
‘পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে ভারত ও আওয়ামী লীগ বিদ্বেষ তীব্র হয়। সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে বিভাজন ব্যাপক রূপ ধারণ করে।’
আজ রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দিতে এমন কথা বলেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া।
গুম-খুনের ঘটনায় ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের (বরখাস্ত) বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রথম জবানবন্দি দেন জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।
সাবেক সেনাপ্রধান বলেন, ‘পেশাদার কর্মকর্তাদের সরিয়ে অনুগত কর্মকর্তাদের ওপরে নিয়ে আসা হয় এবং বিভিন্ন জাতীয় প্রকল্পে সেনাবাহিনীকে নিয়োজিত করে বাহিনীকে দুর্নীতিগ্রস্ত করা হয়। এর বড় কারণ হলো, শেখ হাসিনা ভাবতেন একটি দুর্নীতিগ্রস্ত সেনাবাহিনী তাঁর জন্য নিরাপদ।’
ইকবাল করিম বলেন, ‘সেনাবাহিনীকে বিভিন্ন সময়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে সেনানিবাসের বাইরে মোতায়েন করা হয়েছে। সে সময় কথিত অপরাধীদের ধরে সেনাক্যাম্পে এনে জিজ্ঞাসাবাদের সময় নির্যাতন করা হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে কিছু ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তবে তার সংখ্যা ছিল সীমিত। পরবর্তীতে তদন্ত আদালতের মাধ্যমে এবং আইন প্রয়োগ করে সেগুলোকে নিয়মিত করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর অপারেশন চলাকালে বেশ কিছু মৃত্যু হয়েছে। যেগুলো কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে সেগুলোকে ধর্তব্যে নিয়ে দোষী ব্যক্তিদেরকে যথাযথ শান্তি দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীকে কখনো বেসামরিক পুলিশের সঙ্গে মেশানো ঠিক হয়নি। অথচ সেটাই ঘটেছে ২০০৩ সালে যখন র্যাব গঠন করা হয়। এটি ছিল একটি মারাত্বক ও ভয়াবহ সিদ্ধান্ত। সেনা সদস্যদের যে প্রশিক্ষণ তা র্যাবে নিয়োগের জন্য উপযুক্ত ছিল না। ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়ে কিছু বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হয়েছে। র্যাব গঠনের পূর্বে অপারেশন ক্লিন হার্টে অনেক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। সেনাসূত্র অনুযায়ী ১২ জন হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, এই সংখ্যাটি ছিল ৬০ জন। পরবর্তীতে ক্লিন হার্টের সব সদস্যকে ইনডেমনিটি দেওয়া হয়। বস্তুত এই ইনডেমনিটি ছিল হত্যার লাইসেন্স প্রদান।’
সাবেক সেনা প্রধান বলেন, ‘২০০৭ সালে নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রধান বিচারপতির বয়স বাড়ানোর জন্য যে সংঘাত শুরু হয় তার পরিপ্রেক্ষিতে ইমার্জেন্সি ঘোষণা করা হয়। ২০০৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সময়ে ডিজিএফআই হয়ে ওঠে দেশের মুখ্য নিয়ন্ত্রক। তারা বিভিন্ন ব্যক্তিদের উঠিয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করত। এর মধ্যে অনেক মন্ত্রী এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ছিলেন। তারা বিএনপির তারেক রহমানকেও উঠিয়ে এনে নির্যাতন করে। ওই সময় থেকে বেসামরিক ব্যক্তিদের উঠিয়ে এনে আটক রাখা একটি অভ্যাসে পরিণত হয়। জরুরি অবস্থায় সেনা সদস্যদের সংস্কৃতিতে কিছু পরিবর্তন আসে। তারা রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন করে, তাদের মধ্যে আধিপত্যবোধের জন্ম হয়, সিনিয়র ও জুনিয়রের মধ্যে একটি বিভাজন সৃষ্টি হয়, নগদ সংস্কৃতির উত্থান হয় এবং উপরের আদেশ অন্ধভাবে পালন করার প্রবণতা জন্ম হয়।’
ইকবাল করিম জবানবন্দিতে আরও বলেন, ‘২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে বিডিআর হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এতে ৫৭ জন সামরিক কর্মকর্তা এবং ১৭ জন বেসামরিক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে বিদ্রোহ দমন করার পর বিডিআর সদস্যদের অন্তরীণ করে জিজ্ঞাসাবাদের সময় র্যাব ও সামরিক সদস্যদের নির্যাতনে আনুমানিক ৫০ জন মৃত্যুবরণ করে বলে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়। পরবর্তীতে শেখ হাসিনা সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অনেক রাজনৈতিক নেতার বিচার করে মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করেন এবং সংবিধান লঙ্ঘনের শান্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান সংবিধানে সংযোজন করেন। এ সময় তিনি তাঁর আত্মীয় মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দীকিকে তাঁর নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেন এবং তাঁর মাধ্যমে সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ করতে সচেষ্ট হন।’

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষার পুরো ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি অটোমেশনের (স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা) আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। সরকারি এ গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ কার্যক্রমের সব ধাপ একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। পিএসসির সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
১৬ মিনিট আগে
প্রধানমন্ত্রী নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমাদের চেষ্টা করতে হবে, সবকিছু যেন স্বাভাবিক থাকে। আমি অফিসে আরও আসব, তবে রাস্তা বন্ধ করা যাবে না। মানুষের চলাফেরা বাধাগ্রস্ত করা যাবে না।’ তিনি নেতা-কর্মীদের দ্রুত সড়ক ফাঁকা করে দেওয়ার আহ্বান জানান।
৪ ঘণ্টা আগে
ওমরাহ ও ভিজিট ফোরামের সভায় যোগ দিতে সৌদি আরব গেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রী তৌফিক বিন ফাউজান আল রাবিয়াহর আমন্ত্রণে তৃতীয় ওমরাহ ও ভিজিট ফোরামের সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে ধর্মমন্ত্রীর।
৫ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে একের পর এক দেশের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় সৌদি আরবে ওমরাহ করতে গিয়ে আটকে পড়েছেন প্রায় সাড়ে চার হাজার বাংলাদেশি যাত্রী। সরাসরি ফ্লাইটে যাওয়া কিছু যাত্রী নির্ধারিত সময়ে দেশে ফিরতে পারলেও কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত হয়ে ট্রানজিটে যাওয়া যাত্রীরা পড়েছেন চরম বিপাকে।
৬ ঘণ্টা আগে