Ajker Patrika

গাইবান্ধার ৫ আসন: একসময়ের দুর্গে এখন অস্তিত্ব সংকটে জাপা

  • জেলার সব কটি আসনই একসময় জাপার দখলে ছিল।
  • আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিত্রতায় দুর্বল হয়েছে দল।
  • জুলাই অভ্যুত্থানের পর এই সংকট আরও প্রকট হয়।
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধার ৫ আসন: একসময়ের দুর্গে এখন অস্তিত্ব সংকটে জাপা

জাতীয় পার্টির (জাপা) একসময়ের শক্ত ঘাঁটি ছিল গাইবান্ধা। জেলার পাঁচটি আসনের সব কটিই দলটির দখলে ছিল। তবে সেটি এখন ইতিহাস। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, বর্তমানে এখানে দৃশ্যত অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে দলটি।

বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট গঠনের পর ধীরে ধীরে প্রভাব হারাতে থাকে দলটি। জুলাই অভ্যুত্থানের পর এই সংকট আরও প্রকট হয়েছে। সামনে এসেছে দলীয় বিভক্তি এবং ভোটব্যাংক টুকরা টুকরা হয়ে যাওয়ার বাস্তবতা। তরুণ ভোটারদের দলে টানতে না পারাও দলটির পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ।

এবার গাইবান্ধা-১ ও গাইবান্ধা-৫ থেকে জাপার প্রার্থী দলের মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী। গাইবান্ধা-২ আসনে আবদুর রশিদ সরকার, গাইবান্ধা-৩ আসনে ময়নূর রাব্বি চৌধুরী রুমান এবং গাইবান্ধা-৪ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন কাজী মশিউর রহমান। তবে ভোটাররা বলছেন, হারানো ভোটব্যাংক পুনরুদ্ধারের সক্ষমতা জাপার আর নেই।

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে ১৯৭৩ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ১২টি নির্বাচনে ছয়বার বিজয়ী হয়েছেন জাপার প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগ দুবার, বিএনপি একবার, জামায়াত একবার, স্বতন্ত্র একবার ও মুসলিম লীগ (আইডিএল) একবার জয়ী হয়।

এবার এখানে বিএনপির প্রার্থী দলের জেলা কমিটির সহসভাপতি জিয়াউল ইসলাম। জামায়াতের প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাজেদুর রহমান। জাপা থেকে প্রার্থী হয়েছেন দলের মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। তবে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন না হওয়ায় তিনি কতটা ভোট টানতে পারবেন, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনে ১২টি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ছয়বার, জাপা দুবার, বিএনপি একবার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তিনবার বিজয়ী হন। এবার এখানে বিএনপির প্রার্থী দলের গ্রাম সরকারবিষয়ক সম্পাদক আনিসুজ্জামান খান বাবু। জামায়াতের প্রার্থী দলের জেলা আমির আব্দুল করিম। জাপার প্রার্থী আব্দুর রশিদ সরকার। ২০১৮ সালে মহাজোটের মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ায় জাপা না ছেড়েই বিএনপির মনোনয়ন নিয়েছিলেন তিনি। তবে ভোটে হেরে আবারও নিজ দলে ফিরে যান।

গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্যাপুর) আসনে ১২টি সংসদ নির্বাচনে জাপা ছয়বার, আওয়ামী লীগ চারবার ও বিএনপি দুবার বিজয়ী হয়। এবার এখানে বিএনপির প্রার্থী দলের জেলা সভাপতি মইনুল হাসান সাদিক। জামায়াতের মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম। জাপার প্রার্থী মইনুর রাব্বি চৌধুরী রুমান। ইতিপূর্বে এ আসন থেকে জাতীয় পার্টির এ টি এম ফজলে রাব্বী চৌধুরী পাঁচবার নির্বাচিত হয়েছিলেন।

গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে ১২টি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী চারবার, জাপা তিনবার, বিএনপি তিনবার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী দুবার বিজয়ী হন। এবার এখানে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন শামীম কাওছার লিংকন। জামায়াতের প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় মজলিসের শুরা সদস্য ডা. মো. আবদুর রহিম। লাঙ্গল প্রতীকে ভোট করছেন কাজী মশিউর রহমান। এ আসনে চারবার লুৎফর রহমান চৌধুরী জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০০১ সালে তিনি বিএনপির প্রার্থীর কাছে হেরে যান। তার পর থেকে ক্রমেই বিলীন হতে থাকে জাপার ভোটব্যাংক।

গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনে আওয়ামী লীগ পাঁচবার, জাপা পাঁচবার, বিএনপি একবার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী একবার বিজয়ী হন। এবার এখানে বিএনপি প্রার্থী ব্যবসায়ী ফারুক আলম সরকার। জামায়াতের মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা কমিটির নায়েবে আমির মো. আবদুল ওয়ারেছ। জাপা থেকে ভোট করছেন দলের মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। তবে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট গোলাম শহীদ রঞ্জুও স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করছেন। ফলে জাতীয় পার্টির যা ভোট আছে, সেটিও ভাগাভাগি হয়ে যাবে।

এখানে মূলত ২০০৫ সাল পর্যন্ত জাতীয় পার্টি খুব জনপ্রিয় ছিল। নদীভাঙন রোধসহ অবকাঠামো উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা না রাখায় দলটির সমর্থন কমতে থাকে। পরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করায় বিদ্যমান নেতা-কর্মীরাও বিভক্ত হয়ে যান।

সাঘাটার তরুণ ভোটার আখলাছ হিমুন বলেন, জাতীয় পার্টি জনগণের জন্য কোনো কাজ করেনি। দলটির নেতারা ক্ষমতা উপভোগ করেছেন। আজ দলটি বিলুপ্তির পথে। দল গঠনের পর থেকে এখানে এমন চরম সংকটে তারা আর কখনো পড়েনি। সুন্দরগঞ্জের হরিপুর ইউনিয়নের ভোটার কামাল পাশা বলেন, জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করায় তরুণ ভোটারদের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। জাপার পক্ষ থেকেও তাঁদের দলে ভেড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে গাইবান্ধায় একসময়ের শক্তিশালী দলটি এখন হারিয়ে যেতে বসেছে।

দুর্বলতা কাটিয়ে অবশ্য আসন পুনরুদ্ধারের কথা বলছেন জাতীয় পার্টির নেতারা। দলটির গাইবান্ধা জেলা সভাপতি সারওয়ার হোসেন শাহিন বলেন, ‘আসনগুলো পুনরুদ্ধারে আমরা কাজ করছি। প্রার্থীদের বিজয়ী করতে জোরালোভাবে গণসংযোগ করা হচ্ছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

মাথায় গুলিবিদ্ধ জুলাই যোদ্ধা আশরাফুল মারা গেছেন

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে ভারত-আওয়ামী লীগ বিদ্বেষ তীব্র হয়: সাবেক সেনাপ্রধানের জবানবন্দি

ঢাকা–১৮ আসনে নির্বাচন না করার ঘোষণা মাহমুদুর রহমান মান্নার

আইসিসি-পিসিবির সঙ্গে জরুরি মিটিংয়ে হঠাৎ লাহোরে বিসিবি সভাপতি

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: শেষ সময়ে এমপিওর তোড়জোড়

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত