Ajker Patrika

কৃষিজমিতে মাছ চাষ, কমছে ধানের আবাদ

  • কত পরিমাণ জমি জলাশয় হয়েছে তা নিয়ে জেলা কৃষি অধিদপ্তরে তথ্য নেই
  • একসময় ধান আবাদ হওয়া বিস্তীর্ণ জমিতে এখন বছরজুড়ে মাছ চাষ হচ্ছে
মুহাম্মদ মাসুদ আলম, চাঁদপুর
কৃষিজমিতে মাছ চাষ, কমছে ধানের আবাদ
কৃষিজমিতে জলাশয় খনন করে মাছ চাষ। সম্প্রতি চাঁদপুরের কচুয়া পৌরসভার কোয়া এলাকায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

চাঁদপুরের একাধিক উপজেলায় যত্রতত্র কৃষিজমি খনন করে মাছের ঘের বানানো হচ্ছে। এতে কৃষিজমির শ্রেণি পরিবর্তন হয়ে যাওয়ায় ধানসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদন কমছে। এতে দেশের খাদ্যনিরাপত্তায় একটি বড় সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা বাড়ছে।

কৃষকেরা বলছেন, ফসল উৎপাদনে ব্যয় বৃদ্ধি, কম লাভ, শ্রমিক সংকটের কারণে তাঁরা জমিতে পুকুর খনন করে মাছ চাষের দিকে ঝুঁকছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার কচুয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কৃষিজমি খনন করে মাছের ঘের তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে কড়ইয়া ইউনিয়নের সাদিপুরা, নেয়াগাঁও ও লুনতি; গোহট ইউনিয়নের পালগিরি, হারিসাইল, মিয়ার বাজার, তালতলি, নাউলা ও আইনগিরি; গোহট দক্ষিণ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর, কেশরকোর্ট ও নাউপুরা এবং আশরাফপুর ইউনিয়নের রসুলপুর, মুর্তজাপুর ও জগৎপুর গ্রামে কৃষিজমি বেশি খনন হচ্ছে। এ ছাড়া পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানেও একইভাবে কৃষিজমি খননের প্রবণতা দেখা গেছে।

জেলা সদর, শাহরাস্তি, হাজীগঞ্জ, মতলব দক্ষিণ ও ফরিদগঞ্জ উপজেলাতেও কৃষিজমি খনন করে মাছ চাষ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ব্যাপকতা তুলনামূলক বেশি। সেখানে একসময় ধান আবাদ হওয়া বিস্তীর্ণ কৃষিজমি এখন বছরজুড়ে মাছ চাষের আওতায় চলে গেছে। বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়নের চান্দ্রা বাজারসংলগ্ন কৃষিজমিতে এখন আর ধানের আবাদ হয় না।

কচুয়া উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, একসময় উপজেলায় কৃষিজমির পরিমাণ ছিল ১৬ হাজার ৭৩৯ হেক্টর। বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৫৯৫ হেক্টরে। মাছের ঘের, নতুন সড়ক নির্মাণ ও আবাসনসহ বিভিন্ন কারণে আবাদি জমি কমেছে।

কড়ইয়া ইউনিয়নের লুনতি গ্রামের বাসিন্দা রাকিবুল ইসলাম বলেন, এখানে আগে সব জমিতেই ধানসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ হতো। এখন কয়েকটি জমি খনন করে মাছ চাষ করা হয়েছে। একজনকে দেখে অন্যরাও মাছ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

গোহট দক্ষিণ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক কবির হোসেন বলেন, ‘ধান আবাদ করে লোকসান হয়। তাই জমি মাছ চাষের জন্য ইজারা দিয়েছি। এতে প্রতিবছর প্রতি শতাংশে এক হাজার টাকা পাওয়া যায়।’ একই ইউনিয়নের কেশরকোর্ট গ্রামের মাছচাষি বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘নিজের জমির পাশাপাশি ইজারা নেওয়া জমিতেও মাছ চাষ করছি। কৃষি আবাদে লাভ না হওয়ায় মাছ চাষে বিনিয়োগ করেছি।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে জেলায় মোট আবাদি জমি রয়েছে প্রায় ৯৪ হাজার হেক্টর। তবে মাছ চাষের জন্য ঠিক কী পরিমাণ কৃষিজমির শ্রেণি পরিবর্তন হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য সংরক্ষিত নেই।

চাঁদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, ‘ধানিসহ আবাদি জমির শ্রেণি পরিবর্তন হয়ে মাছ চাষের আওতায় চলে যাচ্ছে। আমরা কৃষকদের বোঝানোর চেষ্টা করছি, এভাবে কৃষিজমি হারিয়ে গেলে খাদ্য উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত