Ajker Patrika

সমাজসেবা কার্যালয়: সরকারি অনুদানের টাকা হাতিয়ে নেন পিয়ন

পাবনা প্রতিনিধি
সমাজসেবা কার্যালয়: সরকারি অনুদানের টাকা হাতিয়ে নেন পিয়ন
মোবারক হোসেন।

ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগের ভুয়া চিকিৎসাপত্র দিয়ে সরকারের কল্যাণ তহবিলের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পাবনা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের অফিস সহায়কের (পিয়ন) বিরুদ্ধে। সম্প্রতি এক ভুক্তভোগীর অভিযোগের পর এমন ঘটনার কথা জানা যায়।

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মোবারক হোসেন। তিনি জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের অফিস সহায়ক এবং বেড়া উপজেলার রানীগ্রামের বাসিন্দা। ২০১৮ সালে এই পদে যোগদান করেন তিনি।

অভিযোগের ভিত্তিতে বেড়া উপজেলার তৎকালীন সমাজসেবা কর্মকর্তা মোতালেব সরকার তদন্ত করে রাজশাহী বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ে একটি প্রতিবেদন দেন। প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতার উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে ২০২২ সালে শাকিল খান নামের এক ব্যক্তির স্ত্রী লিপি খাতুনের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ছবি কৌশলে সংগ্রহ করেন মোবারক হোসেন। সম্প্রতি শাকিল স্ত্রীর নামে একটি নতুন ব্যাংক হিসাব খুলতে গিয়ে জানতে পারেন, রূপালী ব্যাংকের নগরবাড়ী ঘাট শাখায় তাঁর স্ত্রীর নামে আগেই একটি অ্যাকাউন্ট খোলা রয়েছে।

ব্যাংক স্টেটমেন্ট থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ওই অ্যাকাউন্টে সরকারি অনুদানের ৫০ হাজার টাকা জমা হয় এবং তার দুদিন পর রূপালী ব্যাংক পাবনা করপোরেট শাখা থেকে সেই টাকা তুলে নেওয়া হয়।

এই ঘটনার পর শাকিল খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তাঁর স্ত্রী লিপি খাতুনকে কাগজপত্রে ক্যানসার আক্রান্ত জটিল রোগী সাজিয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিশেষ তহবিল থেকে এই অনুদান অনুমোদন করানো হয়।

শাকিল খান বলেন, ‘আমি লেখাপড়া জানি না। পরিচিত ও প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে মোবারক আমাকে না জানিয়ে স্ত্রীর কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি সংগ্রহ করেছিলেন। পরে স্ত্রীকে খাতা-কলমে ক্যানসার রোগী বানিয়ে টাকা তুলেছেন। আমার স্ত্রী লিপি খাতুন সম্পূর্ণ সুস্থ এবং তিনি কখনো ক্যানসার বা অন্য কোনো মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হননি।’

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মোবারকের জালিয়াতি এটিই প্রথম নয়। ক্যানসার, কিডনি বা লিভার সিরোসিসের মতো জটিল রোগীদের জন্য বরাদ্দ অনুদানের সরকারি চেক পাইয়ে দিতে তিনি গ্রামের অসহায় দরিদ্র মানুষদের কাছ থেকে ২০-২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিতেন। আর সুস্থ মানুষদের ভুয়া মেডিকেল সার্টিফিকেট তৈরি করে, তাদের অজান্তে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে অনুদানের টাকা তুলে নেন তিনি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোবারক হোসেন। তাঁর দাবি, তিনি এমন অবৈধ কাজের সঙ্গে জড়িত নন। একটি কুচক্রী মহল তাঁর ক্ষতি করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে।

জানতে চাইলে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক আব্দুল কাদের বলেন, ‘অনুদানের অর্থ প্রদানে জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন ও সমাজসেবা অফিসের ঊর্ধ্বতনদের নিয়ে যাচাই কমিটি রয়েছে। ভুয়া কাগজে অনুদানের সুযোগ নেই। টাকা যায় সরাসরি ভাতাভোগীর অ্যাকাউন্টে। আর একজন পিয়ন কীভাবে অনুদান মঞ্জুর করবে।’

বেড়া উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি নতুন যোগদান করেছি। স্যার আমার কাছে কাগজপত্র পাঠিয়েছেন। আগামী রোববার আসেন, কাগজপত্র দেখে কথা বলতে পারব।’ পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। অনুদানের বিষয়ে যেহেতু অনিয়মের অভিযোগ এসেছে, তা অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করতে হবে। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত