী ও কালমেঘা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বেগম নুর আফরোজ হেপী।

তিনি পরিবার, আত্মীয়স্বজন, অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি ১৯৪৯ সালের ৩০ আগস্ট বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

গোলাম সরোয়ার হিরু বরগুনার রাজনীতির সুপরিচিত মুখ ছিলেন। ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে বরগুনা-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিতি লাভ করেন। এর আগে তিনি পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও জনসম্পৃক্ত রাজনৈতিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন ছিল বেশ বৈচিত্র্যময়। ইসলামী ঐক্যজোটের মাধ্যমে সংসদে নির্বাচিত হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে তিনি বিএনপি, আওয়ামী লীগ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। রাজনৈতিক দল পরিবর্তনের কারণে তিনি একাধিকবার আলোচনায় আসেন।

২০১৩ সালে বরগুনা-২ আসনের উপনির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। পরে ২০২৩ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী হওয়ায় বিষয়টি স্থানীয় ও জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন। সমর্থকদের কাছে তিনি আস্থাভাজন, স্পষ্টভাষী ও সাহসী রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন সময়ে সমালোচনারও মুখোমুখি হয়েছেন। সব মিলিয়ে বরগুনার রাজনীতিতে তাঁর উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।

তাঁর মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের মানুষ তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁরা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত