Ajker Patrika

আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসে প্রবীণবান্ধব রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসে প্রবীণবান্ধব রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান
আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসে এবারের প্রতিপাদ্য ‘দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা’। ছবি: আজকের পত্রিকা

প্রবীণরা সমাজের বোঝা নন, বরং তাঁরা দেশের অভিজ্ঞ ও মূল্যবান মানবসম্পদ। তাঁদের মর্যাদা, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রবীণবান্ধব রাষ্ট্র গঠন করতে হবে। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ সিনিয়র সিটিজেন ফোরাম (বাসিসিফো) আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেন। এর আগে প্রেস ক্লাবের সামনে সংক্ষিপ্ত শোভাযাত্রা হয়। এবারের আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের প্রতিপাদ্য ‘দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা’।

দুপুরে প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত সভায় বক্তারা বলেন, গড় আয়ু বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রবীণ মানুষের সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। ফলে তাঁদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, আবাসন, পরিবহন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা নিশ্চিত করতে এখনই সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া প্রয়োজন।

সভাপতির বক্তব্যে বাসিসিফোর সভাপতি ফেরদৌস আরা বেগম বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার প্রায় সাড়ে ৯ শতাংশ প্রবীণ। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী দেশে প্রবীণ নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৫৩ লাখ। তবে কিছু পরিসংখ্যানে এ সংখ্যা ১ কোটি ৮০ লাখ পর্যন্ত বলা হচ্ছে। আর ২০৫০ সালের মধ্যে প্রতি পাঁচজনে একজন প্রবীণ নাগরিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রবীণ নারীদের বড় একটি অংশ বিধবা ও আর্থিকভাবে পরিবারের ওপর নির্ভরশীল। তাঁদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা কেন্দ্রেরও ঘাটতি রয়েছে।

বাসিসিফোর সভাপতি বলেন, প্রবীণদের জন্য সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা, সরকারি হাসপাতাল, ব্যাংক ও সরকারি দপ্তরে অগ্রাধিকার সেবা, আর্থিক ও খাদ্য নিরাপত্তা এবং সুলভ যাতায়াত নিশ্চিত করা জরুরি।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. খবির উদ্দিন বলেন, বিচারক যদি ৬৭ বছর পর্যন্ত বিচার করতে পারেন, তবে কেন অন্যরা কাজ করতে পারবেন না? প্রবীণরা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের বোঝা নন। দেশের আজকের অবস্থান তৈরিতে তাঁদের মেধা, শ্রম, ত্যাগ ও অভিজ্ঞতার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

সভায় সর্বজনীন সিনিয়র সিটিজেন কার্ড চালু, প্রবীণ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, বয়স্ক ভাতা বৃদ্ধি, বিশেষ রেশন ব্যবস্থা, প্রতি উপজেলায় নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক প্রবীণ নিবাস, প্রবীণ ফাউন্ডেশন ও দীর্ঘমেয়াদি যত্নকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি জাতীয় প্রবীণ নীতি-২০১৩ ও ভরণপোষণ আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং প্রবীণদের প্রতি নির্যাতন ও অবহেলাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়।

সমাপনী বক্তব্যে সংগঠনের সহসভাপতি এএফএম আব্দুল আজিজ বলেন, প্রবীণরা দেশের সম্পদ হলেও তাঁরা নানা ক্ষেত্রে অবহেলার শিকার হন। তাঁদের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত