Ajker Patrika

মুলাদীতে ৩ দিন ধরে বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন ৬ ইউনিয়ন, ভোগান্তিতে দুই লক্ষাধিক মানুষ

মুলাদী (বরিশাল) প্রতিনিধি 
মুলাদীতে ৩ দিন ধরে বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন ৬ ইউনিয়ন, ভোগান্তিতে দুই লক্ষাধিক মানুষ
প্রতীকী ছবি

বরিশালের মুলাদীতে তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন রয়েছেন উপজেলার ছয় ইউনিয়নের প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষ। বিশেষ করে পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা। গত বুধবার সকাল ৯টা থেকে আজ শুক্রবার সকাল ১০টা পর্যন্ত উপজেলার সফিপুর, বাটামারা, নাজিরপুর, গাছুয়া, চরকালেখান ও মুলাদী সদর ইউনিয়নে বিদ্যুৎ নেই বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে অনেকে গতকাল বৃহস্পতিবার পশু কোরবানি করেননি। মাংস সংরক্ষণের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ আজ পশু কোরবানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিদ্যুৎ-সরবরাহ না থাকায় উপজেলায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, অটোভ্যান চলাচলও বন্ধ রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ পরিবহন সংকটের কারণে বাড়তি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

বরিশাল পল্লী বিদ্যুতের মুলাদী আঞ্চলিক কার্যালয় জানায়, বুধবার সকাল ৯টার দিকে কালবৈশাখীর আশঙ্কায় বিদ্যুৎ-সরবরাহ বন্ধ করা হয়। ওই দিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কালবৈশাখীতে গাছ ও ডালপালা ভেঙে বিদ্যুতের তারের ওপর পড়ায় এবং খুঁটি ও ইনস্যুলেটর ভেঙে পড়ায় বিদ্যুৎ-সঞ্চালন লাইনে বিপর্যয় হয়েছে।

মুলাদী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. জসিম উদ্দীন বলেন, ‘গত বুধবার সকাল ৯টার দিকে বিদ্যুৎ চলে যায়। এর পর ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় পার হলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়নি। বারবার বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে ফোন দিয়েও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কবে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে তারও নিশ্চয়তা নেই।’

মুলাদী উপজেলার চরকালেখান গ্রামের মো. মতিউর রহমান ব্যাপারী বলেন, কোরবানির মাংস সংরক্ষণের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ৫০ শতাংশের বেশি মানুষ বৃহস্পতিবার পশু কোরবানি করেনি। বিদ্যুৎ নিয়ে শঙ্কার মধ্যে শুক্রবার সকালে তারা কোরবানি করেছে।

হিজলা উপজেলার নরসিংহপুর গ্রামের মো. আল মামুন হাওলাদার বলেন, বুধবারের ঝড়ে বিদ্যুৎ লাইনের অনেক ক্ষতি হয়েছে। অনেক এলাকার সাধারণ মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে ভাঙা গাছপালা অপসারণ করেছে। এরপরও শুক্রবার সকাল ১০টা পর্যন্ত উপজেলার কোথাও বিদ্যুৎ পাওয়া যায়নি। ফ্রিজ চালু করতে না পারায় বেশির ভাগ মানুষ পশু কোরবানির জন্য শুক্রবার পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিল।

হিজলার বড়জালিয়া গ্রামের মাছুম বিল্লাহ বলেন, ঝড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ওপর গাছপালা ভেঙে পড়তে পারে। সেগুলো অপসারণের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ কোনো অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়োগ না করে ধীরগতিতে কাজ করছে। এতে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ পেতে সময় লাগছে।

মুলাদী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) তারেকুল ইসলাম জানান, বুধবার কালবৈশাখীতে অনেক এলাকায় গাছপালা ভেঙে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ক্ষতি হয়েছে। পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় গাছপালা অপসারণ ও বিদ্যুৎ লাইন সংস্কারে বিলম্ব হচ্ছে। ৩৩ কেভি লাইন সংস্কার করে মুলাদী উপজেলা সদরসহ পৌরসভার চারটি ওয়ার্ড এবং কাজিরচর ইউনিয়নে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ চালু করা হয়েছে। অন্যান্য এলাকায় বিদ্যুৎ-সরবরাহের চেষ্টা চলছে।

মুলাদী পল্লী বিদ্যুতের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে মুলাদী উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা দিন-রাত কাজ করছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত