Ajker Patrika

চট্টগ্রামে মৎস্যজীবীদের পুনর্বাসন তহবিল আত্মসাৎ: ছয় সমবায় নেতাকে কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ২১: ১৩
চট্টগ্রামে মৎস্যজীবীদের পুনর্বাসন তহবিল আত্মসাৎ: ছয় সমবায় নেতাকে কারাদণ্ড
প্রতীকী ছবি

সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যজীবীদের পুনর্বাসনের জন্য বরাদ্দ অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা ছয়টি মামলায় ছয়টি সমবায় সমিতির দলনেতাকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় প্রতিটি মামলায় অপর এক আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।

আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান পৃথক ছয়টি মামলার রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ছয়জনই চট্টগ্রামের সন্দীপ উপজেলার বাসিন্দা। তাঁরা হলেন—মধ্য রহমতপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির দলনেতা মো. আবু সুফিয়ান, দক্ষিণ-পূর্ব মাইটভাঙা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির দলনেতা সেকান্দার হোসেন, পূর্ব মাইটভাঙা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির দলনেতা আবুল বশর, রহমতপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির দলনেতা রাকিবুল মাওলা, পূর্ব মাইটভাঙা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির দলনেতা সাহাব উল্লাহ এবং মধ্য রহমতপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির দলনেতা জহিরুল ইসলাম।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০০ সালে সরকার বাংলাদেশ জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের জরুরি পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যজীবীদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়। এ প্রকল্পে বিভিন্ন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিকে দলভিত্তিক নগদ অর্থের পাশাপাশি ফিশিং বোট, মাছ ধরার জাল ও অন্যান্য সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য ঋণ-সুবিধা দেওয়া হয়। এতে ছয়টি সমবায় সমিতিকে ১৭ লাখ ৫৪ হাজার ২২৫ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়।

দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসে, সংশ্লিষ্ট সমবায় সমিতিগুলো ভুয়া মর্টগেজ ও জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে ঋণ-সুবিধা নেয়। তদন্তে ফিশিং বোটের কোনো অস্তিত্বও পাওয়া যায়নি। এভাবে মোট ১ কোটি ৫ লাখ ২৫ হাজার ৩৫০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দুদকের এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় ২০০৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দুদক চট্টগ্রামের তৎকালীন পরিদর্শক মবিনুল ইসলাম সন্দীপ উপজেলার ছয়টি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির দলনেতাকে প্রধান আসামি করে পৃথক ছয়টি মামলা করেন। প্রতিটি মামলায় সন্দীপ উপজেলার সাবেক ভারপ্রাপ্ত সমবায় পরিদর্শক কেফায়েত উল্যাহকে দুই নম্বর আসামি করা হয়।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. রেজাউল করিম রনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, প্রতিটি মামলায় সমবায় সমিতির দলনেতাকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় দ্বিতীয় আসামিকে সব মামলায় খালাস দেওয়া হয়েছে।

রায়ের সময় মামলার দ্বিতীয় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্ত সমবায় নেতারা জামিনে থেকে পলাতক ছিলেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের এই কৌঁসুলি।

এর আগে ২০১৪ সালের মার্চে আদালত এসব মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন। গত বছর ও চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে মামলাগুলোর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ রায় ঘোষণা করা হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পুতুলকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য: বিএনপির প্রবীণ নেতা বহিষ্কার

পথসভায় কেঁদেকেটে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ভোট চাইলেন যুবদল নেতা, পেলেন শোকজ

পাকিস্তান বিশ্বকাপ বর্জন করলে বাংলাদেশকে ডাকতে পারে আইসিসি

ইরানের কাছে পৌঁছেছে ভেনেজুয়েলার চেয়েও বড় ‘আর্মাডা’, সমঝোতা চায় ইরান: ট্রাম্প

পিঠা উৎসবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দিকে একের পর এক ডিম নিক্ষেপ, ‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগান কর্মীদের

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত